‘ক্যারিয়ারে উন্নতির জন্য ভালো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয়াও জরুরি’

মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার এফসিএমএ। প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। সম্পন্ন করেছেন কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্সি পেশাগত ডিগ্রি। তিনি দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একজন সম্মানিত ফেলো। অর্থনীতিভিত্তিক খ্যাতনামা দৈনিক শেয়ার বিজ -এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন – ক্যারিয়ারে ভালো করতে হলে ভালো একটি কোম্পানিতে যোগ দেয়াটাও জরুরি । সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের গল্প দিয়ে শুরু করতে চাই…

মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার: ক্যারিয়ার শুরু করি গ্ল্যাক্সো বাংলাদেশ লিমিটেডের (গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের পূর্ববর্তী নাম) হিসাব বিভাগে। এরপর যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিই। ১৯৯৭ সালে সিঙ্গার বাংলাদেশে একই পদে এক বছর দায়িত্ব পালনের পর চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিই। এরপর ওপেক্স গ্রুপে ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার হিসেবে কাজ করি। ২০০৬ সালে বিএএসএফ বাংলাদেশ লিমিটেডে ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করি। ২০১০ সালে প্রিমিয়ার সিমেন্ট মিলস লিমিটেডে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে বাংলালায়ন কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করি।

প্রশ্ন : পেশা হিসেবে ফাইন্যান্সকে কেন বেছে নিলেন?

শফিকুল ইসলাম: ম্যানেজমেন্টে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি এটা একটি কারণ। আরেকটি কারণ হলো, প্রতিষ্ঠানের অন্য বিভাগে কাজ করলে সে বিভাগের কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। কিন্তু ফাইন্যান্স বিভাগে কাজ করলে সব বিভাগের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ থাকে। এছাড়া যেহেতু কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্সি পেশাগত ডিগ্রি রয়েছে, তাই ফাইন্যান্স বিভাগকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।

শেয়ার বিজ: প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ ফাইন্যান্স কর্মকর্তার ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বলুন…

শফিকুল ইসলাম: প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে প্রধান অর্থ কর্মকর্তা তথা ফাইন্যান্স কর্মকর্তার ভূমিকা ও গুরুত্ব ব্যাপক। প্রতিষ্ঠানের সব তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সিএফও নানা ধরনের টুলস অ্যান্ড টেকনিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ম্যানেজমেন্টকে সাহায্য করেন। তাছাড়া প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ফাইন্যান্সিয়াল নানা সিদ্ধান্ত নিতে সিএফও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ফাইন্যান্স প্ল্যানিং, বাজেটারি কন্ট্রোল, কস্ট কন্ট্রোল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে কাজ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রশ্ন : কর্মক্ষেত্রে ফাইন্যান্স কর্মকর্তার জন্য চ্যালেঞ্জিং বিষয় কী?

শফিকুল ইসলাম: অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। এর মধ্যে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে না নিলে ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন যথাযথভাবে আসবে না। এটি একটি চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া ফান্ড ম্যানেজমেন্টের নানা দিক রয়েছে। এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে। তাই সিএফওকে বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হয়। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো করপোরেট গভর্নেন্স ঠিক রাখা। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের স্টেকহোল্ডার থাকে। সবার স্বার্থ সংরক্ষণ করে করপোরেট গভর্নেন্স ঠিক রাখা কিংবা প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স কমপ্লাই করা চ্যালেঞ্জের।

প্রশ্ন : পেশা হিসেবে ফাইন্যান্সকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

শফিকুল ইসলাম: এটি একটি মহৎ পেশা। প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া কিংবা দায়িত্ব পালনের মধ্যেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই বলব-পেশা হিসেবে চ্যালেঞ্জিং এটি। প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখা যায়। আবার প্রতিষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফাইন্যান্স বিভাগের কাজ রয়েছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, ফাইন্যান্স কর্মকর্তাদের ভূমিকা দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

প্রশ্ন : যারা এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ…

শফিকুল ইসলাম: তরুণদের স্বাগত জানাই। তবে পেশায় আসার আগে অ্যাকাউন্টস-ফাইন্যান্সে একাডেমিক কিংবা পেশাগত পড়ালেখা প্রয়োজন। এরপর ক্যারিয়ারে ভালো করতে হলে ভালো একটি কোম্পানিতে যোগ দেওয়াটাও জরুরি। কারণ যে প্রতিষ্ঠানে করপোরেট গভর্নেন্স, কমপ্লায়েন্সসহ নানা রেগুলেটরি মেনে চলা হয় না, সেখান থেকে শিক্ষাটাও ভালো আসে না। এছাড়া প্রতিনিয়ত পেশাদারি জ্ঞান আপডেট করতে হবে। সুন্দরভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা থাকতে হবে। সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও পরিশ্রমী হতে হবে।

About ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স

শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি ম্যাগাজিন হিসেবে ২০১১ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু করে ’ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স‘। পরপর চারটি সংখ্যা কাগজে বের হয় এ প্রকাশনাটি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই অনলাইন ভার্সন ছিল ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সের। সেটির মাধ্যমেই বেঁচে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে এটিকে একটি প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে চালু করার চেষ্টা করি। বর্তমানে ক্যারিয়ার সহায়ক বিভিন্ন বই প্রকাশ করছি। এছাড়া প্রকাশনার কাজে সব ধরনের সেবা দিচ্ছি। অামরা মূলত ৫টি বিভাগে কাজ করছি। ১. মুদ্রণ ও অনলাইন প্রকাশনা ২. সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং ৩. ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ৪. ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ৫. দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

View all posts by ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *