লেখালেখিতে ক্যারিয়ার গড়ার ৬টি ক্ষেত্র

ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ : লেখালেখিতে ক্যারিয়ার গড়ার কথা বললে প্রথমে যে কথাটা মনের মধ্যে উঁকি মারে তা হচ্ছে- একজন সাংবাদিক কিংবা প্রবন্ধকার অথবা ঔপন্যাসিক হতে হবে। কিন্তু ব্যাপারটা একদমই সেরকম নয়। বর্তমানে আমরা তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি। এই যুগে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় মাধ্যম ইন্টারনেট তথা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া। জরিপ করলে দেখা যাবে মানুষ শুধু অবসর সময় নয় কাজের সময় ফেলেও এই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে ঘুরে বেড়ায়। তাই অনলাইন ব্যবসায়ের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে এখন। অনলাইন ব্যবসায়ের প্রচার-প্রসার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলো জনপ্রিয় করে তোলার জন্যও উদ্ভাবনী লেখার দরকার হয়। তাছাড়া এখন অনলাইন ম্যাগাজিনগুলো বিভিন্ন তথ্যবহুল কন্টেন্ট তৈরি করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। তাহলে দেখা যাচ্ছে যে শুধুমাত্র সাংবাদিক কিংবা প্রবন্ধকার অথবা ঔপন্যাসিক হওয়া বাদেও লেখালেখিতে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক পথই খোলা আছে বর্তমানে।

গত পর্বে লিখেছিলাম লেখালেখিতে দক্ষতা অর্জনের ছয়টি টিপস। আজকের পর্বে আলোচনা করব লেখালেখিতে ক্যারিয়ার গড়া যায় এমন ছয়টি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র নিয়ে-

১. টেকনিক্যাল রাইটার

জটিলতম ধারণাসমূহকে সহজ ভাষায় লেখার দক্ষতা যদি আপনার থাকে, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানি, গ্রুপ অব কোম্পানিজ, গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টেকনিক্যাল রাইটার বা কারিগরি লেখকের চাকরিটা আপনার জন্য একদমই উপযুক্ত হবে।

টেকনিক্যাল রাইটার হওয়ার জন্য আপনার মুখ্য দুটো দক্ষতা থাকা জরুরি। প্রথমত, আপনাকে জটিলতম ধারণাসমূহকে একদম সহজ ভাষায় লেখার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আপনাকে খুব ভালোভাবে ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করতে হবে। কেননা, এই ধরনের নির্দেশনাসমূহ সাধারণত ইংরেজিতেই লেখা হয়ে থাকে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক হিসেবে বাংলাতেও লেখা থাকে।

সাধারণত টেকনিক্যাল রাইটাররা ডকুমেন্টেশন, নির্দেশিকা, সাহয়িকা, ফ্যাকস বা প্রশ্নাবলি, নির্দেশনা এবং এ সংক্রান্ত সহায়ক টেকনিক্যাল লেখা প্রস্তুত করে থাকেন। যারা সফটওয়্যার, বিজ্ঞান, প্রকৌশলী, ওয়েব ডিজাইন ও এ সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলোতে আগ্রহী তারা এই টেকনিক্যাল রাইটারের চাকরিটা বেশ উপভোগ করবেন।

টেকনিক্যাল রাইটারদের বেশিরভাগ চাকরিই ফুল-টাইম। ক্ষেত্র বিশেষে তা পার্ট-টাইমও হতে পারে। তাই, প্রযুক্তিগত বা কারিগরি বিষয়ে ডিগ্রি হলে খুব ভালো চাকরিই আশা করতে পারেন। তাছাড়া, কারিগরি ও প্রযুক্তি জ্ঞান যদি আপনার থাকে, সেক্ষেত্রে এই সেক্টরে চাকরি পেতে খানিকটা সুবিধা দেবে।

২. সাংবাদিকতা

কোনো একটা ঘটনা কিংবা কারো সম্পর্কে বিস্তর জানার আগ্রহ, প্রশ্ন করার মানসিকতা, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত এবং পটভূমি বুঝে প্রমাণসমেত পুরো ঘটনাটা বিস্তারিত লেখার দক্ষতা যদি আপনার থাকে, তাহলে সাংবাদিকতা আপনার উপযুক্ত।

 

বর্তমানে সাংবাদিকতা শুধুমাত্র কাগজের পাতাতেই সীমাবদ্ধ নেই বরং তা অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রত্যেকটা পত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিনেরই একটা করে অনলাইন সংস্করণ আছে। সাংবাদিকতা বর্তমানে তিনটি ধারায় বিস্তৃত হয়েছে। এক. সংবাদপত্র। দুই. অনলাইন পত্রিকা। তিন. টেলিভিশন।

