দক্ষতা কাকে বলে? দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় কী?

0
109
দক্ষতা কাকে বলে? দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় কী?

কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আপনার দরকার হবে জ্ঞান, সক্ষমতা ও পারদর্শিতা। দক্ষতা নামে পরিচিত এই গুণগুলো আপনাকে কোনো বিষয়ে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন বা বিশেষজ্ঞ হতে সাহায্য করে। আর এটাই আপনার ক্যারিয়ার ও জীবনে বড় ধরনের সাফল্য নিয়ে আসে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করবো- দক্ষতা কী? দক্ষতার প্রকারভেদ, দক্ষতা অর্জন ও তা বৃদ্ধির উপায়সহ আরো অনেক কিছু। আশাকরি শেষ পর্যন্ত আপনাকে সাথে পাবো।

স্কিল বা দক্ষতা কী?

আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, দক্ষতা হচ্ছে কিছু গুণের সমষ্টি; কোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে যা প্রয়োজন হয়। এটাকে স্কিল সেটস নামেও অভিহিত করা হয়।

উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে-
A skill is the ability to perform an action with determined results often within a given amount of time, energy, or both.

অর্থাৎ দক্ষতা হলো সময়, শক্তি বা উভয়ই ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফলাফলসহ কাজ সম্পাদন করার সক্ষমতা।

Merriam-Webster ডিকশোনারিতে দক্ষতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-
the ability to use one’s knowledge effectively and readily in execution or performance.

কারো জ্ঞান কার্যকরভাবে ব্যবহার এবং সহজে কার্যসম্পাদন করার ক্ষমতা।

ডিকশোনারিটিতে আরো বলা হয়েছে- a learned power of doing something competently: a developed aptitude or ability.

লার্নার্স ডিকশোনারিতে স্কিল বা দক্ষতার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে-

the ability to do something that comes from training, experience, or practice.

ডিকশোনারি ডটকমে স্কিল সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে-
the ability, coming from one’s knowledge, practice, aptitude, etc., to do something well.

ব্রিটিশ ডিকশোরিতে বলা হয়েছে-

  • special ability in a task, sport, etc, esp. ability acquired by training
  • something, esp. a trade or technique, requiring special training or manual proficiency
  • obsolete understanding

এসব সংজ্ঞার আলোকে আমরা বলতে পারি- সময়, শক্তি ও জ্ঞান ব্যবহার করে কোনো কাজ যথাযথভাবে সম্পাদন করার অর্জিত শক্তিকে স্কিল, স্কিল সেটস বা দক্ষতা বলে।

আমাদের জীবন ও কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই মূলত দক্ষতাগুলো তৈরি হয়। আবার পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমেও কিছু দক্ষতা অর্জিত হয়। স্কিলটেস্টের মাধ্যমে দক্ষতা নিরূপন ও স্তর নির্ধারণ করা যায়।

দক্ষতার প্রকারভেদ ও উদাহরণ (different types of skills and examples)

কোনো কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিশেষ জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তাকে দক্ষতা বা স্কিল বলে। চাকরির দক্ষতা আপনাকে সুনির্দিষ্ট চাকরির জন্য প্রস্তুত করে। আবার লাইফ স্কিলগুলো দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।

বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা রয়েছে; যা আপনার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যেমন- স্কুল, অফিস, এমনকি খেলাধুলা বা শখের ক্ষেত্রেও সফল হতে সাহায্য করে।

প্রত্যেক ক্যারিয়ারের জন্যই কিছু নির্দিষ্ট, প্রয়োজনীয় বা কাঙ্খিত জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে। যা কাজে সফলতার জন্য অতীব জরুরি।

দক্ষতাকে প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১. সাধারণ দক্ষতা
২. বিশেষ দক্ষতা

যেমন- কর্মক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনা, টিমওয়ার্ক ও নেতৃত্ব, সেলফ-মটিভেশনসহ কিছু সাধারণ দক্ষতার প্রয়োজন হয়।

আবার কোনো নির্দিষ্ট চাকরির জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। যেমন: গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাকরির ক্ষেত্রে অবশ্যই কম্পিউটার গ্রাফিক্সে আপনার দক্ষতা দরকার হবে।

দক্ষতাকে আবার কেউ কেউ তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যেমন-

১. স্থানান্তরযোগ্য/কার্যকরী (Transferable/Functional)
২. ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা মনোভাব (Personal Traits/Attitudes)
৩. জ্ঞানভিত্তিক (Knowledge-based)

স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা কী?

