পণ্যের দাম নির্ধারণে যে ভুলটি করেন নতুন ব্যবসায়ীরা

0
17 বার পঠিত
পণ্যের দাম নির্ধারণ

মো. বাকীবিল্লাহ : করোনাকালে যারা নতুন ব্যবসায়ী। একটু শুনুন…..। ইচ্ছা মতো কম দামে দামে পণ্য বিক্রি করে বাজার নষ্ট করবেন না। বলতে পারেন, আমি পারলে আপনার সমস্যা কী?

সমস্যা আছে। ব্যবসায়ে নতুন তো? তাই অনেক কিছুৃই বোঝেন না আপনি। কয়েকদিন পর আপনি আর ব্যবসায়ে টিকে থাকবেন না। আপনি লস খেয়ে ব্যবসা ছেড়ে দেবেন। সমস্যায় পড়বে প্রকৃত ও নিয়মিত ব্যবসায়ীরা। কাস্টমার তাদেরকে বলবে অমুকে কম দামে পণ্য দিতো, আপনি বেশি নেন কেন?

ধরুন আপনি একটি পণ্য প্রতিপিস ১০০ টাকা করে ৫০০ পিস কিনেছেন। দাম লেগেছে ৫০,০০০ টাকা। ভাবছেন প্রতিপিস ১১০ টাকা বেচলেই তো আমার ১০ টাকা করে লাভ হলো। মোট লাভ ৫০০০ টাকা। আসলে ব্যাপারটা তা না।

আপনার ট্রান্সপোর্ট কস্ট আছে। অন্য আরো কিছু খরচ আছে। কিছু প্রডাক্ট নষ্ট হবে। কিছু টাকা বাকিও পড়তে পারে। সেজন্য প্রকৃতপক্ষে আপনার পণ্যের দাম কিন্তু ৫০ হাজার না। বরং এর সাথে আরো ন্যূনতম ৫% ধরলে ২৫০০ টাকা। তার মানে মোট দাম পড়লো ৫২,৫০০ টাকা।

এখন দেখা গেলো আপনার ১৫০ পিস এখনো বিক্রি হয়নি। মানে আপনি বিক্রি করেছেন ৩৫০ পিস। এতে আপনার মূলধন ফিরে এসেছে- (১১০*৩৫০)=৩৮৫০০ টাকা। মানে আপনার মূলধন ফিরে আসতেই ১৪,০০০ টাকা বাকি আছে। এ টাকা আসবে যদি ওই ১৫০ পিস বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু সেটা কবে বিক্রি হবে তা বলা মুশকিল।

এখন ধরুন, আপনি আবার মালামাল কিনলেন আপনার কাছে থাকা ৩৮৫০০ টাকা দিয়ে। সেখানেও ঠিক আগের মতো ঘটনা ঘটবে। দেখা যাবে আপনার কিছু পণ্য থেকে যাবে। এভাবে আপনার পণ্যের স্টক বাড়বে। এছাড়া আপনার যখন হাতখরচ দরকার হবে তা-ও এখান থেকে অল্প স্বল্প নেবেন। এভাবে কয়েকবার কেনাবেচা শেষে দেখবেন আপনার হাতে আর টাকা নেই। টাকার বদলে আছে পণ্য।

কিন্তু পণ্য তো চাইলেই আর বিক্রি করতে পারবেন না। খরিদদারের কিনতে হবে তো! খরিদদার চাইবে নতুন পণ্য। কিন্তু আপনার হাতে তো টাকা নেই। নতুন পণ্য কিনতে পারছেন না। খরিদদারও পাচ্ছেন না। ফলে অনিবার্যভাবে আপনার ব্যবসা বন্ধ হবে। আপনার হাতে থাকা মালামাল তখন হয় অর্ধেক দামে বেচতে হবে। অথবা অারো কমে ছেড়ে দিতে হবে। মাঝখান থেকে আপনার বেশ কিছু টাকা লস হবে।

এখন পণ্য যদি কাঁচামাল বা অন্য কিছু হয়, তার ক্ষেত্রেও এই ঘটনার কাছাকাছি কিছু একটা ঘটবে।

এবার দেখুন- আপনি যদি উল্লিখিত পণ্য ১৪০ টাকা করে বিক্রি করতেন, তবে কী হতো। ৩৫০ পিস বিক্রি করে আপনি পেতেন ৪৯ হাজার টাকা। সে টাকার পণ্য কিনে বিক্রি করতেন। সাথে আগের কিছু পণ্য বিক্রি হলে অন্তত ব্যবসা চালানোর মতো টাকা আপনার হাতে আসতো। আপনি দীর্ঘদিন ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারতেন। আপনার সুনাম সুখ্যাতির সাথে সেলও বাড়তো। তখন আর প্রথমবারের মতো ১৫০ পিস অবিক্রিত থাকতো না। ফলে আপনার মূলধন ফিরে আসতো। এবং কিছু টাকা নিয়মিত প্রফিটও করতে পারতেন। ফলে আপনার ব্যবসাটা স্থায়ী হতো। অন্যদেরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো না।

যা-ই হোক, অনেক বড় লেখা লিখে ফেললাম। নিজের অভিজ্ঞতাও কিছুটা কাজে লেগেছে। লেখাটি ভালো লাগলে বা কাউকে জানাতে চাইলে শেয়ার করুন। আপনার কোনো কথা থাকলে জানান মন্তব্যে। ধন্যবাদ শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য।

লেখক : উদ্যোক্তা, ওয়েব ডেভেলপার, এসইও পরামর্শক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here