আপনি যা মাপতে পারেন না, তা বদলাতেও পারবেন না

আপনি যা মাপতে পারেন না, তা বদলাতেও পারবেন না

গত সপ্তাহে আপনি কত ঘণ্টা গভীর ঘুমিয়েছেন?

গত সাত দিনে এমন কত মিনিট কাজ করেছেন, যার ফল ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে?

আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে কত টাকা কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই খরচ হয়ে গেছে?

আর শেষ কবে এমন ২০ মিনিট কাটিয়েছেন, যেখানে আপনি প্রিয় একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন—মোবাইলের স্ক্রিন ছাড়া, পুরো মনোযোগ দিয়ে?

প্রশ্নগুলো আবার পড়ুন।

ধীরে ধীরে।

এখন যদি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই।

অধিকাংশ মানুষই পারে না।

এবং এখানেই লুকিয়ে আছে জীবনের একটি বড় সমস্যা।

আমরা নতুন বই খুঁজি।
নতুন কোর্স খুঁজি।
নতুন পরিকল্পনা করি।
নিজেকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ করার চেষ্টা করি।

কিন্তু একটি মৌলিক বিষয় ভুলে যাই—

কুয়াশার মধ্যে দাঁড়িয়ে পথ ঠিক করা যায় না।


একবার খেয়াল করুন।

আপনি হয়তো খুব সহজেই বলতে পারবেন—

  • গত ত্রৈমাসিকে ব্যবসার আয় কত ছিল
  • গত সপ্তাহে কত ঘণ্টা কাজ করেছেন
  • ইনবক্সে কতটি ই-মেইল জমে আছে
  • এই মাসের লক্ষ্য কত শতাংশ পূরণ হয়েছে

কর্মজীবনের প্রায় সবকিছুই আমরা মাপি।

কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো?

  • শরীর
  • সম্পর্ক
  • অর্থনৈতিক অভ্যাস
  • অর্থবহ কাজ

এসব বিষয়ে আমাদের ধারণা সাধারণত অনুমাননির্ভর।

“মনে হয় ঠিক আছে।”

“মনে হয় খুব খারাপ যাচ্ছে।”

“মনে হয় সময় দিতে পারছি না।”

অর্থাৎ, যেসব ক্ষেত্র আমাদের জীবনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে, সেগুলো সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট কোনো তথ্যই নেই।


এটা আপনার ব্যর্থতা নয়।

সমস্যা হলো, কাজের জন্য পৃথিবী আপনাকে একটি ড্যাশবোর্ড দেয়।

সংখ্যা দেয়।
রিপোর্ট দেয়।
পরিমাপের ব্যবস্থা দেয়।

কিন্তু জীবনের জন্য এমন কোনো ড্যাশবোর্ড তৈরি করে দেয় না।

তাই বেশিরভাগ মানুষ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুভূতি দিয়ে বিচার করে।

আর অনুভূতি সবসময় নির্ভরযোগ্য হয় না।


ধরুন, আপনি শুধু এক সপ্তাহের জন্য চারটি বিষয় লিখে রাখলেন:

  • প্রতিদিন কতক্ষণ ঘুমালেন
  • সময় কোথায় ব্যয় করলেন
  • কোন খাতে টাকা খরচ হলো
  • কার সঙ্গে অর্থপূর্ণ সময় কাটালেন

মাত্র সাত দিন।

তখন হঠাৎ করে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আপনি বুঝতে পারবেন—

সমস্যা আসলে কোথায়।

হয়তো আপনি ভাবছিলেন আপনার সময় নেই।

কিন্তু দেখা গেল প্রতিদিন দুই ঘণ্টা অকারণে ফোনে কাটছে।

হয়তো ভাবছিলেন অর্থনৈতিক চাপ খুব বেশি।

কিন্তু হিসাব করলে দেখা গেল অনেক খরচই অভ্যাসবশত হচ্ছে।

হয়তো মনে হচ্ছিল পরিবারের জন্য সময় দিচ্ছেন।

কিন্তু বাস্তবে পুরো সপ্তাহে একবারও নিরবচ্ছিন্ন ২০ মিনিটের কথোপকথন হয়নি।


এই মুহূর্তে চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে কোন প্রশ্নটি পড়ে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি হয়েছে?

  • ঘুম?
  • সময়?
  • টাকা?
  • নাকি সম্পর্ক?

সেখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত লুকিয়ে আছে।

সেটা পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন না।

প্রথমে শুধু দেখুন।

সাত দিন পর্যবেক্ষণ করুন।

কারণ জীবনের একটি কঠিন সত্য হলো—

যেটা আপনি দেখতে পান না, সেটা বদলাতে পারবেন না।

আর যেদিন আপনি স্পষ্টভাবে দেখতে শুরু করবেন, সেদিন থেকেই পরিবর্তনের পথও খুলে যাবে।


এধরনের আরো চমৎকার লেখা পড়তে আপনার ইমেইল সাবমিট করুন-
লেখা প্রকাশের সাথে সাথেই আপনার কাছে তা পাঠিয়ে দেবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha


Scroll to Top