‘আমার কি টাকার অভাব যে মেয়ে সায়েন্স পড়বে না’

সানিম মাহবীর ফাহাদ : অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় একাদশ শ্রেণীর একটা মেয়েকে প্রাইভেট টিউটর হিসাবে পড়াতে যাই। কয়েকদিন পড়ানোর পরে বুঝতে পারলাম, মেয়েটা সায়েন্স পড়ার জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত। কিছু তো পারেই না, বুঝাতে গেলেও তার কোন মনযোগ পাওয়া যায় না। পরীক্ষা নিলে দেখা যায় খাতা ভর্তি করে লিখে রাখছে, কিন্তু তার সাথে প্রশ্নের টপিকের কোন সম্পর্ক নেই। বুঝলাম, একে দিয়ে ভালো রেজাল্ট করানো খুবই কঠিন হবে।

একদিন তার বাবাকে বললাম, আঙ্কেল ছাত্রী তো মনে হয় সায়েন্সে পড়লে ভালো করতে পারবে না। কারণ, বিগত দিনের কোন কিছুই তার মনে নেই। তাছাড়া নতুন পড়ার প্রতি তার না আছে আগ্রহ আর না আছে মনে রাখার বা বুঝতে পারার ক্ষমতা। আমার মনে হয় যদি গ্রুপ চেইঞ্জ করে দিতেন তাহলে অন্তত সে সায়েন্সের থেকে অনেক ভালো রেজাল্ট করবে।

আঙ্কেল কথা শুনে রেগে গেলেন। বললেন, আমার কি টাকার অভাব আছে যে আমার মেয়ে সায়েন্স পড়বে না? যতো টাকা লাগে খরচ করবো, প্রয়োজনে প্রতিটা সাবজেক্টের জন্য আলাদা টিচার রাখবো বাসায়। তবু আমার মেয়েকে সায়েন্সই পড়াবো। আমি আর এই ঘটনার পরে মেয়েটাকে পড়াতে যাইনি। যতোটুকু জানি, সে পাশ করেছিলো ঠিকই কিন্তু রেজাল্ট খুবই খারাপ হয়েছিলো।

আমি এই ঘটনাটা শেয়ার করলাম একটা উদ্দেশ্য নিয়েই যে, এখনও অধিকাংশ অভিভাবক ছেলে মেয়েদের সায়েন্স পড়াটাকে নিজেদের সম্মান ও প্রতিপত্তি প্রকাশের মাধ্যম মনে করে। টাকা থাকলেই যেন ছেলে মেয়েদের সায়েন্স পড়াতে হবে। ছেলে মেয়েদের সায়েন্স পড়ার মতো মেধা বা যোগ্যতা আছে কিনা সেটা বিবেচ্য নয়।

বাস্তবতা হলো, সায়েন্স থেকে ভালো রেজাল্ট করাটা যেমন কঠিন, তেমনি পরবর্তি সময়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতাও বেশি। ফলে মাঝারি মানের একাডেমিক রেজাল্ট করে যারা সায়েন্স পড়ে তারা শিক্ষা এবং চাকরী উভয় ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ে। যা তাদের পরবর্তি জীবনে এক সাগর হতাশার ভেতর ফেলে দেয়।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, বাঘের লেজ হওয়ার চাইতে বিড়ালের মাথা হওয়া ভালো। আপনি সায়েন্স পড়ে টেনেটুনে পাশ করার চাইতে একই পরিমাণ পড়ালেখা করে যদি অন্য গ্রুপ থেকে ভালো রেজাল্ট করতে পারেন তাহলে সেটাই মঙ্গলজনক। অন্তত বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে একাডেমিক রেজাল্টকে প্রতিটা ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।

আমার এই পোস্ট দেখে এমন মনে করবেন না যে আমি সায়েন্স পড়ার বিরোধী। আসলে আমি বলতে চাই, কোন গ্রুপে পড়বেন এটা যেন হুজুগের বশে, কিংবা নিজেদের অর্থ সম্পদ এবং প্রাচুর্যের উপর ভিত্তি করে ঠিক না করেন। আপনার ক্যারিয়ার প্ল্যান, যোগ্যতা, মেধা এসব বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে যেন ইন্টামেডিয়েটে কোন গ্রুপে পড়বেন সেটা নির্ধারণ করা হয়। কারণ, আপনার একটা ভুল সিদ্ধান্ত পরবর্তিতে নিজের এবং পরিবারের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইন্টারমেডিয়েটে ভর্তিচ্ছুক সকল শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ এই বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। সবার জন্য শুভ কামনা রইলো।

About ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স ম্যাগাজিন

View all posts by ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স ম্যাগাজিন →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *