‘এইচআর বিভাগের কাজটাকে আমি খুব এনজয় করি’

ahmed-pashaসময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আরও অনেক পেশাই এখন হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়, সম্মানজনক ও নির্ভরশীলতার। এই ধরনের পেশার মধ্যে নিজের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় পেশা হচ্ছে মানব সম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা। আন্তর্জাতিক তথা আমাদের দেশেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এই বিষয়ের উপর লেখাপড়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছরই অনেক শিক্ষার্থী এই বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করছে। কীভাবে এই পেশায় আসা যায়, কীভাবে এই পেশায় সাফল্য পাওয়া যায়—এমন সব প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হয়েছে আজকের এই ফিচারে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির বরাতে। তিনি আহমেদ পাশা, এডিসন গ্রুপের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহবুব শরীফ

তার ক্যারিয়ার শুরুর দিককার ঘটনাগুলো জানতে চাইলে তিনি জানান, যথাযথ নিয়মানুযায়ী ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে প্রথম যোগ দেন মাছরাঙ্গা প্রোডাকশন হাউজে। সেই থেকেই তার কর্মজীবনের সূচনা। এরপর সিটিসেল, ডানো, সিমেন্স বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে এডিসন গ্রুপের সাথেই আছেন। এই প্রতিষ্ঠানে এইচআর অর্থাত্ মানব সম্পদ বিভাগের ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন।

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ উন্নয়ন পেশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলব একটি কোম্পানির জন্য এইচআর অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এখানে যেকোনো কোম্পানির মান উন্নয়ন নির্ভর করে।’

একটি প্রতিষ্ঠানে এইচআর-এর কাজ কী—এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রমিক বা জনবলকে আমি বলব ডায়নামিক। এখানে ইনপুটের থেকে আউটপুট বেশি আশা করা যায়। কোনো মেশিনকে যদি কমান্ড দেওয়া হয় ১০টি পণ্য বিক্রি কিংবা তৈরি করতে ওই মেশিন কিন্তু দশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। যদি কোনো মানুষকে ১০টি পণ্য বিক্রি কিংবা তৈরি করতে বলা হয়, সে চাইলে এর থেকে বেশি করতে পারবে। এটা তার মনোবল ও যোগ্যতা। শ্রমিকের ভিতর ঘুমিয়ে থাকা যোগ্যতাকে যথাযথ ব্যবহার করাই এইচআরের কাজ। এই কাজ যে যতো বেশি করতে পারবে সে ততোটাই সফল। নিয়োগ প্রক্রিয়া, অমনোযোগী কর্মীকে কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ানো, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করা ইত্যাদি। বিক্রয় ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, মুনাফা অর্জন ও বর্ধন, মার্কেটে শেয়ার বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নতকরণসহ আরও অনেক কিছুই নির্ভর করে এইচআরের উপর।

এই পেশার ভবিষ্যত ও বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এইচআর বিভাগের কাজটাকে আমি খুব এনজয় করি। আশাকরি, যারা এই বিভাগে কাজ করছেন, তারাও বেশ এনজয় করছেন। এটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পর্ষদে পড়ে বিধায়, প্রতিষ্ঠানকে নিজের মতো করে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়। আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে সবাই ভালোবাসে। নিজের যদি কিছু ক্রিয়েটিভ আইডিয়া থাকে, সেগুলোকেও বাস্তবায়ন করা যায়। দেশ ও বিদেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই এইচআর বিভাগের গুরুত্ব অপরিহার্য। এটি ছাড়া একটি বড় প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সম্পন্ন হয় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই এর ভবিষ্যত্ সম্বন্ধে মানুষ নিশ্চিতভাবে ভালো কিছু আশা করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে হ্যাঁ, আমাদের দেশে এখনও এই বিভাগে যারা কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশই ভিন্নধর্মী পেশা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আছেন। কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের উপর পড়ালেখা করে এই বিভাগে কাজ করছেন এমন সংখ্যা একেবারেই কম। কারণ শিক্ষাজীবনে অনেকেই হয়তো এই বিষয়কে গুরুত্ব দেন না। আবার অনেকের হয়তো জানাই নেই যে, আমাদের দেশেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই বিষয়টি রয়েছে। তাই এই বিভাগ থেকে যারা পড়ালেখা করে আসবেন, তাদের জন্য এই সেক্টরে কাজ করার পথ অনেকটাই সুগম বলা যায়।

যারা এই পেশায় আগ্রহী তাদেরকে আপনি কী বলবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যদি এই পেশায় আপনার আগ্রহের মাত্রা থাকে তুমুলে, যদি আপনার মনে হয় আপনি এই পেশায় ভালো করবেন, অবশ্যই স্বাগতম। এই বিভাগের উপর যদি পড়ালেখা করে আসেন, তাহলে আশাকরি খুব সহজেই এই বিভাগে কাজের সুযোগ আপনি পাবেন। কেননা, প্রায় প্রতি মাসেই অসংখ্য প্রতিষ্ঠানে এইচআর বিভাগে হাজারো নিয়োগ দেখা যায়। যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের সংখ্যা একেবারেই কম চোখে পড়ে। আর যদি নির্দিষ্ট করে কিছু সাধারণ যোগ্যতার কথা বলি তাহলে বলব, এই পেশায় প্রবেশ করতে হলে কিছু প্রাথমিক যোগ্যতার প্রয়োজন। শিক্ষাগত যোগ্যতা নূন্যতম স্নাতক হতে হবে। ব্যবসায় শিক্ষা ও এইচআরএম বিষয়ে ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা প্রধান্য পেলেও অন্য বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা এ পেশায় আসতে পারে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি নেতৃত্বগুণ, ধৈর্য্য, সদালাপ, সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতা হওয়া প্রয়োজন। একজন এইচআর অফিসারের ভালো যোগাযোগ দক্ষতা এবং অন্যের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। তাকে অবশ্যই সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসী হতে হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার মতিঝিলে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত।

View all posts by সম্পাদক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *