যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা শেষে ২ বছর কাজের সুযোগ

/ ৮১ বার পঠিত

উচ্চশিক্ষা, বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধাসহ কর্মস্থান আর উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এক সময় পছন্দ তালিকার শীর্ষে ছিল যুক্তরাজ্য। সেই সময় যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা ও পাশাপাশি দুই বছরের কাজের সুযোগ পেতেন সব শিক্ষার্থী। তবে ২০১২ সালে যুক্তরাজ্য সরকার অভিবাসনের বিপরীতে অবস্থান নিলে বাইরে থেকে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

তবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর হচ্ছে, সম্প্রতি নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে যুক্তরাজ্য সরকার। দীর্ঘ সাত বছর পর চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সেখানে থাকা এবং বিভিন্ন কারণে যাওয়া অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। পড়াশোনা শেষে দুই বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের কর্মসংস্থানের ওপরও থাকছে না কোনো নিষেধাজ্ঞা।

তবে ২০২০ সালে যারা যুক্তরাজ্যে স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে যাবেন, নতুন অভিবাসন নিয়মের অধীনে তারা এই সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নতুন অভিবাসন নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলে, শুধুমাত্র এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীরাই এই সুযোগ পাবেন। অভিবাসন নিয়ম বদলের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিজেদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবেন এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের কর্মজীবন শুরু করতে পারবেন।’

যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সমাপনের পর চাকরির সুযোগকে ‘পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট’ (পিএসডব্লিউ) বলা হয়। যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা, জীবনযাপন কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় এতদিন সেখানে পড়াশোনা শেষে অবস্থা করা কঠিন ছিল। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি ও পরে দুই বছর কাজ করলে সেখানে পড়ালেখার খরচের অনেকটাই সহনীয় হয়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশা বিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী ব্রিটিশ বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান কনসালটিং হাব (www.consultinghub.uk) -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহমুদুল হক বলেন, বিদেশে অধ্যয়ন যে কারও জীবনের জন্য একটি প্রধান মাইলফলক, তাই জেনে বুঝে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। ‘ব্রিটেনে পড়ালেখা চলাকালীন সময় পার্টটাইম এবং হলিডেতে অর্থাৎ ছুটির সময় ফুলটাইম কাজের সুযোগ রয়েছে এছাড়া ও রয়েছে ইন্টার্নশিপ এবং প্লেসমেন্ট এর সুবিধাসহ কোর্স শেষে দুই বৎসর ফুলটাইম কাজ কিংবা ব্যবসার সুযোগ। যাহা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিসহ একটি বিশ্বমান সমৃদ্ধ জীবনবৃত্তান্তে নতুন মাত্রা যোগকরবে। এছাড়াও কোনো শিক্ষার্থী যদি তার দক্ষতার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের অনুমতি পান তাহলে ভবিষ্যতে স্থায়ী অভিবাসনের দাঁড় উন্মোচন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিৎ হবে কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

আরো পড়ুন :  বিদেশে পড়াশোনার প্রাথমিক প্রস্তুতি

যথাযথ কাগজপত্র প্রদান করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, যেকোনো ডকুমেন্টস প্রদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। CAS লেটারে উল্লেখিত এবং ভিসা রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী ডকুমেন্ট প্রদান করতে হবে। প্রজনের অতিরিক্ত কোনোপ্রকার কাগজপত্র জমা দিবেন না। প্রতিটি ডকুমেন্ট যেনো ইংরেজিতে হয় এবং কোনো প্রকার ভুল তথ্য কিংবা ভুল কাগজপত্র প্রদানে বিরত থাকুন।

অধ্যয়ন কালীন এবং অধ্যয়ন শেষে যুক্তরাজ্যে অবস্থান ও কর্মসংস্থানের জন্য যা যা জানা দরকার, ব্রিটেনে বৎসর জুড়ে, ফ্রি ক্যারিয়ার ইভেন্ট, জবস ফেয়ার , নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট, ফ্রি কোর্সসহ বিভিন্ন প্রকার ফ্রি ট্রেনিং ইভেন্ট হয়ে থাকে, ইত্যাদি বিশেষ সুযোগ সুবিধা গুলোর সঠিক ভাবে ব্যাবহার করে নিজেদের দক্ষতাকে বাড়িয়ে আগামীদিনের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়েতুলতে পারেন। প্রতিটি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এন্ড এডভাইস ডিপার্টমেন্ট এবং স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার শিক্ষার্থীদের এসকল বিষয়ে সহায়তা প্রদান করে। কনসালটিং হাব তাদের অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সেবা দানে বদ্ধপরিকর।

বিদেশে পড়াশোনা সংক্রান্ত সব লেখা দেখুন এখানে


এ বিষয়ক লেখা ইমেইলে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন-

Leave a Reply

ইমেইলে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স পড়ছেন
১৩৬৭ জন পাঠক । আপনিও পড়ুন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন:


এবার নিজের ইমেইলে গিয়ে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স
থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করুন।
সহযোগিতায় : ফিডবার্নার