সিভিতে দক্ষতা সেকশনে যে ১০ দক্ষতা অবশ্যই সংযুক্ত করা উচিত

0
117
১০ গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা যা আপনার সিভিতে অবশ্যই সংযুক্ত করা উচিত

আপনার রিজ্যুমে/সিভিতে দক্ষতা সেকশনটি (Skill Section) দেখে নিয়োগকর্তা বুঝতে পারেন আপনার কর্মক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য কতটুকু দক্ষতা এবং সামর্থ্য রয়েছে। সাধারণত নিয়োগদাতা নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া উচিত কি-না তা নির্ধারণ করার জন্য এ অংশটি বিশেষভাবে বিবেচনা ও মূল্যায়ন করেন। রিজ্যুমে/সিভিতে দক্ষতা সেকশন নিয়োগকর্তার কাছে একজন আদর্শ প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

এই নিবন্ধে আমাদের রিজ্যুমে/সিভিতে দক্ষতা বিভাগটি ( skill section) সর্বোত্তমভাবে উপস্থাপন করার জন্য আমরা সেরা দক্ষতাগুলো শনাক্ত ও সংযুক্ত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করব। তাছাড়া আমাদের রিজ্যুমে/ সিভিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শীর্ষ ১০ গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা সম্পর্কে জানবো।

এক নজরে দেখে নিন লুকিয়ে রাখুন

দক্ষতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে অনেক আবেদনকারীই সাক্ষাৎকারে ডাক পান না। অনেকে আছেন বহুবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দিয়েছেন, কিন্তু সাক্ষাৎকারের জন্য ডাক পাননি। চাকরিতে আবেদনের আগে আপনার রিজ্যুমে/ সিভিতে সঠিকভাবে দক্ষতাগুলো হাইলাইট করার জন্য কোন কোন দক্ষতা/অভিজ্ঞতা প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকরী তা জানা অত্যন্ত জরুরি।

দক্ষতা হলো- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্য সম্পাদন করা এবং কার্যকরী ফলাফল অর্জন করার সামর্থ্য থাকা।
মানুষের দক্ষতা সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। কারিগরি ও মানবিক। আমরা পড়াশোনার মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতার (Hard Skill) নানান বিষয় ও প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে পারি। এর বাইরে বেশ কিছু দক্ষতা আছে, যা নিজে থেকেই আয়ত্ত করতে হয়, এগুলোকে মানবিক দক্ষতা বা ‘সফট স্কিল’ (Soft Skill) বলা হয়।

কারিগরি দক্ষতা বনাম মানবিক দক্ষতা (Hard Skill Vs Soft Skill)

নিয়োগকর্তারা যখন প্রার্থী নির্বাচন করেন তখন তারা কারিগরি দক্ষতা এবং মানবিক দক্ষতার সঠিক মিশ্রণ যাদের মধ্যে রয়েছে তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তাই একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে কোনগুলো কারিগরি দক্ষতা এবং মানবিক দক্ষতা সে সম্পর্কে ধারণা থাকা অত্যাবশ্যক।

১. কারিগরি দক্ষতা (Hard Skills)

কারিগরি দক্ষতা হলো প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ যা আপনি আপনার শিক্ষা, কর্ম বা জীবনের যেকোনো সময়ে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন।

কারিগরি দক্ষতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত দক্ষতাগুলো হলো-

১. দ্বিভাষিক বা বহুভাষিক (Bilingual or Multilingual)
২. ডাটাবেস ব্যবস্থাপনা (Database Management)
৩. অ্যাডোব সফ্টওয়্যার স্যুট (Adobe Software Suite)
৪. নেটওয়ার্ক সুরক্ষা (Network Security)
৫. এসইও (SEO)/ এসইএম (SEM) বিপণন
৬. পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ( Statistical Analysis)
৭. ডেটা মাইনিং (Data Mining)
৮. মোবাইল উন্নয়ন (Mobile Development)
৯. ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইন (User Interface Design)
১০. বিপণন প্রচার পরিচালনা (Market Campaign Management)
১১. স্টোরেজ সিস্টেম এবং ম্যানেজমেন্ট (Storage System and Management)
১২. প্রোগ্রামিং ভাষা; যেমন- পার্ল, পাইথন, জাভা এবং রুবি (Programming Language)

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কর্পোরেট জগতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাই যুগের সাথে সাথে নিজেদের কারিগরি দক্ষতা অর্জন ও উন্নয়ন ঘটানো পেশাগত জীবনের জন্য অত্যাবশক। নিয়োগকর্তা নিয়োগ দেয়ার সময় প্রার্থীর কারিগরি দক্ষতার দিকে প্রথমে মনোযোগ দিয়ে থাকেন। প্রার্থীর ভাষাগত দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বিপণন ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা রয়েছে কিনা সেটা বিবেচনা করা হয়। কারণ এইসব দক্ষতা নির্ধারণ করে প্রার্থী সেই কর্মক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত কি-না।

কারিগরি দক্ষতা বা হার্ড স্কিল
কারিগরি দক্ষতা হলো প্রযুক্তিগত জ্ঞান বা প্রশিক্ষণ যা আপনি আপনার শিক্ষা, কর্ম বা জীবনের যেকোনো সময়ে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অর্জন করেছেন।

২. মানবিক দক্ষতা (Soft Skill)

মানবিক দক্ষতা মানুষের এমন কিছু চারিত্রিক ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, যা অন্যের সঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে তথা মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষকে কাজ করতে শেখায়। এই দক্ষতাগুলো মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে, আস্থা বাড়াতে এবং দলগতভাবে কাজ করতে দারুণভাবে সাহায্য করে। মানবিক দক্ষতাকে ‘সামাজিক দক্ষতা’ বা Social Skill-ও বলা হয়।
উল্লেখযোগ্য মানবিক দক্ষতা বা সফট স্কিলগুলো হলো-

১. সততা (Integrity)
২. নির্ভরতা (Dependability)
৩. কার্যকর যোগাযোগ (Effective Communication)
৪. মুক্তমনা ( Open- Mindedness)
৫. দলবদ্ধ কাজ (Team Work)
৬. সৃজনশীলতা ( Creativity)
৭. সমস্যা-সমাধান ( Problem -Solving)
৮. বিশ্লেষণী চিন্তা (Critical Thinking)
৯. অভিযোজনযোগ্যতা (Adaptability)
১০. সংগঠন (Organisation)
১১. শেখার ইচ্ছা (Willingness to Learn)
১২. সহানুভূতি (Empathy)

মানবিক দক্ষতা তথা সফট স্কিলগুলো কোনো ট্রেইনিং অথবা পাঠ্যবই পড়ে অর্জন করা সম্ভব হয় না। এটি পারিপার্শ্বিকতা থেকে এবং অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন হয়। যখন কারো মাঝে সততা, সহানুভূতি, অভিযোজন ক্ষমতা থাকে, তখন তিনি খুব সহজেই দলের নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠেন। এছাড়াও সৃজনশীলতা, মুক্তমনা ও বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনা পেশাগত জীবনে সমস্যা সমাধানে সহায়তা করে। শেখার ইচ্ছা ব্যাক্তিকে তার কর্মক্ষেত্রে প্রাণবন্ত করে তোলে। ক্যারিয়ার উন্নতি করতে হলে মানবিক দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি।

অনেক সময় দেখা যায় মানবিক দক্ষতা (Soft Skill) থাকার ফলে অনেকে কারিগরি দক্ষতা খুব দ্রুত অর্জন ও বৃদ্ধি করতে পারেন। ধরুন, আপনি দলগতভাবে কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু সেখানে আপনার দলের কেউ প্রোগ্রামিং কোড ভুল করায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তখন আপনি দ্রুত সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করতে পারবেন এবং আপনার দলের অন্য সদস্যদেরও সেটা বুঝাতে পারবেন।

নিয়োগকারীরা কর্মী নিয়োগের সময় দেখেন- একজন প্রার্থীর আন্তরিকতা, সততা, সহানুভূতিশীলতা এবং সৃজনশীলতা আছে কিনা। সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারবে কি না এবং সমস্যা সমাধানে সক্ষম কি না। তাই কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি সফট স্কিল তথা মানবিক দক্ষতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিবেচ্য।

কিভাবে আপনার সেরা দক্ষতাগুলো শনাক্ত করবেন?

আপনি যদি নিশ্চিত না থাকেন যে, কোন কোন দক্ষতা আপনার ভালো; তবে আপনি আপনার রিজ্যুমে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হবেন। তাই সেরা দক্ষতাগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে আপনাকে তা শনাক্ত করতে হবে। আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা অথবা সহকর্মীরা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলতে পারবেন যে, আপনি কিসে ভালো করছেন। সেগুলো বিবেচনা করুন।
আপনার সেরা দক্ষতা নির্ধারণের কয়েকটি উপায় হচ্ছে-

১. আপনার পুরস্কার এবং কৃতিত্ব বিবেচনা করুন

আপনি কি কখনও কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বা কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য স্বীকৃতি (পুরস্কার) পেয়েছেন? যদি তা হয় তাহলে কোন গুণ আপনাকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করেছিল তা আপনার দক্ষতা হিসাবে গ্রহণ করুন এবং তা রিজ্যুমেতে সংযুক্ত করুন।

২. আপনার সহকর্মীদের কাছে জিজ্ঞাসা করুন

কখনো অন্যেরা আপনার প্রতিভা এবং দক্ষতার ক্ষেত্রগুলো ধরতে পারেন যা হয়তো আপনি খেয়াল করেননি। তাই আপনার কর্মক্ষেত্রের কোনো প্রাক্তন পরিচালক বা সহকর্মীর সাথে যোগাযোগ করুন যারা আপনার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। হতে পারে তারা আপনার সেরা দক্ষতা শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

৩. আপনি যে পেশায় / কর্মক্ষেত্রে যেতে চাচ্ছেন সেখানে কর্মরত অভিজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করুন

কোনো নিয়োগকর্তা কী কী দক্ষতা চান তা নির্ধারণ করতে আপনার যদি সমস্যা হয়, তবে ইতিমধ্যে সেই কর্মক্ষেত্রে কর্মরত কোনো পেশাজীবীর সাথে যোগাযোগ করুন। তারা কোন দক্ষতাটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সেটি জানার চেষ্টা করুন এবং কোনটি আপনার সাথে সাদৃশ্য হয় তা শনাক্ত করুন।

আপনার রিজ্যুমের (Resume) স্কিল সেকশনটি লেখার সময় শুধুমাত্র আপনার যেসব দক্ষতা ভালো সেগুলো সংযুক্ত করুন। এখনো শিখছেন অথবা পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই এমন কোনো দক্ষতা সংযুক্ত না করাই শ্রেয়।

কিভাবে আপনার রিজ্যুমে দক্ষতাগুলো তালিকাভুক্ত করবেন?

আপনার সেরা দক্ষতা শনাক্ত ও নির্ধারণের পর সেগুলো যথাযথভাবে রিজ্যুমে তালিকাভুক্ত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই যথেষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন হয়েও ভাইভার জন্য নির্বাচিত হন না। যার অন্যতম কারণ হচ্ছে- যথাযথভাবে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা রিজ্যুমে/সিভিতে তুলে ধরতে না পারা। সুতরাং, আপনার রিজ্যুমে স্কিল সেকশনটি যেন বিবেচনাযোগ্য হয় সেজন্য আপনার কোন কোন দক্ষতা তালিকাভুক্ত করবেন এবং প্রায়োরিটি কিভাবে দিবেন সেটা জানা অত্যন্ত জরুরি।

১. চাকরি বিজ্ঞপ্তির বর্ণনা পর্যালোচনা করুন এবং সেই কোম্পানি নিয়ে গবেষণা করুন

আপনার দক্ষতা হয়তো অনেকক্ষেত্রেই আছে। কিন্তু নিয়োগকর্তাদের নিকট অসংখ্য আবেদন আসে। তাই আপনার রিজ্যুমে স্কিল সেকশনটি নির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্তভাবে যতটা ভালো করে তুলে ধরতে পারবেন আপনার সুযোগ ততটাই বৃদ্ধি পাবে।

আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন তার বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন। সেখান থেকে পয়েন্ট আউট করুন কোন কোন দক্ষতা তারা চেয়েছে এবং কোন দক্ষতাগুলি আপনার সাথে মিলে যায়। এছাড়াও সেই কোম্পানির সংস্কৃতি, কার্যক্রমগুলো পূর্নমূল্যায়ন করুন। অনেকসময় চাকরির বিজ্ঞাপনে অনেক দক্ষতার উল্লেখ থাকে না কিন্তু আপনার কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষতাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণস্বরূপ- একজন মেডিক্যাল সহকারীর জন্য চাকরির বিবরণে ইলেক্ট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সফ্টওয়্যার এবং প্রোগ্রামগুলিতে সময়সূচি নিয়ন্ত্রণে দক্ষতার কথা উল্লেখ করেছে। এই কোম্পানি হয়তো টিমওয়ার্ক এবং রোগীর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয় এবং মূল্যায়ন করে। এক্ষেত্রে, সংক্ষিপ্ত আকারে আপনার সেরা দক্ষতাগুলো রিজ্যুমে নিম্নলিখিতভাবে তালিকাভুক্ত করতে পারেন:
→ ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সিস্টেম
→ রোগীর সময়সূচি নির্ধারণের সফটওয়্যার
→ দলীয় নেতৃত্ব
→ আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ
→ গ্রাহক-সেবা
যখন আপনি এভাবে আপনার দক্ষতার উল্লেখ করবেন, তখন নিয়োগকর্তা বুঝতে পারবেন আপনি ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সিস্টেম ও সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ এবং রোগীর সেবা ও সন্তুষ্টির জন্য তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে পারদর্শী যা চাকরির বিবরণে চেয়েছিল। এতে করে আপনার রিজ্যুমে সংক্ষিপ্ত ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং আপনি নির্বাচিতও হবেন পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।

২. একটি স্কিল ফরম্যাট নির্ধারণ করুন

আপনার রিজ্যুমেতে দক্ষতাগুলো কোথায় সংযুক্ত করবেন এবং কিভাবে তা বিন্যাস করবেন সেটা নির্ধারণ করুন। এতে করে আপনার সেটি আরও নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। রিজ্যুমে ফরম্যাট আমেরিকান পদ্ধতিতে তিন প্রকার। ফাংশনাল, ক্রনোলজিক্যাল এবং হাইব্রিড ফরম্যাট।

আপনার রিজ্যুমেতে কোথায় কিভাবে দক্ষতার উল্লেখ করবেন সেই ফরম্যাট কয়েকটি অপশন হিসেবে পেতে পারেন:

ক. দক্ষতাগুলো ফাংশনাল রিজ্যুমেতে তালিকাভুক্ত করুন

ফাংশনাল রিজ্যুমেতে ফরম্যাট মূলত দক্ষতা ভিত্তিক (Skill Based)। যাদের কর্মক্ষেত্রে কোনো পেশাগত অভিজ্ঞতা নেই অথবা যারা পেশা/ক্যারিয়ার পরিবর্তন করছেন তাদের ক্ষেত্রে এই ফরম্যাট কার্যকরী। অর্থাৎ আপনি যদি আপনার পেশা পরিবর্তন করে থাকেন এবং আপনার ব্যাপক অভিজ্ঞতা না থাকে তবে স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা সংযুক্ত করাই হলো ফাংশনাল রিজ্যুমে।

উদাহরণস্বরূপ:

দক্ষতা (Skills)
• নেতৃত্ব দক্ষতা
ক্লাবে/কর্মক্ষেত্রে দলীয় কাজে নেতৃত্ব দেয়া এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন হয়েছে। দলের সকলের সাথে সমন্বয় করে ঝুকি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়েছে।
• ব্যবস্থাপনা দক্ষতা
কর্মক্ষেত্রে/ক্লাবে সফলভাবে প্রকল্প পরিকল্পনাপূর্বক গ্রহণ এবং সংগঠনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করেছি। কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীসহ সকলের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্পের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা হয়েছে।
• গ্রাহক সেবা দক্ষতা
কর্মক্ষেত্রে গ্রাহকদের সমস্যা যথাযথভাবে শুনে সমস্যার সমাধান দেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রাহক-সেবা প্রশিক্ষণ পর্বের মাধ্যমে গ্রাহকদের ৬০% দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধান নিশ্চিত হয়েছে।

ফাংশনাল রিজ্যুমেতে নিয়োগকর্তা মূলত স্থানান্তরযোগ্য সফট স্কিল (Soft Skill) বিবেচনা করে থাকেন। কারণ অধিকাংশ সময় দেখা যায় যারা পেশা পরিবর্তন করছেন অথবা নতুন চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন তারাই এ ধরনের রিজ্যুমে লিখে থাকেন। তাই চেষ্টা করবেন স্থানান্তরযোগ্য এবং সফট স্কিলগুলো (Soft Skills) যথাযথভাবে তুলে ধরতে।

খ. একটি পৃথক বিভাগে আপনার দক্ষতা তালিকাভুক্ত করুন

এই বিকল্প পদ্ধতিটি তখন ব্যবহার করতে পারেন যখন আপনি ক্রনোলজিক্যাল রিজ্যুমে (Chronological Resume) লিখবেন। অর্থাৎ যখন আপনার নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে কিন্তু আপনি নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা তুলে ধরতে চাইছেন যার মাধ্যমে আপনি নিজেকে আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

আপনার রিজ্যুমের দক্ষতা বিভাগে, কাজের সাথে সম্পর্কিত দক্ষতা সংযুক্ত করুন এবং আলাদা একটি বিভাগে অতিরিক্ত দক্ষতার তালিকা সংযুক্ত করতে পারেন। যা হয়তো চাকরির নিয়োগবিজ্ঞপ্তি বিবরণে বলা হয়নি, কিন্তু সেই কোম্পানির অথবা কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত।

ধরুন, আপনি কোনো মেডিক্যাল সহকারী অফিসার হিসেবে আবেদন করছেন। এক্ষেত্রে হয়তো আপনার চাকরি সম্পর্কিত দক্ষতাগুলো হলো-
→ ইলেকট্রনিক মেডিক্যাল রেকর্ড সিস্টেম
→ রোগীর সময়সূচি নির্ধারনের সফটওয়্যার
→ গ্রাহক সেবা
→ টিমওয়ার্ক
আপনি অতিরিক্ত দক্ষতাগুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করতে পারেন:

অতিরিক্ত দক্ষতা
→ আন্তঃব্যাক্তিক যোগাযোগ স্থাপন।
→ সমস্যা সমাধান এবং ব্যবস্থাপনা পূর্ব অভিজ্ঞতা।

যখন আপনি আলাদাভাবে আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতাগুলো হাইলাইট করবেন, তখন নিয়োগকর্তা আপনার রিজ্যুমে দেখে আগ্রহী হবেন বিবেচনা করতে।

গ. আপনার দক্ষতাগুলো বর্ণনাসহ পূর্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন

আপনি যে পদ্ধতিতেই রিজ্যুমে/সিভি লিখেন না কেন, দক্ষতা উল্লেখ এবং তালিকাভুক্ত করার সময় পূর্বের কর্মক্ষেত্রে যে নির্দিষ্ট পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন তার অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে বর্ননা করুন। এটি আপনার রিজ্যুমেকে আরও নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করে তোলে। নিয়োগকর্তা বুঝতে পারেন আপনার ঠিক কোন কোন দক্ষতা সত্যিকার অর্থেই রয়েছে এবং আপনি আবেদনকৃত পদটির জন্য যোগ্য কি-না।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি আপনি দক্ষতাগুলিতে “প্রকল্প ব্যবস্থাপনা” এবং “সময় ব্যবস্থাপনা” অন্তর্ভুক্ত করেন তবে আপনি একটি বাস্তব উদাহরণ প্রদান করে এটিকে চিত্রিত করতে পারেন।

যেমন: “২০১৮ সালের প্রথমার্ধে তিনটি পৃথক দলজুড়ে ছয়টি প্রকল্প সফলভাবে পরিচালিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে ।”

কাজের বিবরণীর ভিত্তিতে তালিকার জন্য কারিগরি দক্ষতা (Hard-Skills) সহজেই নির্ধারণ করা যায়। কিন্তু প্রাসঙ্গিক সফট স্কিল (Soft Skills) নির্বাচন করা কঠিন। এক্ষেত্রে আপনার কর্মক্ষেত্রে কোন কাজ করার সময় কোন কোন বিষয়গুলো সহায়তা করেছে এবং কোনগুলো আপনার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে সেটা বিবেচনা করুন। তাহলে আপনার রিজ্যুমেতে তা তুলে ধরতে সুবিধা হবে।

১০টি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা যা আপনার রিজ্যুমে/সিভিতে অবশ্যই সংযুক্ত করা উচিত

কোনো চাকরির আবেদনের সময় স্কিল সেকশনে প্রার্থী অনেককিছুই লিখে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে প্রতিযোগিতার বাজারে নিয়োগকারীরা কয়েকশ সিভি/রিজ্যুমের মধ্য থেকে মাত্র ১০/১২ জনকে নির্বাচন করেন। তাই আপনার রিজ্যুমে/সিভি যেন অন্য দশজনের মতো না হয় এবং নিয়োগকর্তাদের নিকট আপনার রিজ্যুমেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

নিম্নোক্ত ১০টি দক্ষতা সংযুক্ত করলে আপনার রিজ্যুমে/সিভিটি নিয়োগকর্তা বিবেচনায় নেবেন বলে আশা করা যায়।

১. সক্রিয় শ্রবণযোগ্যতা ( Active Listening)
২. যোগাযোগ দক্ষতা ( Communication Skills)
৩. কম্পিউটার দক্ষতা (Computer Skills)
৪. গ্রাহক সেবা (Customer Service)
৫. আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতাগুলো (Interpersonal Skills)
৬. নেতৃত্ব ( Leadership)
৭. ব্যবস্থাপনা দক্ষতা (Management Skill)
৮. সমস্যা সমাধান (Problem Solving)
৯. সময় ব্যবস্থাপনা (Time Management)
১০. স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা (Transferable Skills)

১. সক্রিয় শ্রবণযোগ্যতা ( Active Listening)

সক্রিয়ভাবে কারো কথা শোনা অর্থাৎ মনোযোগী শ্রোতা হওয়া পেশাগত জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।
সক্রিয় শ্রোতা হওয়ার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উন্নয়নে কাজ করতে পারেন :
→ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা
→ নোট নেয়া
→ তৎপরতা /সময়নিষ্ঠা
→ মৌখিক /অমৌখিক যোগাযোগ

আপনি যদি মনোযোগী শ্রোতা হয়ে থাকেন তাহলে বক্তার মেসেজ বুঝতে পারবেন এবং তার কথায় যথাযথ সাড়া দিতে সক্ষম হবেন। যখন আপনি সক্রিয়ভাবে তাদের কথা শুনবেন তখন আপনার সহকর্মী বুঝতে পারবে আপনি সহকর্মীদের সাথে আলোচিত সেই বিষয়ে /কাজ করতে আগ্রহী।

২. যোগাযোগ দক্ষতা (Communication Skills)

মনোযোগ দিয়ে শোনা, কথা বলা, পর্যবেক্ষণ এবং সহানুভূতির সাথে জড়িত দক্ষতাই যোগাযোগ দক্ষতা। যা আপনার যেকোনো ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে গ্রাহক, ক্রেতা, বিক্রেতা, অন্য প্রতিষ্ঠানের লোকজন, সহকর্মী, নিয়োগকর্তাসহ আরও অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করতে হবে।ভাষাগত দক্ষতা, ইতিবাচক শারীরিক ভাবভঙ্গি, লেখার দক্ষতা, গল্প বলার দক্ষতা, শোনার আগ্রহ, সাক্ষাৎকার গ্রহণসহ ই–মেইল লেখা, নিজের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য যোগাযোগ দক্ষতার ভূমিকা অতুলনীয়।

যোগাযোগ দক্ষতা আয়ত্ত করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রেখে নিজেকে বিকশিত করার প্রচেষ্টা করতে পারেন:
→ সক্রিয় শ্রবণ
→ গঠনমূলক সমালোচনা
→ আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ
→ পাবলিক স্পিকিং
→ মৌখিক / অমৌখিক যোগাযোগ
→ লিখিত যোগাযোগ

ভালো যোগাযোগ করতে আপনাকে অবশ্যই একজন ভালো শ্রোতাও হতে হবে। গ্রাহকসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি মনোযোগ দিয়ে তাদের সমস্যা শোনা। প্রত্যেক নিয়োগকারীই চান তাঁর প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মী নিয়োগ দিতে, যাঁরা সবার সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন।

৩. কম্পিউটার দক্ষতা (Computer Skills)

বর্তমানে কিছু সফ্টওয়্যার দক্ষতা রয়েছে যা নিয়োগকর্তারা কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন। যেমন- স্প্রেডশিট ব্যবহার করা বা নির্দিষ্ট কোডিংয়ের ভাষা জানা ইত্যাদি তথ্যপ্রযুক্তির আধুনিক যুগে এ সংক্রান্ত মৌলিক জ্ঞান আপনাকে একধাপ এগিয়ে রাখবে অন্যদের তুলনায়।
কম্পিউটার দক্ষতার মধ্যে রয়েছে-
→ টাইপিং / ওয়ার্ড প্রসেসিং
→ কোডিং ভাষায় সাবলীলতা
→ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
→ স্প্রেডশিট
→ ইমেল ম্যানেজমেন্ট

কম্পিউটার সম্পর্কিত বেসিক জ্ঞান থাকলে এবং সফটওয়্যার ব্যবহারে সাবলীল হলে অবশ্যই সেটা আপনার রিজ্যুমে/সিভিতে উল্লেখ করতে ভুলবেন না। এমনকি যদি এটি চাকরি রিলেটেড না হয় তবুও অতিরিক্ত দরকারি দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করুন।

৪. গ্রাহক সেবা (Customer Service)

গ্রাহকের সাথে আপনি কতটা ইতিবাচকভবে মিথস্ক্রিয়া ও যোগাযোগ করতে পারছেন এবং তাদের নিকট সেবা পৌঁছে দিতে পারছেন সেই দক্ষতা হচ্ছে গ্রাহক সেবা দক্ষতা।
সম্পর্কিত গ্রাহক পরিষেবা দক্ষতা হলো-
→ সক্রিয় শ্রবণ
→ সহানুভূতি
→ আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা
→ সমস্যা সমাধান
→ নির্ভরযোগ্যতা

সাধারণত, গ্রাহক সেবা দক্ষতা সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে। গ্রাহক পরিষেবাকে অনেক ক্ষেত্রেই একটি “মানবিক দক্ষতা (Soft Skill)” হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সক্রিয় শ্রবণ ও সহানুভূতিশীলতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে গ্রাহকের সমস্যার ইতিবাচক সমাধান দেয়ার মাধ্যমে দক্ষতার প্রতিফলন ঘটে । নিয়োগকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রাহক সেবা দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। কারণ এর মাধ্যমে আপনি কর্মক্ষেত্রে তাদের সেবা ঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারছেন কি-না সেটা যাচাই করা হয়।

৫. আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা (Interpersonal Skills)

সাধারণভাবে আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বলতে অপর ব্যক্তির প্রতি এক ধরনের ইতিবাচক মনোভাবকে বুঝায়, যেখানে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি প্রশংসা ও সহযোগিতা মূলক মনোভাব বা আচরণ প্রকাশ করে থাকেন।

দলীয়ভাবে কাজ করা এবং দলগুলোর নেতৃত্ব প্রদান ও সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কিত আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার মধ্যে রয়েছে-
→ যোগাযোগ
→ সহানুভূতি
→ নমনীয়তা
→ নেতৃত্ব
→ ধৈর্য

একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আপনার আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা উল্লেখ করলে নিয়োগকর্তা আপনার রিজ্যুমে/সিভিটি বিবেচনায় নেবেন।

৬. নেতৃত্ব (Leadership)

প্রতিযোগিতামূলক এই চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে নেতৃত্ব প্রদানের দক্ষতা থাকা অনিবার্য। নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা হলো- একটি টিমকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য অনুপ্রেরণা দেয়ার ক্ষমতা এবং সঠিকভাবে সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা।

নেতৃত্ব দক্ষতাগুলো হচ্ছে-
→ শেখানো ও পরামর্শ দেয়ার ক্ষমতা
→ নমনীয়তা
→ ঝুঁকি গ্রহণ
→ দল গঠন
→ সময় ব্যবস্থাপনা

নেতৃত্ব প্রদানের দক্ষতা যেকোনো ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনের শুরুতেই আপনি পুরো দলের বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন, সেটা আশা না করা হলেও নিয়োগকারীরা অবশ্যই যাচাই করতে চান যে আপনি ভবিষ্যতে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারবেন কি-না।

৭. ব্যবস্থাপনা দক্ষতা (Management Skills)

ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এমন এক দক্ষতা যার মাধ্যমে বিবেচিত হয় আপনি সম্পূর্ণ কাজটি কতটা সাবলীলভাবে সম্পন্ন করছেন। এটি এমন এক গুণ যা আপনাকে কাজ এবং লোক উভয়কেই পরিচালনা করতে সহায়তা করে। একজন ভালো ম্যানেজার সংগঠিত, সমানুভূতিশীল এবং কোনো দল বা প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে যোগাযোগ দক্ষতাসম্পন্ন। ব্যবস্থাপকদের সফট স্কিল এবং তাদের কাজ সম্পর্কিত কিছু প্রযুক্তিগত দক্ষতা উভয় ক্ষেত্রেই দক্ষ হতে হবে। বেশিরভাগ ব্যবস্থাপনা দক্ষতা পাঁচটি মৌলিক কাজের সাথে সম্পর্কিত-
→ পরিকল্পনা
→ সংগঠন
→ সমন্বয়
→ নির্দেশনা
→ তত্ত্বাবধান

নিয়োগকর্তা প্রার্থী নির্বাচনের সময় নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতার মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বিবেচনা করেন। কারণ অনেকেই ব্যবস্থাপনা দক্ষতা থাকার ফলে নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা অর্জন করে ফেলে। আপনি কোনো কাজ আপনার সহকর্মী অথবা দলের সাথে কতটা পরিকল্পিতভাবে সমন্বয় করে করছেন এবং নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান মেনে চলছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি কতটা আপনার কাজের প্রতি ডেডিকেটেড। তাই রিজ্যুমে ব্যবস্থাপনা দক্ষতার উল্লেখ আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেতে একধাপ এগিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখবে।

৮. সমস্যা সমাধান (Problem -Solving)

সমস্যার উৎস নির্ধারণ এবং দ্রুত কার্যকরী সমাধান বের করার দক্ষতাই হলো সমস্যা সমাধান দক্ষতা। যা যেকোনো ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে মূল্যবান একটি দক্ষতা। আপনার কর্মক্ষেত্রে সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে বিস্তারিত তথ্যের দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং ধৈর্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
নিম্নোক্ত পাচটি ধাপের মাধ্যমে আপনি সমস্যার উৎস বের করতে পারবেন এবং তার কার্যকরী সমাধানের পথ ও খুঁজে পাবেন:
→ বিস্তারিত তথ্যের দিকে মনোযোগ
→ সহযোগিতা
→ যোগাযোগ
→ ধৈর্য
→ গবেষণা

নিয়োগকর্তা নিয়োগের সময় দেখবেন আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে শুধু তা আপনার উর্ধ্বতন কর্মকতাদের অবগত করবেন নাকি সেই সাথে কার্যকরী সমাধানও দিতে পারবেন৷ সমস্যার কার্যকরী সমাধান দেয়ার দক্ষতা থাকলে কোনো কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় যা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আপনার রিজ্যুমেতে এই দক্ষতা থাকলে আপনার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

৯. সময় ব্যবস্থাপনা (Time Management)

নিয়োগকর্তারা এমন কর্মীদের সন্ধান করেন যারা কর্মক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে পারে। তাই আপনার রিজ্যুমেতে এই দক্ষতা থাকাটা কতটা মূল্যবান তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। ভারসাম্য বজায় রেখে সময় পরিচালনার দক্ষতার মাধ্যমে আপনি আপনার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে সমর্থ হবেন। আপনার সময়কে কিভাবে পরিচালনা করবেন তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপনার ব্যক্তিগত, দল এবং সংস্থার লক্ষ্যগুলি গভীরভাবে বুঝতে হবে।
সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা হলো-
→ কার্য সম্পাদন
→ ফোকাস
→ লক্ষ্য নির্ধারণ
→ সংগঠন
→ অগ্রাধিকার

সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার দক্ষতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় আপনি আপনার কাজ নিয়ে কতটা ডেডিকেটেড ও দায়িত্বশীল। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়ের মূল্য অত্যাধিক৷ তাই সঠিকভাবে সময় ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আপনার জীবনে সফলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১০. স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা (Transferable Skills)

স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা তখনই প্রয়োজন হয় যখন আপনি আপনার চাকরি/পেশা পরিবর্তন করেন। পেশা পরিবর্তনের সময় পাঁচটি জিনিসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
→ উচ্চাকাঙ্খা
→ সৃজনশীলতা
→ সহানুভূতি
→ নেতৃত্ব
→ দলবদ্ধভাবে কাজ করতে পারা
আপনার মধ্যে যখন উচ্চাকাঙ্খা, সৃজনশীলতা, সহানুভূতি থাকবে তখন আপনি যেকোনো পেশা অথবা ক্যারিয়ারেই দ্রুত সফলতা অর্জন করতে পারবেন। এছাড়া নেতৃত্ব প্রদানের ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার দক্ষতা প্রতিটি ক্যারিয়ারেই প্রযোজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি যখন পেশা পরিবর্তন করবেন তখন নিয়োগকর্তা আপনার মাঝে স্থানান্তরযোগ্য দক্ষতা আছে কি-না তা যাচাই করতে পারেন।

রিজ্যুমে/সিভিতে সেরা দক্ষতা সংযুক্ত ও নির্বাচন করা প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের ধরন, ক্যারিয়ার লেভেল, শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী আলাদা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, একজন বাণিজ্যিক ট্রাক ড্রাইভারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা মার্কেটিং ম্যানেজারের থেকে নিশ্চয়ই আলাদা হবে।

আপনি কোনো চাকরিতে আবেদন করার আগে, নিয়োগকর্তারা কোন দক্ষতা গুরুত্ব দিচ্ছেন সেটা পর্যালোচনা করার জন্য সময় নিন এবং আপনার সাথে কোন কোন দক্ষতা মিলে যায়, তা বের করুন। নিয়োগকর্তা প্রতিটি রিজ্যুমে দেখার জন্য গড়ে ২-৩ মিনিট সময় দিয়ে থাকেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য রিজ্যুমে বিবেচনা করে এমন কিছু প্রার্থী বের করা যারা তাদের কোম্পানি/সংগঠনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য যথাযথ পরিশ্রম করতে পারবে এবং সফলতা অর্জন করতে সমর্থ হবে। সুতরাং, আপনার রিজ্যুমেতে যত সংক্ষিপ্ত এবং সুস্পষ্টভাবে প্রয়োজনীয় দক্ষতা তুলে ধরতে পারবেন, তা প্রমাণ করবে আপনি সেই পদটির জন্য যোগ্য ও আদর্শ প্রার্থী।

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here