স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা হলো- এমন প্রতিভা ও সক্ষমতা যা বিভিন্ন চাকরি এবং ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। এগুলি চাকরি, স্কুল, ইন্টার্নশিপ, শখ ও স্বেচ্ছাসেবার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জন করা যেতে পারে।
যেমন- সময় ব্যবস্থাপনা ও ভাষা দক্ষতা।

স্থানান্তযোগ্য দক্ষতা বা ট্রান্সফার‌্যাবল স্কিলের ভিত্তি সক্ষমতা ও যোগ্যতা। এটাকে ক্রিয়া পদ দ্বারা ব্যক্ত করা যায়।উদাহরণ-  সংগঠিত করা, প্রচার করা, বিশ্লেষণ করা, লেখা ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা মনোভাব সম্পর্কিত দক্ষতা কী?

এ ধরনের দক্ষতার ভিত্তি হচ্ছে- কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে দরকারি ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা মনোভাব। এ ধরনের স্কিল শিশুকাল থেকে জীবনের বিভ্ন্নি স্তরে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উন্নত হয়।

এ ধরনের দক্ষতাকে বিশেষণ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। উদাহরণ- ধৈর্যশীল, কুশলী, স্বাবলম্বী ইত্যাদি।

জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা কী?

নির্দিষ্ট বিষয়, পদ্ধতি এবং তথ্য সম্পর্কিত জ্ঞান; যা নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে প্রয়োজন। জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কাজের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত হয়।

এ দক্ষতাগুলোকে বিশেষ্য পদ দ্বারা প্রকাশ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ- কর্মী প্রশাসন, চুক্তি ব্যবস্থাপনা, হিসাবরক্ষণ ইত্যাদি।

দক্ষতাকে আবার কেউ কেউ হার্ড স্কিল (Hard Skill) ও সফট স্কিল (Soft Skill) – এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন।

হার্ড স্কিল কী?

হার্ড স্কিলকে টেকনিক্যাল স্কিলও বলা হয়। হার্ড স্কিল মূলত নির্দিষ্ট কোনো পেশা বা কাজ সংক্রান্ত জ্ঞান ও যোগ্যতা; যা একজন চাকরিজীবীর দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দরকার হয়।

হার্ড স্কিল মূলত একজন চাকরিপ্রার্থী তার কাজে কতটা ভালো তা চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। যেমন- একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের প্রয়োজনীয় টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজাইন করতে পারার সক্ষমতা।

সফট স্কিল

সফট স্কিল হচ্ছে একজন মানুষের ব্যক্তিগত গুণাবলি; যা তার চাকরি, ক্যারিয়ার বা কাজের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। যেমন- গ্রাফিক্স ডিজাইনারের সৃজনশীলতা (Creativity)। এ দক্ষতার মাধ্যমে তিনি সবার কাছে পছন্দনীয় করে ডিজাইনটিকে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

এর বাইরেও দক্ষতাকে আরো কয়েকভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

১. জব স্কিল
২. লাইফস্কিল
৩. পারসোনাল লাইফ স্কিল
৪. স্পোর্টস স্কিল
৫. স্টুডেন্ট স্কিল
৬. সোশ্যাল স্কিল বা সামাজিক দক্ষতা ইত্যাদি

বিভিন্ন ধরনের স্কিলের উদাহরণ

জব স্কিলের উদাহরণ (Job Skills Examples)

কিছু স্কিল বা দক্ষতা আছে যা শুধুমাত্র চাকরিদাতারাই প্রত্যাশা করেন না বরং নিজের ভূমিকা বৃদ্ধি ও অন্যদের সাথে ভালোভাবে কাজ করার জন্যও দরকার। স্কিলকে অনেক প্রকরণ করা যায়। তবে এখানে কিছু কমন জব স্কিলের কথা উল্লেখ করবো।

নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতাসমূহ (Leadership and Management Skills)

যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা খুবই জরুরি। এ দক্ষতা আপনাকে চাকরির বাজারে কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে। এ ধরনের দক্ষতাগুলো হচ্ছে-

  • পরামর্শ (Advising)
  • কোচিং (Coaching)
  • বিরোধনিষ্পত্তি (Conflict resolution)
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণ (Decision making)
  • প্রতিনিধিত্ব (Delegating)
  • কূটনীতি (Diplomacy)
  • সাক্ষাৎকার (Interviewing)
  • প্রেরণা/প্রেষণা (Motivation)
  • মানবব্যবস্থাপনা (People management)
  • সমস্যা সমাধান (Problem solving)
  • কৌশলগত চিন্তা (Strategic thinking)

পেশাদারি দক্ষতাসমূহ ( Professionalism Skills)

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চাকরির ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বা প্রফেশানালিজম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের দক্ষতার মধ্যে রয়েছে-

  • ডেডিকেশন (Dedication)
  • নীতি-নৈতিকতা (Ethics)
  • সততা (Honesty)
  • অখণ্ডতা/ঐক্য (Integrity)
  • পরিপক্কতা (Maturity)
  • ধৈর্য (Patience)
  • উপস্থাপনা (Presentation)
  • নির্ভরযোগ্যতা (Reliability)
  • আত্মবিশ্বাস (Self confidence)

সাংগঠনিক দক্ষতাসমূহ (Organizational Skills)

যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা অতি জরুরি। এ দক্ষতা ছাড়া দীর্ঘদিন টিকে থাকা কঠিন। এ দক্ষতা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকে তরান্বিত করে। এ ধরনের দক্ষতার মধ্যে আছে-

  • তথ্য শ্রেণীবদ্ধকরণ (Categorizing data)
  • সমন্বয়মূলক (Coordinating)
  • লক্ষ্য নির্ধারণ (Goal setting)
  • ডেডলাইন মেনে চলা (Meeting deadlines)
  • মাল্টি টাস্কিং (Multi-tasking)
  • অগ্রাধিকার নির্ধারণ (Prioritizing)
  • প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনা (Project management)
  • (সময়সূচি) Scheduling
  • কৌশলগত পরিকল্পনা (Strategic Planning)
  • সময় ব্যবস্থাপনা (Time management)

দল গঠনের দক্ষতাসমূহ (Team Building Skills)

দলগঠন বা টিম বিল্ডিং অন্যতম জব স্কিল। এ ধরনের দক্ষতাগুলো হচ্ছে-

  • সহযোগিতা (Collaboration)
  • যোগাযোগ (Communication)
  • নমনীয়তা (Flexibility)
  • শ্রবণ (Listening)
  • পর্যবেক্ষণ (Observation)
  • অংশগ্রহণ (Participation)
  • সম্মান (Respect)
  • ভাগ করে নেয়া (Sharing)

বিশ্লেষণী দক্ষতা (Analytical Skills)

অ্যানালাইটিক্যাল স্কিল যেকোনো চাকরি বা জবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সঠিক সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে এই দক্ষতা অসামান্য ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের দক্ষতার মধ্যে রয়েছে-

  • বিশ্লেষণী চিন্তা (Critical thinking)
  • তথ্য বিশ্লেষণ (Data analysis)
  • সংখ্যা দক্ষতা (Numeracy)
  • প্রতিবেদন ( Reporting)
  • গবেষণা (Research)
  • সমস্যা সমাধান (Troubleshooting)

লাইফ স্কিলের উদাহরণ (Life Skills Examples)

অনেক দক্ষতা আছে যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়। অবশ্য এটা আপনি জীবনের কোন পর্যায়ে আছেন, তার ওপর নির্ভর করে। তাছাড়া ব্যক্তিভেদে দক্ষতাগুলো আলাদা হতে পারে। এখানে কিছু বিশেষ দক্ষতার কথা উল্লেখ করা হলো, যা আপনাকে স্বাধীন ও আত্মনির্ভশীলতা অর্জনে সহায়তা করবে।

কিছু সাধারণ লাইফ স্কিল-

  • গাড়ি চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
  • জরুরি প্রস্তুতি
  • প্রাথমিক চিকিৎসা
  • জামা-কাপড় ভাজ ও ইস্ত্রি করা
  • মৌলিক রান্না-বান্না করা
  • বাগান রক্ষণাবেক্ষণ
  • সময় মতো কাজের জন্য বা স্কুলের জন্য প্রস্তুতি
  • বিছানা করা
  • পারিবারিক বাজেট তৈরি
  • দৈনন্দিন কেনাকাটা
  • গোছানো : ঘর, বাথরুম/টয়লেট,  আলমিরা, গ্যারেজ ইত্যাদি
  • রুম রঙ করা বা সাজানো
  • প্যারেন্টিং
  • টেবিল পাতা ও পরিষ্কার করা
  • পড়াশোনা
  • ময়লা অপসারণ
  • কাপড়, বাসন, উইন্ডো বা গাড়ি ধোয়া এবং শুকানো

ব্যক্তিক জীবন দক্ষতার উদাহরণ (Personal Life Skills Example)

অনেক দক্ষতা আছে, যেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত উন্নয়নে সাহায্য করে। এই স্কিলগুলো জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাকে সমৃদ্ধ করে জীবনকে উন্নত করতে পারে। পারসোনাল লাইফ স্কিলের মধ্যে আছে-

  • অভিযোজনযোগ্যতা (Adaptability)
  • যত্নশীলতা (Caring)
  • কাণ্ডজ্ঞান (Common Sense)
  • সহযোগিতা (Cooperation)
  • কৌতূহল (Curiosity)
  • প্রচেষ্টা (Effort)
  • নমনীয়তা (Flexibility)
  • বন্ধুত্ব (Friendship)
  • উদ্যোগ (Initiative)
  • অখণ্ডতা (Integrity)
  • সংগঠন (Organization)
  • ধৈর্য (Patience)
  • অধ্যবসায় (Perseverance)
  • সমস্যা সমাধান (Problem-Solving)
  • দায়িত্ব (Responsibility)
  • সেন্স অফ হিউমার (Sense of Humour)
  • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (Stress Management)
  • মৌখিক এবং অমৌখিক যোগাযোগ (Verbal & Non-Verbal communication)

স্টুডেন্টস স্কিলের উদাহরণ (Student Skill Examples)

কোনো কিছু শেখার জন্য শিক্ষার্থীদের অনেক দক্ষতা প্রয়োজন। সেগুলো শুধু আপনার পরবর্তী পড়াশোনার জন্যই উপকারে আসবে না। বরং বর্তমান ধাপের পড়াশোনায় সফল হতেও দরকার হবে। তেমনই কিছু প্রয়োজনীয় দক্ষতার কথা এখানে উল্লেখ করা হলো-

  • দায়িত্বশীলতা (Accountability)
  • তথ্য বিশ্লেষণ (Analyzing information)
  • যোগাযোগ (Communication)
  • ক্রিটিক্যাল থিংকিং (Critical thinking)
  • ডিজিটাল সাক্ষরতা ( Digital literacy)
  • নির্দেশনা অনুসরণ (Follow directions)
  • কল্পনা (Imagination)
  • উদ্যোগ (Initiative)
  • সংগঠন (Organization)
  • সমস্যা সমাধান (Problem solving)
  • প্রশ্ন করা (Questioning)
  • পড়া (Reading)
  • সময় ব্যবস্থাপনা (Time management)
  • লেখালিখি (Writing)

দক্ষতা ও সামর্থ্য (skills and abilities) কি এক জিনিস?

আসুন আগে জানি জ্ঞান সম্পর্কে। জ্ঞান বা নলেজ হচ্ছে-  কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক বা ব্যবহারিক বুঝ। ধরুন- একজন চাকরিজীবীর গ্রাফিক্স ডিজাইনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ফটোশপ সফটওয়্যার সম্পর্কে জানেন। তার মানে এই না যে, কীভাবে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়া যায় তা-ও তিনি জানেন। এর প্রকৃত অর্থ হচ্ছে- ফটোশপ জিনিসটি কী, এটা দিয়ে কী করা হয় তা জানেন।

দক্ষতা বা স্কিল হচ্ছে প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত পারদর্শিতা। ধরুন- ফটোশপ ব্যবহার করে যদি একজন ডিজাইন করতে পারেন সেটা হচ্ছে ওই ব্যক্তির দক্ষতা।

তার মানে স্কিল হচ্ছে- সাধারণভাবে যে জ্ঞানটা আপনি শিখে নিয়েছেন। আমরা জ্ঞানের স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নত করতে পারি।

আর সামর্থ্য হচ্ছে কোনোকিছু করার সক্ষমতা। স্কিল ও অ্যাবিলিটির মধ্যে সামান্য পার্থক্য আছে। অনেকে বলেন, এদের মধ্যে পার্থক্য হলো বিষয়টা শেখা হয়েছে নাকি সহজাত।  তবে আমাদের মতে অ্যাবিলিটি হচ্ছে- কোনো কিছুর সংগঠন ও অগ্রাধিকার;  যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি কোনো দক্ষতা অর্জন ও তার বিকাশ করতে পারে।

নলেজ (K), স্কিল (S) ও অ্যাবিলিটি (A) – টার্ম তিনটি আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য অপরিহার্য। নিয়োগকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালে জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্যের সন্ধান করে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের  পরিচালক ও ব্যবস্থাপকেরা যখন কর্মচারীদের বদলি ও পদোন্নতির কথা  বিবেচনা করেন তখন KSA ব্যবহার করেন।

আমরা আরেকটু আলোচনা করলে দক্ষতা ও সামর্থ্যের মধ্যে পার্থক্যটি আরো পরিষ্কার হবে।  যদি আমরা কোনো সংস্থার জনশক্তির মধ্যে থাকা দক্ষতার ফাঁকফোঁকরগুলো সমাধান করতে চাই তাহলে আগে নির্ধারণ করতে হবে সমস্যার মূলবিন্দু। এরপর  তা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ- যদি সমস্যাটি জ্ঞানগত হয়, তবে আমরা একটি ইন-হাউস লাইব্রেরি তৈরি করতে পারি, যেখান থেকে কর্মীরা জ্ঞানার্জন করতে পারবেন।

তবে যদি সমস্যাটি দক্ষতা হয় তবে দরকার হবে প্রশিক্ষণ। এবং যদি সামর্থ্য বা সক্ষমতা উন্নত করার প্রয়োজন হয়, তাহলে ব্যক্তিগত কর্ম পরিকল্পনা তৈরি করে তার বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে।

দক্ষতা বাড়ানোর উপায় কী?

আপনার দক্ষতা বাড়ালে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তার সুফল পাবেন। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুযোগের নতুন নতুন দরজা আপনার সামনে উন্মোচিত হবে।

দক্ষ ব্যক্তি সব সময়ই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকেন। পরিবেশ পরিস্থিতি তার অনুকূলে থাকে।

যা-ই হোক দক্ষতা বা স্কিল বৃদ্ধির কিছু উপায় এখানে আলোচনা করা হলো-
১. আপনি যে দক্ষতাগুলো বাড়াতে চান তার একটি তালিকা করুন।
২. দক্ষতার উন্নয়নে সময় ও অর্থ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন।
৩. বাস্তব লক্ষ্য ও মাইলস্টোন নির্ধারণ করুন।
৪. একজন কোচ বা মেন্টর খুঁজে নিন।
৫. লক্ষ্য বাস্তবায়নে একটি সুন্দর পরিকল্পনা করুন।
৬. সহযোগিতা নিন
৭. অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করুন।
৮. আনন্দের সাথে শিখুন।

এবার আসুন  দক্ষতা বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

দক্ষতার তালিকা তৈরি

কিছু দক্ষতার চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই শুরু করার আগে নিশ্চিত হোন, আপনার কোন দক্ষতা বেশি কাজে আসবে। কিংবা দক্ষতা আপনার কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

সেক্ষেত্রে আপনি জীবন ও ক্যারিয়ারের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন।

দক্ষতার উন্নয়নে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন

এবার চিন্তা করুন- আপনি কেন দক্ষতার উন্নয়ন চান? কোন বিষয়টি আপনাকে এজন্য উৎসাহিত করছে? দক্ষতার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ বিনিয়োগে আপনি কি প্রস্তুত?

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার পর দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও অর্থের সংস্থান করুন।

বাস্তব লক্ষ্য ও মাইলস্টোন নির্ধারণ করুন

আপনার দক্ষতা লেভেল চিহ্নিত করুন। আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এর কতটুকু উন্নয়ন করা সম্ভব সেসব বিবেচনায় নিয়ে একটি বাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। একই সাথে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করুন।

একজন কোচ বা মেন্টর খুঁজে নিন

আপনি যে ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে চান, সেই ক্ষেত্রের একজন  সফল মানুষকে আপনার কোচ বা মেন্টর হিসেবে বেছে নিন। এ ধরনের ব্যক্তিদের আপনি আশেপাশেই খুঁজে পাবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সিনিয়র পারসনের সাথে কথা বলতে পারেন। তাছাড়া লিংকডইনের মতো প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক সাইট বা পেশাগত ক্লাব বা সংস্থা থেকে একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে নিন।

দক্ষতা উন্নয়নে একটি পরিকল্পনা করুন

আপনি যখন লক্ষ্য ও মাইলস্টোন নির্ধারণ করে ফেলেছেন, এবার তা অর্জনের জন্য একটি পরিকল্পনা দরকার। কোন বিষয়ে কোথায় ও কখন প্রশিক্ষণ নিবেন সেটা ঠিক করুন। কখন ও কীভাবে অনুশীলন করবেন তারও পরিকল্পনা করতে ভুলবেন না যেন!

সহযোগিতা নিন

শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়। এক্ষেত্রে পেশাগত সংস্থার কার্যক্রমে অংশ নিন। নেতৃত্ব বিষয়ক বিভিন্ন ক্লাস করুন অথবা এমন সব ইভেন্টে অংশ নিন যেখানে বিশিষ্টজনদের সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নিতে পারেন।

অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে রাখুন

আপনার দক্ষতাকে পর্যবেক্ষণ করুন। কতটুকু এগুলেন, কতটুকু বাকি আছে- তা বোঝার চেষ্টা করুন। সেজন্য একটি ফিডব্যাক সিস্টেম তৈরি করতে পারেন। নিজের কাজ বা কথাগুলো রেকর্ড করে দেখতে অথবা অন্যদের জিজ্ঞেস করতে পারেন।

কাউকে মডেল ধরে তার সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেখুন।

আনন্দের সাথে শিখুন

দক্ষতা উন্নয়ন বা নতুন কিছু শেখা হতে পারে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা। সুতরাং আনন্দের সাথে ধীরে ধীরে শিখুন। চাপ নেবেন না। আত্মবিশ্বাস রাখুন।

পরিশেষে বলা যায়- দক্ষতা হলো যা আপনাকে জীবনে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন করে তোলে। এটি সাফল্যের জন্য অপরিহার্য। অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার দ্বারা দক্ষতা তৈরি হয়। তবে প্রায় সব দক্ষতাই শেখা বা উন্নত করা যেতে পারে। নিজের বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা ও লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করুন। শিখুন এবং নিজেকে গুছিয়ে নিন।

সূত্র:

১. উইকিপিডিয়া
২. ব্রিটিশ ডিকশোনারি
৩. Rasmussen University
৪. Workable 
৫. Your Dictionary

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleউদ্যোক্তা লোন কীভাবে পাওয়া যায়?
Avatar
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here