টাকা ছাড়া লাভজনক ব্যবসায় শুরু করবেন কিভাবে?

0
113
টাকা ছাড়া লাভজনক ব্যবসায় শুরু করবেন কিভাবে?

অনেকেই চান ব্যবসায় করতে। কিন্তু টাকার অভাবে ইচ্ছা থাকলেও উপায় মেলে না। আজকের নিবন্ধে আমরা তুলে ধরব একজন সফল উদ্যোক্তার কথা। যিনি দুটি কোম্পানির প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা বা চিফ অপারেটিং অফিসার। এছাড়া বিজনেস গ্রোথ নিয়েই পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। নাম স্টিভ গুডল। তার কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল- টাকা-পয়সা ছাড়া কিভাবে আমি একটি লাভজনক ব্যবসায় দাঁড় করাতে পারি?

এর উত্তরে তিনি যা বলেছেন, সেটাই তুলে ধরা হলো আপনাদের জন্য।

হ্যাঁ আমি করেছি। আমি বাজি ধরে করেছি। তবুও আমি সেটা করেছি। আগামী বছরের শেষ নাগাদ ১০০ মিলিয়ন ডলার রেভিনিউ অর্জনের লক্ষে বর্তমানে কাজ করছি। এটা ছিল অনেকটা পাগলামির যাত্রা, যেটা আমার জীবনে প্রত্যাশিত ছিল না।

আমি কী করেছি সে ব্যাপারে স্টেপ বাই স্টেপ ধারণা দিচ্ছি। তাছাড়া আমি যে ভুলগুলো করেছি তা-ও জানিয়ে দিচ্ছি। যাতে করে আপনি সেগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন। চলুন শুরু করি।

প্রচলিত কথা : ব্যবসায়ে সফলতার জন্য অবশ্যই আপনার একটি মৌলিক আইডিয়া থাকতে হবে।

যেহেতু আমি পরামর্শ সেবা দিই তাই বুঝলাম, ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর অধিকাংশই তারা গ্রাহকদেরকে ভালোভাবে বুঝতে পারে না।

১. ফেসবুক ক্যাম্পেইনের অবিশ্বাস্য রকম কার্যকারিতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন। এটা আপনি ইউটিউব থেকে একশভাগ ফ্রিতে শিখতে পারবেন। এখান থেকে আপনি যে কোনো পেইড কোর্সের মতোই শিখতে পারবেন।

২. এবার আমি আইডিয়া বিক্রি করার জন্য অনলাইনে স্ক্রিপ্ট খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। অবেশেষে আমি যা নতুন শিখেছি এবং জানি তা দিয়ে নিজের মতো করে একটি স্ক্রিপ্ট তৈরি করি।

৩. এরপর আমি ইমেইল করার জন্য ভালো কিছু টেমপ্লেট অনলাইনে খুঁজে বের করি। উডপিকার (Woodpecker) নামে একটি কোম্পানির অসাধারণ ১৫টি টেমপ্লেট থেকে একটি ব্যবহার করি। তাছাড়া আরো দুটি নিজে নিজে তৈরি করি।

৪.  এবার আমি বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ইমেইল ঠিকানা ও যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে শুরু করি। লিংকডইন ও গুগল সার্চের মাধ্যমে ১ হাজারেও বেশি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সংগ্রহ করি।

৫. তারপর তিন ধাপে ব্যবহারের জন্য তিনটি অসাধারণ ইমেইল লেটার লিখে ফেলি। এবং আমার জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইমেইল করতে শুরু করি। প্রতিদিন প্রায় ৫০টি করে ইমেইল পাঠাই। এ পর্যায়ে আমি কাগজে যোগাযোগের তারিখ লিখে রাখি এবং কেউ রিপ্লাই দিলো কি-না তা প্রতিদিন চেক করতে থাকি। তৃতীয় দিনে আমি দ্বিতীয় ইমেইলটি পাঠাই। আবার তিন দিন পর তৃতীয়টি।

৬. এভাবে ৮শ ইমেইল পাঠানোর পর আমার প্রথম রিপ্লাই পাই। তারপর ফোনে কথা হয়।

৭. অবশেষে প্রথম কাস্টমারের দেখা মেলে। মাসিক ১৮শ ডলারে চুক্তি হয়।

৮. কিছুদিন পরে আমার সার্ভিসের জন্য একটি ফেসবুক বিজ্ঞাপন তৈরি করি এবং ওই টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন চালাতে শুরু করি।

৯. ফেসবুকের লিডগুলোকে সরাসরি আমার কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট বা সিআরএম সিস্টেমে যুক্ত করতে Zapier-এ সাইনআপ করি। ৭ দিনের ট্রায়াল পিরিয়ড ব্যবহারের পর  সেটা ব্যবহার বন্ধ করে দিই।

১০. প্রতিদিন মাত্র ২০ ডলার করে খরচ করে প্রতিদিন ২/৩টি করে লিড পেতে থাকি। এভাবে ১০ দিনের মধ্যে আমাকে তাদের সাথে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ফোনে কথা বলতে হচ্ছিল।

১১.  এরপর আমি আরো ক্লায়েন্ট পেতে শুরু করি। একজন গ্রাহক পেতে আমাকে গড়ে প্রায় ৩০০ ডলার খরচ করতে হয়েছে। যতবার আমি নতুন ক্লায়েন্ট পেয়েছি, ততই ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বাড়িয়েছি আরো বেশি লিড পেতে।

১২. এবার আমি প্রতি সেলে ৯০০ ডলার হিসেবে কমিশন ভিত্তিতে একজন বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম। তিনি প্রথম মাসে প্রায় ২৫০০ ডলার করে কমিশন তুলেছেন।  পরবর্তী মাসে তিনি প্রতি সপ্তাহে ৩টি করে সেল বা গ্রাহক সংগ্রহ করে আনছিলেন।

১৩. এবার আমি ভালো ও দক্ষ লোক নিয়োগ করলাম। যাতে করে আমি চাপমুক্তভাবে সার্বিক বিষয়ে দেখাশোনা করতে পারি।

১৪. আমার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোদমে চলতে লাগল।

১৫. প্রথম বছর আমার বাসায় বসেই কাজ চলত।  তৃতীয় বছরে আমরা ভালো লোকেশনে অফিস শিফট করি। চতুর্থ বছরে আমরা শুধু দেশীয় কাজগুলোর প্রতি ফোকাস করি। পঞ্চম বছরে আমাদের টার্গেট ১০০ মিলিয়ন ডলার রেভিনিউ।

আমাদের ভুলগুলো-

১. পর্যাপ্ত সেলস পারসন না নেয়া

এটা আমাদের বড় ভুল ছিল। আরো বেশি সেলস পারসন নেয়া দরকার ছিল। এতে আরো লিড পেতাম এবং ব্যবসায় প্রসারিত হতো। বিজ্ঞপনে কেন প্রথম বছরে ১০ মিলিয়ন খরচ করলাম না?

২. পারসোনাল ব্র্যান্ড তৈরিতে ধীরগতি

আমি মনে করি, পারসোনাল ব্যান্ড তৈরিতে ধীরগতি আমার যথাযথ গ্রোথ তৈরিতে তিন বছর সময় নিয়েছে। বর্তমানে এক্ষেত্রে আমি খুবই তৎপর। প্রতিদিন কোরাসহ বিভিন্ন প্লাটফরমে ১০০-এর মতো কনটেন্ট দিচ্ছি। বর্তমানে এসব কনটেন্টে ট্রাফিক আনতেও ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। আমি যতদূর পারি এর পেছনে খরচ করব।

৩. ব্যবসায়ের ভুল অংশকে অটোমেশন সিস্টেমে আনা

আমি যুক্ত হওয়া এবং রিপোর্টিং ১০০ ভাগ অটোমেটিক করেছিলাম। যেটা ভুল ছিল। পুরো বিষয়টি দেখার জন্য কাউকে আমি নিয়োগ দিইনি। বিষয়টি যখন উপলব্ধি করলাম তখন আমার ৫০ জনেরও বেশি ক্লায়েন্ট আমাদের ত্যাগ করেছে। সুতরাং আপনার ব্যবসায়ের সেই ডাটা প্রবাহ স্বয়ংক্রিয় করতে পারেন, যাতে আপনার টিম সে ব্যাপারে অবহিত থাকে এবং ক্লায়েন্টকে যথাযথ সার্ভিস দিতে পারে।

—-

এই স্টেপগুলোই আমি ফলো করেছিলাম। আপনিও করতে পারেন। এটার জন্য দরকার হবে দৃঢ় সংকল্প। ফেসবুককে সময়ের অপচয়কারী না বানিয়ে নিজের সমৃদ্ধির জন্য কাজে লাগান।

মূল লেখক : স্টিভ গুডল; বিজনেস গ্রোথ কনসালট্যান্ট, দুটি কোম্পানির প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা

ভাবানুবাদ : মো. বাকীবিল্লাহ, সম্পাদক ও প্রকাশক, ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleকভার লেটার কী? কিভাবে লিখবেন?
Next article১০টি অতি দরকারি গুগল ক্রোম শর্টকাট : যা আপনার প্রয়োজন হতেই পারে
Avatar
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here