ফান্ডের জন্য বিজনেস আইডিয়া পিচ করবেন কিভাবে?

0
25
ফান্ডের জন্য বিজনেস আইডিয়া পিচ করতে হয় কিভাবে?

ইকবাল বাহার জাহিদ : আপনার একটি ভালো আইডিয়া আছে কিন্তু বিজনেস করার টাকা নেই। আপনি সেই আইডিয়াকে ইনভেস্টরদের কাছে প্রেজেন্ট করে ও আপনার আইডিয়া সেল করে ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জোগাড় করতে পারেন।
অনেকের খুব ভালো আইডিয়া শুধুমাত্র বুঝিয়ে ও গুছিয়ে বলতে না পারার কারণে সুপ্ত থেকে যায় বা হারিয়ে যায়। সেজন্য একজন স্বপ্নবাজ মানুষের অবশ্যই জানা উচিৎ কিভাবে আপনার স্বপ্নের আইডিয়াটা পিচ করতে হয়।

আপনার মাথায় যখনই কোনো আইডিয়া আসে তা অন্যকে বোঝানোর জন্য বা প্রেজেন্ট করার জন্য ৫টি বিষয় আপনাকে তৈরি করতে হবে-

১। সমস্যা : প্রথমেই যে সমস্যাটা সমাধান আপনি করতে যাচ্ছেন তা একটা গল্প আকারে ছোট করে বলবেন।

২। সমাধান : আপনার আইডিয়াটা কোনো একটা সমস্যার সমাধান হতে হবে। অথবা কোন একটা পুরনো সমস্যাকে সহজ করে দিতে পারে বা কিছুটা আধুনিকীকরণ করতে হবে। সেই সমাধান প্রক্রিয়াটির বাস্তবভিত্তিক ধারণা বলবেন।

৩। ফান্ড : এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে কত টাকা লাগবে? আপনি নিজে কোনো অংশ ইনভেস্টমেন্ট করবেন কিনা, নাকি পুরোটাই ইনভেস্টরের কাছে চাইবেন, নাকি লোনও লাগবে – তা প্রেজেন্টেশানে থাকতে হবে।

৪। মার্কেট অ্যানালাইসিস : যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসটি আপনি বাজারে আনছেন, তা ইতিমধ্যেই মার্কেটে আছে কি-না, থাকলে তাঁরা কেমন করছে? ভালো করলে বা না করলে– কেন ভালো করছে বা করছে না? আপনার আর কোনো কম্পিটিটর আছে কি-না, মার্কেট সেগমেন্ট কী হবে, কারা কাস্টমার হবে? প্রাইস কত হবে? কেন আপনি বেস্ট – এটা নিয়ে তথ্য ও ফিগার থাকতে হবে।

৫। ফিনান্সিয়াল এনালাইসিস : মার্কেটে আসা পর্যন্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কত লাগবে, কবে ব্রেক ইভেনে আসবে, Return on Investment (ROI) কত? কবে থেকে সেলস শুরু হবে, মাসিক সেলস ও খরচ কত, ৩ বছরের লাভ ও ক্ষতি – এই সব কিছু নিয়ে তথ্য ও ফিগার থাকতে হবে প্রেজেন্টেশানে।

আরো পড়ুন :  বুক রিভিউ কী ও কেন? কিভাবে লিখবেন?

এই আইডিয়া পিচ বানাতে ও প্রেজেন্ট করতে গিয়ে যে ৭টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে-
১। প্রেজেন্টেশানটা অবশ্যই আপনি নিজে বানাবেন এবং যেখানে যেখানে অন্যের সাহায্য নিতে হয় নিবেন।

২। আপনি হয়তো সেলসে ভালো কিন্তু ফাইনান্সিয়াল এনালাইসিসে ভালো না, তাহলে বিষয়টা ভালো করে বুঝে নিবেন। একেবারেই না বুঝলে টিম হিসেবে প্রেজেন্ট করবেন, যদিও সেই সুযোগ আপনি না-ও পেতে পারেন।

৩। উপরের ৫টি পয়েন্ট বোঝানোর জন্য আপনি ৩-৫ মিনিট সময় পাবেন তাই পুরো বিষয়টি বার বার প্র্যাকটিস করে নিবেন। এবং সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন ও সময় মতো শেষ করবেন।

৪। বিদেশিরা কেউ না থাকলে ইংরেজিতে প্রেজেন্ট করতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। আপনি বাংলাতেও বলতে পারেন।

৫। সারাক্ষণ আপনার পিঠ দেখিয়ে স্লাইডের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন না। তাতে আপনাকে খুব কনফিডেন্ট মনে হবে না। যাদের উদ্দেশে প্রেজেন্ট করবেন, তাঁদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন।

৬। একটা পাঞ্চ লাইন দিয়ে ক্লোজিং করার চেষ্টা করবেন, যাতে আপনার আদর্শ, সততা, দর্শন ও কনফিড্যান্স ফুটে উঠে।

৭। প্রেজেন্টেশান শেষে জাজ বা ইনভেস্টরের যদি কোনো প্রশ্ন থাকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তার উত্তর দিবেন। যাতে তাঁদের মনে হয় আপনি আপনার স্বপ্নের আইডিয়া নিয়ে যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করেছেন।

লেখক : উদ্যোক্তা; প্রতিষ্ঠাতা, নিজের বলার মতো একটি গল্প ফাউন্ডেশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here