কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন বৃত্তি

0
81

konradকনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন নামের বৃত্তি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে৷ প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাওয়ারের নামানুসারে৷

তাঁর চিন্তা চেতনার প্রতিফলন এবং আদর্শকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর এই বৃত্তি প্রতিষ্ঠানটি৷

কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন সাধারণত উচ্চশিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং প্রোগ্রামের জন্য দেশী বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করে থাকে৷ বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দেয়া হয় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা এবং পি এইচ ডির জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে৷ উদ্দেশ্য প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরো বেশি দক্ষ হতে সাহায্য করা৷

এই সংস্থাটি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামগুলোর জন্য বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করে থাকে৷ অর্থাৎ যে সব ছাত্র-ছাত্রী ইতিমধ্যে তার নিজ দেশে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং পি এইচ ডি করার মত যথাযথ যোগ্যতা তার আছে৷ প্রাথমিক বাছাইয়ে সবসময়ই এরা এগিয়ে আসে৷ তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেও প্রার্থীর যোগ্যতা এবং কাগজপত্র যাচাই করে দেখে৷

প্রতিবারের মত এবারেও জানিয়ে দিচ্ছি প্রার্থীকে অবশ্যই অত্যন্ত মেধাবী হতে হবে৷ দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ থাকতে হবে৷ প্রার্থীদের সুবিধার্থে জানাচ্ছি সামাজিক কোন সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছেন বা কাজ করছেন এই অভিজ্ঞতাগুলো সবসময়ই সাহায্য করবে৷

অন্য আরেকটি বিষয়ে কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন জোর দেয় তা হল প্রার্থীকে অবশ্যই জার্মান ভাষায় পারদর্শী হতে হবে৷ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পর প্রার্থী তার নিজ দেশে ফিরে যাবে এবং সেখানে কাজ করবে এটি হচ্ছে অন্যতম একটি শর্ত৷

প্রার্থীদের সব সময়ই বলা হয় নিজ দেশ থেকে আবেদন করার জন্য৷ প্রাথমিক নির্বাচন সেভাবেই করা হয়৷ এই সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব কোন দেশ করলে সেই দেশের প্রার্থীকে বিশেষ বিবেচনা করা হয়৷ কোন প্রার্থী যদি কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন করে তাহলেও তার আবেদনপত্রকে প্রাধান্য দেয়া হবে৷

আমরা কথা বলেছি কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা ডঃ বের্থোল্ড গিসের সঙ্গে৷ তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে এই সংস্থায় কাজ করছেন৷ বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে এশিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন পত্র জমা নেয়া এবং বৃত্তি দেয়ার বিষয়টি তিনি দেখাশোনা করেন৷ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে কি পরিমাণ আবেদন পত্র এই সংস্থাটি পেয়ে থাকে সে প্রসঙ্গে তিনি বললেন, প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ আবেদন পত্র এই সংস্হাটি পেয়ে থাকে৷ কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এই মুহুর্তে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই৷ আগে অনেক ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রী ছিল কিন্তু বিগত বছরগুলোতে একেবারেই আসেনি৷ এই উপমহাদেশ থেকে প্রতিবছর যাতে অন্তত ৫ থেকে ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী আসে সে লক্ষ্যে সংস্থাটি বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে৷ ভারতীয় প্রার্থী নির্বাচন করতে এ বছরেই একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হবে৷ ঠিক কবে এই সম্মেলনটি হবে তা এখনও ঠিক হয়নি৷ সংগঠনটি চেষ্টা করছে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের আবারো ফিরিয়ে আনতে৷

ডঃ বের্থোল্ড গিস আরো জানালেন প্রার্থী নির্বাচনে ঠিক কোন বিষয়গুলোর ওপর জোর দেয় এই সংস্থাটি৷

যে সব বিষয়ে সংগঠনটি বিশেষ নজর দেয় তা হল প্রার্থী যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে সে বিষয়ে যথেষ্ঠ দক্ষতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা৷ এছাড়াও দেখা হয় সংস্কৃতি, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে প্রার্থীর আগ্রহ, সচেতনতা এবং সক্রিয়তা৷

এই সংস্থার ওয়েব সাইটের ঠিকানা www.kas.de

কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের ঠিকানা

Konrad-Adenauer-Stiftung e.V.(KAS)

Rathausallee 12

D- 53757 Sankt Augustin

Tel: 0049 2241 246 0

Internet: www.kas.de

সূত্র: ডিডাব্লিউ

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous article৩৪তম বিসিএস’র প্রিলিমিনারি ২৪ মে
Next articleঢাবিতে ইভনিং এমবিএ ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here