যেহেতু লেখালেখি নিয়ে কথা বলছি তাই তৃতীয়টি বাদ দিয়ে প্রথম দুটি নিয়েই আলোচনা করা হলো।

বর্তমানে দেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা প্রায় চার শতাধিকেরও বেশি। এছাড়া, মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক, সাহিত্য-সাময়িকী, ম্যাগাজিন ইত্যাদিরও সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। সংবাদপত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তের জরুরি খবরগুলো আপনাকে জানতে হবে। অবশ্য সংবাদপত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা গবেষণাধর্মী মনোভাবও থাকা ভালো। কেননা দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত একটা ভুল তথ্য খুব বড় বিপদ নিয়ে আসতে পারে। তাই যে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা হোক না কেন, তা যেন সত্য এবং উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে হয়। আর অবশ্যই প্রতিদিন দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকা পড়তে হবে। তা জানার পরিধি বাড়াবে এবং যেকোনো প্রতিবেদন লিখতে তা সাহায্য করবে। শুধুমাত্র বাংলায় প্রকাশিত কোনো পত্রিকাতেই কাজ করবেন এমনটা ভাববেন না কখনোই। ইংরেজি ভাষাটা রপ্ত থাকলে আপনি ইংরেজি দৈনিকগুলোতেও কাজ করতে পারেন। বাংলায় প্রকাশিত দৈনিকগুলোর মধ্যে- প্রথম আলো, যুগান্তর, ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন, নয়া দিগন্ত, কালেরকন্ঠ, ইনকিলাব, মানবকণ্ঠ, জনকণ্ঠ, বণিক বার্তা, ভোরের কাগজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। আর ইংরেজি দৈনিকগুলোর মধ্যে- ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, নিউ এজ, অবজারভার, ইনডিপেনডেন্ট, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, নিউ নেশন, ঢাকা ট্রিবিউন ইত্যাদি। দেশে দৈনিক পত্রিকা যে হারে বাড়ছে তার চেয়ে বেশি বাড়ছে অনলাইন পত্রিকা। এত অনলাইন পত্রিকা আছে যে সঠিক কিংবা আনুমানিক সংখ্যা বললে সেটাও ভুল হবে হয়তো।

পত্রিকাতে কাজ করতে চাইলে জানার পরিধি বাড়াতে হবে তা প্রিন্ট বা অনলাইন যে  সংস্করণই হোক না কেন। দৈনিক পত্রিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনাকে ফুল-টাইম কাজ করতে হবে। তবে অনলাইনে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ থাকে। আবার অনেক সময় নিয়মিত অফিসে না গিয়েও কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।  অনলাইন পত্রিকাগুলোর মধ্যে- বিডিনিউজ২৪.কম, বাংলানিউজ২৪.কম, প্রিয়.কম, শীর্ষনিউজ, জাগোনিউজ, রাইজিংবিডি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

সাংবাদিকতার ইচ্ছা থাকলে এ বিষয়ে ডিগ্রি নেয়াই ভালো। এছাড়াও সংবাদপত্রগুলোতে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তথা সামাজিক অনুষদের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তাছাড়া, আপনি প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মাস কমিউনিকেশন (নিমকো) থেকে সাংবাদিকতায় বিভিন্ন মেয়াদী কোর্স করে নিতে পারেন।

৩. সম্পাদনা

সম্পাদনার কাজটা মূলত আমাদের দেশে খুব কম ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোতে সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, ফিচার সম্পাদক, কলাম সম্পাদকসহ আরো বিভিন্ন পদ আছে যা মূলত সাংবাদিকতার কাতারেই পড়ে। এছাড়া প্রকাশনী সংস্থাসমূহের প্রুফরিডিং ও সম্পাদনার কাজ আছে। বাইরের দেশের প্রকাশনীগুলোতে বেটারিডিং কিংবা ডেভেলপমেন্ট এডিটিং-এর কাজ থাকলেও আমাদের দেশে তেমনটা নেই। তবে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে ফিচার সম্পাদক কিংবা সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করা যেতে পারে। অথবা বিভিন্ন সোশ্যাল ব্লগ বা মিডিয়াগুলোও এই ধরনের কাজের জন্যে সম্পাদক নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিছু কমার্শিয়াল ওয়েবসাইট বা কোম্পানির ব্লগ এবং সোশ্যাল প্লাটফর্মগুলোর জন্যে এমন চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়। সাংবাদিকতা ছাড়াও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করে এই ধরনের চাকরি মেলে।

৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

এক দশক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলা এবং ব্যবসার প্রচার-প্রসার করার কথা চিন্তা করাটা বোকামি মনে হলেও এখন প্রধান মার্কেটপ্লেস হয়ে উঠেছে এই সোশ্যাল মিডিয়াগুলো। এখনকার বেশিরভাগ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো সচল রাখতে পেশাদার লোক ভাড়া করে থাকেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার মূলত সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রসারে কাজ করেন। যেমন- ফেসবুকে পোস্টিং, বুস্টিং, ক্যাপশন/কন্টেন্ট লেখা, কপিরাইটিং, টুইটারে টুইট করা; ইন্সটাগ্রামে ছবি দেয়া; লিঙ্কডইনে পোস্ট করা ইত্যাদি। এসব ছাড়াও স্ন্যাপচ্যাট, পিনটারেস্ট, কুয়োরা, ভাইন, স্ল্যাক এবং অন্যান্য আরো প্লাটফর্ম আছে যারা কর্মাশিয়ালি ব্র্যান্ড প্রোমোটিং এর কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর স্ক্রিপট তৈরি, বিবৃতি লেখা, প্রশ্নের উত্তর দেয়া এবং এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ করা।

বর্তমান সময়ে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের গুরুত্ব অনেক। ইংলিশ কিংবা সাংবাদিকতায় পড়াশুনা করা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার থাকলেও দক্ষতা থাকলে যে কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থী কাজ পেতে পারেন।

৫. ব্লগার

ব্লগ হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে নিজের চিন্তা-ভাবনাগুলো প্রকাশ করা যায়। মাঝেমাঝে সে ব্লগের বিনিময়ে টাকাও মেলে। নিজের ব্লগ সাইটে প্রচুর ভিজিটর এনে কর্মাশিয়ালি টাকা উপার্জনের ব্যাপারটা যদিও বাংলাদেশে এখনও ততটা সহজলভ্য কিংবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। তাই ব্লগাররা সাধারণত তৃতীয় পক্ষের হয়ে লিখে থাকে।

বিভিন্ন সফটওয়্যার ফার্ম, হিউম্যান রিসোর্স ফার্ম, অনলাইন বেজড প্রসাধনী বা ফ্যাশন হাউজের ব্লগ সাইট ইত্যাদি ছাড়াও আপনি বিভিন্ন ব্লগ সাইটেও গেস্ট ব্লগার হিসেবে লিখে উপার্জন করতে পারেন।

ব্লগ করার জন্যে কিংবা ব্লগার হওয়ার জন্যে বিশেষ কোন পড়াশুনার দরকার নেই শুধুমাত্র সমৃদ্ধ সাধারণ জ্ঞানের ভাণ্ডার আর লেখালেখির দক্ষতাটাই দরকার।

৬. ফ্রিল্যান্স লেখক

যেহেতু লেখালেখি বিশেষ কারণ বা উদ্দেশ্য ছাড়া দলগত কাজের মধ্যে পড়ে না, তাই অনেক তরুণ লেখক বর্তমানে বিভিন্ন প্লাটফর্মে ফিল্যান্স লেখক হিসেবে কাজ করছেন। সাংবাদিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজারের পরই ফ্রিল্যান্সিং লেখালেখিটা অত্যন্ত জনপ্রিয় উপার্জনের মাধ্যম লেখালেখির ক্ষেত্রে।

ফ্রিল্যান্স লেখকের ক্ষেত্রে প্লাটফর্মের অভাব নেই। প্রথমেই আসছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, রম্যরচনা, গবেষণাগ্রন্থ কিংবা প্রবন্ধগ্রন্থ লেখার কাজ। এসব প্রকাশনী ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও কাজ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়। বিভিন্ন দৈনিক বা সাপ্তাহিকে ফ্রিল্যান্সিং করার সুযোগ আছে। আবার, কিছু মাসিক/পাক্ষিক ম্যাগাজিন বা সাহিত্য-সাময়িকী আছে যারা সাধারণত শুধুমাত্র গল্প কিংবা কবিতা অথবা উপন্যাস লেখার জন্যে একজন ফ্রিল্যান্স লেখকের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকে যাতে কখনো এগুলোর ঘাটতি না হয়। এছাড়া, আপনি নিজে যদি খুব গল্প বলতে জানেন তাহলে তা লিখে প্রকাশককে দেখাতে পারেন, বলা তো যায় না কার মধ্যে পরবর্তী জনপ্রিয় লেখক ঘুমিয়ে আছে।

