জার্মানিতে যারা পড়াশোনা করতে চান তাদের জন্য

3
348

সিয়াম খান

১। জার্মানিতে Bachelor পড়তে হলে অবশ্যই কমপক্ষে এইচএসসি + ১ বছর Bachelor পড়াশোনা করতে হবে। আর Masters পড়তে Bachelor কমপ্লিট করতে হবে।
২। Bachelor & Masters ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে চাইলে IELTS Score কমপক্ষে 6 লাগবে।
৩। কিভাবে আপনার পছন্দের সাবজেক্ট খুঁজবেন তা DAAD website-এ সার্চ করবেন। সেখানে আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী সাবজেক্ট পাবেন।
৪। জার্মানির ভার্সিটিগুলোতে বছরে দুইবার আবেদন করা যায়। যেমন- সামার ও উইন্টার।
৫। জার্মানির বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করতে হয় Uni assist-এর মাধ্যমে। সেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর আপনার সকল অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট অনলাইনে আপলোড করতে হবে। তারপর তারা যাচাই করবে আপনি যে সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান তার জন্য আপনার ন্যূনতম যোগ্যতা আছে কি-না। বাংলাদেশে পড়াশোনা করলে অন্তত সিজিপিএ ৩ থাকতে হয় যা জার্মানির গ্রেডিং অনুযায়ী হয় ২.৫। কেননা বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম এই সিজিপিএ চায়। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে। তারপর আপনার সকল অ্যাকাডেমিক ডকুমেন্ট নোটারি করে তাদেরকে পাঠাতে হবে। তারা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়কে পাঠাবে।
৬। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডমিশন/অফার লেটার আসতে প্রায় মাস খানেক লাগবে। যদি রিজেক্ট করে তাও তারা জানাবে।
৭। অফার লেটার পাবার পর ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে আপনার নামে। সেই অ্যাকাউন্টে ৮৮০০ ইউরো পাঠাতে হবে। ভয়ের কোনো কারণ নেই। আপনি জার্মানির ভিসা না পেলে পুরো টাকা ফেরত পাবেন। আর ভিসা পেলে জার্মানিতে গিয়ে প্রতি মাসে ৭২০ ইউরো করে পাবেন।
৮। ব্লক অ্যাকাউন্ট খুলতে ও কনফার্মেশন পেতে ১ সপ্তাহ লাগতে পারে। সেখানে ৮৮০০ ইউরো পাঠাতে লাগবে ১ দিন। আর অ্যাকাউন্টে টাকা গেছে কি-না তা জানাতে লাগতে পারে ২-৩ দিন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৫ দিন হাতে রাখতে হবে।
৯। অফার লেটার পাবার পর অ্যাম্বেসিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য। তা বুক করতে হবে মিনিমাম ১৫ দিন পর। কেননা ব্লক অ্যাকাউন্ট ওপেন, টাকা পাঠানো ও কনফার্মেশন পেতে প্রায় ১৫ দিন লাগতে পারে।
১০। হেল্থ ইন্স্যুরেন্স করতে হবে আপনার নামে এবং তা অবশ্যই জার্মান অ্যাম্বাসির লিস্টেট কোম্পানিতে।
১১। অ্যাম্বাসি থেকে ভিসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে সময় লাগতে পারে মিনিমাম ৪ সপ্তাহ। তারা মেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানাবে।

জেনে রাখুন আরো কিছু তথ্য

  • জার্মানিতে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বছরে মোট ১২০ দিন ফুলটাইম অথবা ২৪০ দিন পার্টটাইম কাজ করা যায়। ছুটির সময় ফুলটাইম কাজ করা যায়। একজন ছাত্র মাসে পার্টটাইম জব করলে সর্বোচ্চ ৭০০-৮০০ ইউরো ইনকাম করতে পারে।
  • জার্মান ভাষা জানা থাকলে সহজেই জব পাওয়া যায়। না জানলেও পাওয়া যায়, তবে একটু বেশি খুঁজতে হবে।
  • জার্মানিতে এমবিএ করতে হলে টিউশন ফি দিয়ে পড়তে হবে।
  • জার্মানির যে এলাকার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হবেন; সেই স্টেইট বা রাজ্যের সকল পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ফ্রিতে চলাচল করা যায়। যেমন- বাস, ট্রাম, ট্রেন ইত্যাদি।
  • জার্মানিতে লেখাপড়ার পর কোনো ছাত্র যদি তার অধ্যয়নকৃত বিষয়ে চাকরি পায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে Permanent Residence (PR)-এর জন্য আবেদন করতে পারবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleব্যবসা করতে কেমন পুঁজি লাগে?
Next articleপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে
শিক্ষা ও ক্যারিয়ার বিষয়ক একটি ম্যাগাজিন হিসেবে ২০১১ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু করে ’ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স‘। পরপর চারটি সংখ্যা কাগজে বের হয় এ প্রকাশনাটি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই অনলাইন ভার্সন ছিল ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সের। সেটির মাধ্যমেই বেঁচে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৭ সালে এটিকে একটি প্রকাশনা সংস্থা হিসেবে চালু করার চেষ্টা করি। বর্তমানে ক্যারিয়ার সহায়ক বিভিন্ন বই প্রকাশ করছি। এছাড়া প্রকাশনার কাজে সব ধরনের সেবা দিচ্ছি। অামরা মূলত ৫টি বিভাগে কাজ করছি। ১. মুদ্রণ ও অনলাইন প্রকাশনা ২. সম্পাদনা ও প্রুফ রিডিং ৩. ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ৪. ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ৫. দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here