মনকে অনুসরণ করো’- এটি ক্যারিয়ারের জন্য খারাপ পরামর্শ কেন?

0
204

মো: বাকীবিল্লাহ : আমরা ক্যারিয়ারের ব্যাপারে কাউকে পরামর্শ দিতে গিয়ে প্রায়ই বলে থাকি- ‘মনকে অনুসরণ কর’ তথা নিজের নিজের স্বপ্ন, আগ্রহ  ও ইচ্ছাকে অনুসরণ করো। কিন্তু এটি আসলে ভালো পরামর্শ? আসুন একটু বিশ্লেষণ করে দেখি।

প্যাশন বা তীব্র আবেগকে অনুসরণ করে ক্যারিয়ার গড়া কতটুকু বুদ্ধিমানের কাজ হবে?

মনকে অনুসরণ করার অর্থ হচ্ছে আপনার যা ভালো লাগে সে বিষয়ের অনুসরণ। এখন আপনিই বলুন আপনার কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এ প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই হয়তো বলবেন- আমার ঘুরতে ভালো লাগে। আবার কেউ বলবেন রান্নাবান্না। আবার কারো পড়তে বা গান গাইতে। তাহলে এবার আসুন এক্ষেত্রে আপনার ক্যারিয়ার হিসেবে এগুলো নিতে চাইলে তা কতটুকু বাস্তবসম্মত হবে? এরদ্বারা যে উপার্জন আপনি করতে পারবেন তা দিয়ে আপনার সংসার চলবে তো? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রায় সবাই বলবেন- না।

এবার আরেকটু বিশ্লেষণ করি। আপনি যদি ঘোরাঘুরি পছন্দ করেন, তাহলে হয়তো – আপনি ট্রাভেল এজেন্সির কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু ভাবুন তো দেশে কতগুলো ট্রাভেল এজেন্সি আছে। সেগুলো যে সুযোগ সুবিধা দেয়, আপনি তার কতটুকু দিতে পারবেন? মার্কেট পেতে হলে আপনাকে অন্যদের চেয়ে বেশি সুবিধা দিতে হবে।  সেক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্টে কিছু থোকবে তো?

যা-ই হোক, তাহলে আমরা কী বলতে চাচ্ছি? আসলে আমরা বলতেক চাচ্ছি- আপনার মনের কথা শুনলেই হবে না। আপনাকে ভাবতে হবে বিষয়টির ক্যারিয়ার সম্ভাবনার কথা, উপার্জনের কথা। মনে রাখবেন – ভালোলাগার কাজটি যদি উপার্জনে ভূমিকা না রাখে তাহলে সেটি শুধুই শখ। সেটিকে ব্যবসায় বা উদ্যোগে পরিণত করাটা হতে পারে ক্যারিয়ারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হ্যাঁ, আপনার শখটি যদি উপার্জনের জন্য সহায়ক হয় তাহলে তো কথাই নেই। কিন্তু না না হলে কী করবেন? এবার সে বিষয়ে বলি।

ক্যারিয়ারে ভালো করার অন্যতম উপায় হচ্ছে আপনি যে কাজই করুন না কেন তাতে ব্যতিক্রমী কিছু নিয়ে আসুন

ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে আপনার প্যাশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- আপনি কোন বিষয়ে ভালো? আপনার কী দক্ষতা আছে? কোন ধরনের কাজ আপনার ভালো লাগে? কোন কাজ আপনাকে অনুপ্রাণিত করে? ইত্যাদি। সুতরাং মনের অনুসরণ করার চেয়ে আপনার দক্ষতা ও শক্তিমত্তার ওপর ভিত্তি করে ক্যারিয়ার নির্ধারণ করাটাই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। আপনি যদি আপনার শক্তিমত্তা ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করে কাজ করেন, তা আপনাকে আবেগের পরিবর্তে বাস্তববাদী হতে সাহায্য করবে। ফলে আপনি অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ ও সফলতার পরিকল্পনা করতে পারবেন। অপরদিকে মনের অনুসরণের মাধ্যমে আপনি হয়তো অতিমাত্রায় উচ্চাবিলাসী লক্ষ্য নিয়ে ব্যর্থতায় নিমজ্জিত হতে পারেন।

প্রিয় পাঠক এ ব্যাপারে আপনার ভাবনা বা পরামর্শ জানান মন্তব্যে।

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleস্ক্রিনপ্রিন্ট শিখুন, নিশ্চিত ক্যারিয়ার গড়ুন
Next articleব্যবসায়িক অংশীদারের যেসব গুণ থাকা দরকার
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here