দ্বিতীয়ত, আপনি যদি ইংরেজিটা খুব ভালোভাবে বুঝে থাকেন আর বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ভালো দক্ষতা থাকে তাহলে অনুবাদের কাজ করতে পারেন। পাঠক বরাবরই ঝরঝরে, প্রাঞ্জল আর সাবলীল অনুবাদ চায়। তাই এজন্য আপনাকে প্রচুর পরিমাণে লেখালেখি করতে হবে এবং অনুবাদের অনুশীলন করতে হবে প্রতিনয়ত। বই অনুবাদ করার ক্ষেত্রে আগে প্রকাশকের সাথে কথা বলে নিলে সবচাইতে ভালো হয়।

এ তো গেল প্রিন্ট মিডিয়ার কথা। অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে যারা নিজেদের সময় কিংবা দক্ষতার অভাবে লেখালেখির লোক সাময়িকভাবে কিংবা স্থায়ীভাবে নিয়ে থাকে। এই ধরনের মার্কেটপ্লেসের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আপওয়ার্ক.কম, ফাইভার.কম, ফ্রিল্যান্সার.কম, কন্টেন্টমার্ট.কম-সহ আরো বিভিন্ন ওয়েব সাইট। যেখানে আপনি অ্যাকাউন্ট খুলে নিজের পোর্টফোলিও সাজিয়ে ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কাজ পেতে পারেন। তবে এসব সাইট যেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে তাই ইংরেজিতে দক্ষতা বাধ্যতামূলক। তবে হ্যাঁ, ইদানীং বাংলাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বেশ কিছু কন্টেন্ট বেজড ওয়েব সাইট আছে যারা মূলত বাংলাতেই আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যেমন রোয়ার বাংলা; এই সাইটটির নাম অনেকেরই জানা। এরা বর্তমানে তিনটা দেশে তাদের সফল কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভিন্ন রহস্য, ইতিহাস, মিথ ইত্যাদি আকর্ষণীয় কন্টেন্ট তৈরি করে ইতিমধ্যেই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রোয়ার বাংলাতে আপনি ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম কিংবা গেস্ট-রাইটার হিসেবে লিখেও উপার্জন করতে পারেন। এছাড়া আরো দুটি সাইটের নাম বলছি যেখানে বাংলায় লিখে উপার্জন করা সম্ভব। এক. লেখক ডটকম আর দুই. বাংলাহাব ডটকম। এখানে অ্যাকাউন্ট খুলে লেখা সাবমিট করলে সম্পাদক কর্তৃক তা প্রকাশ পেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ আপনার একাউন্টে যোগ হবে। পাশাপাশি যত দর্শক এটা দেখবে সেটার উপর ভিত্তি করেও একটা নির্দিষ্ট হারে টাকার পরিমাণ বাড়বে। মাস শেষে আপনি ব্যাংক একাউন্ট কিংবা বিকাশের মাধ্যমে টাকা উঠাতে পারবেন। এছাড়া আপনি চাইলে লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সেও। ক্যারিয়ার বিষয়ক যে কোনো লেখা পাঠান ইমেইলে।

ফ্রিল্যান্স লেখক হতে হলে প্রচুর জ্ঞানের দরকার। বিশেষ করে সাহিত্য ও সাধারণ জ্ঞান। আর এজন্যে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই ছাড়াও ব্লগ, আর্টিকেল পড়ে তা কিছুটাও হলেও অর্জন করা যায়।

লেখালেখিতে ক্যারিয়ার গড়ার মূলমন্ত্র হচ্ছে যেখানেই লেখার সুযোগ পান না কেন লিখে ফেলুন। টাকার চিন্তা পরে করুন। আগে লেখার হাত তৈরি করুন। তবে, মনে রাখবেন যেখানেই ক্যারিয়ার গড়ুন না কেন মন থেকে যদি কাজটা ভালো না বাসেন তাহলে কিছুদিন পর ওই কাজের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসবে। তাই ক্যারিয়ার গড়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করে নিন আপনি কি এই সেক্টরে সত্যিই আগ্রহী?

[প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : editor@careerintelligencebd.com ]

About ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ

ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ। থাকেন ঢাকার মীরপুরে। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যায় থেকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কনটেন্ট রাইটার হিসেবে কাজ করছেন। এরই মধ্যে দুটি বই ভাষান্তর করেছেন

View all posts by ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *