গল্প হলেও সত্যি! বাঙালিরা ব্যবসায় কেন পিছিয়ে?

কেউ কষ্ট করে ব্যবসা দাঁড় করালেও, পরবর্তী প্রজন্ম কেন অনেক ক্ষেত্রেই ধরে রাখতে পারে না?

0
বাঙালিরা ব্যবসায় কেন পিছিয়ে

একটা গল্প বলি। পাশাপাশি দুটো দোকান, একটি এক সর্দারের অন্যটি এক বাঙ্গালির। এক ভদ্রলোক প্রথমে বাঙ্গালির দোকানে যান এবং একটি স্যাম্পল দেখিয়ে বলেন যে, এই রকম জিনিস তাঁর ১০০ পিস চাই তিনদিনের মধ্যে।

বাঙ্গালিটি হিসেব করে, সকালে কাঁচা বাজার করে ফিরতে ফিরতে আটটা। তারপর চা খবরের কাগজ শেষ করতে নয়টা। তারপর স্নান আর জলখাবার খেয়ে দোকান খুলতে খুলতে খুব তাড়াতাড়ি হলেও এগারটা। তারপর একটায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাওয়া এবং একটু ভাতঘুম দিয়ে দোকান খুলতে খুলতে চারটা। বিকেলের চা খেতে মোটামুটি আধঘণ্টা। এরপর রাত আটটায়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরা আর রাতের খাবার খেয়ে ঘুম।

তিনি বললেন, না পারব না। অন্তত সাত দিন তো লাগবেই। ভদ্রলোক বললেন কাজটা খুবই জরুরি। আর তিনদিনের মধ্যে না দিলে একটা বড় কট্রাক্ট হাত ছাড়া হয়ে যাবে। তিনি রিকোয়েস্ট করলেন “দেখুন না পারবেন কি-না, এটা খুবই জরুরি। বাঙ্গালিটি বলল- না ভাই, পারলাম না দুঃখিত। খুব তাড়াতাড়ি হলে বড়জোর পাঁচ দিনে দিতে পারি, সকালে না হয় কাগজ দেখব না।

ভদ্রলোকটি এরপর সর্দারের দোকানে যান এবং সর্দারকেও সেই একই কথা বলেন যে তিনদিনের মধ্যে তাঁর ১০০ পিস চাই।

সর্দার কোনো কিছু চিন্তা না করেই বললেন- হয়ে যাবে কোনো চিন্তা নেই। তিন দিনের মাথায় ভদ্রলোক ডেলিভারি নেওয়ার সময় জিজ্ঞাসা করলেন, “কিভাবে করলেন? বাঙ্গালি ভদ্রলোক তো পাঁচ দিন চেয়েছিলেন”।

সর্দার বললেন- সেরকম কিছু না। আমি স্ত্রীকে বললাম “তিনদিন একটু কষ্ট কর, আমার দুবেলার খাবারটা দোকানেই দিয়ে যা।” আমি দিন রাত্রি জেগে কাজ করলাম, ভাবলাম যদি কাজটা সময়মতো দিতে পারি, তাহলে আপনার সুবিধা হবে। আপনি আরো অর্ডার পাবেন, আর যেহেতু আপনি আমার কাজের জন্য অর্ডার পাচ্ছেন, সেগুলোও আমাকে দিয়েই নিশ্চয় করাবেন, তাতে আমারই লাভ কি বলেন?

ব্যাস এবার বাসায় গিয়ে একদিন পুরো ছুটি নিয়ে কষে ঘুম লাগাব আর পরিবারের সাথে সময় কাটাব।

আশাকরি আপনার প্রশ্নের উত্তর এর মধ্যে পাওয়া যাবে।

উত্তর দিয়েছেন : সব্যসাচী সেন

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleরূপালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার নিয়োগ
Next articleশুধু অলসদের জন্য এ স্কলারশিপ!
Avatar
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here