পাঠদান দক্ষতা বাড়ানোর কৌশল

মো: বাকীবিল্লাহ : পাঠদান বিষয়টি একটি আর্ট বা কলা। এজন্য দরকার অনেক ধৈর্য, বিষয়ের গভীর জ্ঞান, সঠিকভাবে উপস্থাপন দক্ষতা। এই প্রবন্ধে আমরা কিছু কৌশল আলোচনা করব যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি পাঠদানে হয়ে উঠতে পারবেন অনেক অনেক দক্ষ।

নিজের সাবজেক্টে দক্ষ হোন
মানুষ আপনাকে পছন্দ করবে যদি আপনি সাধারনভাবে কথা বলেন। এটা শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি সহজভাবে শিক্ষা দিতে পারবেন তখনই, যখন আপনি বিষয়টাকে সহজভাবে বুঝবেন। সুতরাং প্রথমে আপনি বিষয়টি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করুন। ওই বিষয়ে যদি কোনো নতুন সংযোজন থাকে সেগুলো শিখে ফেলুন।

উপস্থাপনার সিরিয়াল করুন
বিষয়টি সম্পর্কে যখন আপনি শিখে ফেলেছেন সেটি শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপনের জন্য একটি সিরিয়াল তৈরি করুন। কোনটি আগে, তারপর কী হবে ইত্যাদির একটি যৌক্তিক ক্রম তৈরি করে ফেলুন। উপস্থাপনের ধারাবাহিকতায় একটি লেকচার সুন্দর ও সহজবোধ্য হতে পারে। কোনো বিষয়ে আলোচনা করার আগে মৌলিক বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিন। মনে করুন আপনার শিক্ষার্থী কিছুই জানেনা।

মুখস্ত করতে শেখাবেন না
প্রত্যেক বিষয়ের পেছনে একটি কারণ আছে সুতরাং বিষয়টি এরকম হয়- না বলে তাদেরকে শেখান কেন এমন হয়। গণিতের সূত্রের কথাই ধরুন। সূত্রটি কিভাবে এলো তা বুঝিয়ে বলুন। সেখানে শুধু মুখস্ত করতে বলবেন না।

উদাহরণ ব্যবহারের মাধ্যমে মোটিভেট করুন
কোনো বিষয়ে শুরুতেই আলোচনায় যাবেন না। প্রথমে বিষয়টি প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহার সম্পর্কে আলোকপাত করে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করুন‌। সব বিষয়ে হয়তো বাস্তব জীবনের উদাহরণ পাবেন না। সে ক্ষেত্রে আগে যা শিখিয়েছেন সেসব বিষয়ের দ্বারা শিক্ষার্থীদেরকে মোটিভেট করুন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করুন
ধরুন- আপনি আপেক্ষিক তত্ত্ব পড়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রথমে আইনস্টাইন সম্পর্কে কিছু বলুন। যেমন – আইনস্টাইনের কোনো মজার কাহিনী, তার শিক্ষা, পরিবার ইত্যাদি। এতে করে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির প্রতি আগ্রহী হতে পারে। মনে রাখবেন ভূমিকা কিন্তু উপস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর ভালো শিক্ষাদানের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সুন্দর উপস্থাপনা।

আত্মবিশ্বাসী হোন, উপস্থাপনার স্বতন্ত্র স্টাইল তৈরি করুন
আত্মবিশ্বাসী হয়ে শক্ত মন নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হোন। বোর্ড ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও সূত্রগুলো বোর্ডে লিখে ফেলুন। এটা খুবই চমৎকার কৌশল। ভিজ্যুয়ালি দেখাতে চেষ্টা করুন। লাইভ ডেমো বা ল্যাব ভিজিট করান। কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের কোনো দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যেতে পারেন।

ব্রেক দিন
শিক্ষার্থীদের কিছুটা রিল্যাক্স দিন। কোনো কৌতুক বা নতুন কিছু বলতে পারেন। যেমন- গত ক্রিকেট ম্যাচটি কে কে দেখেছ? সাকিব/মাশরাফির ব্যাটিংটা দারুণ ছিল। পড়ার বাইরের কিছু আলাপ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

অর্থপূর্ণ কাজ দিন
এমন কিছু কাজ দিন যা তাদেরকে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। এমন কাজ দিন যা করলে আপনি যতটুকু পড়িয়েছেন সেগুলো তাদের শেখা হয়ে যাবে। এমন কিছু অনুশীলন করতে দিন যা করলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সমস্যা চিহ্নিত করতে পারবে। পরবর্তী সময়ে সেগুলো সমাধান করে দিন।

যাই হোক একজন ভালো শিক্ষক হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই একজন ভালো মোটিভেটর হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ট্রাকে রাখা এবং তার মানসিক বিকাশে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের সুবিধা ও অসুবিধা বিবেচনা করে পাশে থাকতে হবে। পড়াশোনায় অভয় দিয়ে তাদেরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সর্বোপরি আবারো বলতে চাই, আপনার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করুন এবং নিজেকে সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আপ টু ডেট রাখুন। আশা করছি এতে করে একজন ভালো শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবেন।

প্রিয় বন্ধুরা এ ব্যাপারে আপনার যদি কোনো পরামর্শ থাকে, তাহলে তা জানান মন্তব্যে।

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

View all posts by সম্পাদক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *