আউটসোর্সিং কী? কিভাবে শুরু করবেন?

/ ১৬৫ বার পঠিত

অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং । আগে কোনো অফিসের কাজ করতে হলে তা নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে করতে হতো। কিন্তু ইন্টানেটের কারণে এখন তা ঘরে বসেই করা সম্ভব। যার ফলে অনলাইনে নানা ধরনের কাজ পাওয়া যায়। অনলাইনভিত্তিক কাজ দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও অনেকেই এ ব্যাপারে তেমন কিছুই বোঝেন না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে যুব সমাজের অর্থ উপার্জনের অন্যতম উপায় এটি। ফ্রিল্যান্সিং কী এবং কিভাবে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন সে ব্যাপারেই বিশদ আলোচনা করা হলো এই নিবন্ধে।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কারা আপনাকে কাজ দেবে?

আমাদের দেশে সাধারণত চাকরি বা অন্যান্য যে কোনো  কাজ হয় মাসভিত্তিক বেতনে এবং কাজের ধরনের উপর বেতন দেয়া হয়। কিন্তু উন্নত দেশে কাজের বেতন হয় ঘন্টাভিত্তিক এবং তাদের ঘন্টাভিত্তিক বেতন এর র্সবনিম্ন সীমা আছে। তাদের কাজ যতই ছোট হোক না কেনো তাদেরকে উক্ত অর্থের কম দেয়া যাবে না। অর্থাৎ আমেরিকার একজন ব্যবসায়ী সে তার কোম্পানির কিছু কাজ যেগুলো অনলাইনেও করা সম্ভব সেগুলো যদি সে আমেরিকার লোকদের দিয়ে করাতে চায় তাহলে তাদেরকে উক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের কম সে দিতে পারবে না। কিন্তু সে যদি উক্ত খরচের থেকে কিছু কমে কাজ সারাতে চায় তাহলে সে কী করবে? সে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিবে। অর্থাৎ সে বিভিন্ন  আউটসোর্সিং ওয়েব সাইটে তার কাজের ধরন বুঝিয়ে উক্ত কাজের জন্য কিছু কম পারিশ্রমিক উল্লেখ করে একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করবে।

এখন এই পারিশ্রমিক তাদের কাছে খুব কম হলেও আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এর মূল্য তুলনামূলক বেশিই। কারণ উন্নত দেশের মুদ্রার মূল্য আমাদের দেশে অনেক। সুতরাং অনেকেই তার এই কাজে রাজি হবে। এতে যা হবে তা হলো- ওই ব্যক্তি কম খরচে তার কাজ করিয়ে নিতে পারবে এবং অন্যান্য দেশের লোকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

আরো পড়ুন :  ফিজিওথেরাপি কী ও কেন? কোথায় পড়বেন?

ফ্রিল্যান্সিং কাজের বিভিন্ন ধরন

ক. কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা থাকলে আপনিও এই অনলাইনের দুনিয়ায় কাজে নেমে যেতে পারেন। লেখালেখি, অনুবাদ, গ্রাফিক্স ডিজাইন – এ ধরনের কাজ করে ভালো অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। বর্তমানে আউটসোর্সিং-এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব সাইট হচ্ছে আপওয়ার্ক (upwork)। লেখালেখি থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট বানানো; প্রায় সব ধরনের কাজ পাবেন এখানে।

খ. পে পার ক্লিক। অর্থাৎ কোনো সাইটের লিংকে ক্লিক করার জন্য আপনাকে মুনাফা দেয়া হবে। অনেক সাইটে ভিডিও দেখার জন্যও মুনাফা প্রদান করে। কিন্তু এসব সাইটের ক্ষেত্রে আপনাকে শুরুতে কিছু বিনিয়োগ করতে হয়। এই কাজ করার জন্য তেমন আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন নেই। পে পার ক্লিক-এর জন্য জনপ্রিয় দুটি সাইট হলো  নি্ওবাক্স (Neobux), পেইডভার্টস (Paidverts)।

গ. পে পার ক্লিকের দিন প্রায় শেষ। এখন এর থেকেও সহজ উপায়ে টাকা উপার্জনের মাধ্যম হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এ কাজের ধরন হলো আপনার দ্বারা কোনো ওয়েব সাইটে যত লোক যুক্ত হবে আপনার লাভের হার তত বাড়বে। আপনি যখন ওই সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলবেন তখন আপনাকে একটা লিংক দেয়া হবে। সেটাকে রেফারেল লিংক বলে। উক্ত লিংক দিয়ে যে কয়জন নতুন অ্যাকাউন্ট খুলবে তারা সবাই মূলত আপনার নিচে কাজ করবে আপনার টিম মেম্বার হিসেবে। ধরুন আপনার রেফারেলে কেউ ওই সাইটে অ্যাকাউন্ট খুললো, তার রেফারেল এ তার বন্ধুরা অ্যাকাউন্ট খুললো, এভাবে করে অনেক জন অ্যাকউন্ট খুলে কাজ করা শুরু করলো। এখন যেহেতু আপনার ওই একজন লোকের কারনে এতগুলো লোক উক্ত সাইটে যুক্ত হয়েছে। তাই সাইটটি আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান মুনাফা দিবে। এমনকি আপনার রেফারেল এ থাকা লোকদের কাজে যত উন্নতি হবে আপনিও তত লাভবান হবেন। এই ধরনের কাজের জন্য জনপ্রিয় সাইট হলো এসএফআইএমজি (Sfimg)। এ কাজ করার ক্ষেত্রেও শুরুতে কিছু বিনিয়োগ করতে হয়। এ ছাড়া এ ধরনের সাইটে নানা ধরনের ছোট খাটো কাজ করে বা গেমস খেলেও নিজের কাজে উন্নতি আনার সুবিধা আছে।

আরো পড়ুন :  সমুদ্রে আন্তর্জাতিক পেশা

ঘ. ইউটিউবে নানা রকম ভিডিও বানিয়ে টাকা অর্জন। অনেকেই ভাবেন যে ইউটিউবে লাইকের সংখ্যা বেশি হলে অর্থের পরিমাণও বেশি হবে। কথাটি ভুল। আপনি খেয়াল করলেই দেখবেন ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় নানারকম বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে যেগুলো ভিডিওটির স্ক্রিনের ওপর থাকে। মূলত এই বিজ্ঞাপনের কারণেই আপনি আয় করতে পারবেন। আপনার ভিডিও দেখার সময় যে কয়জনের স্ক্রিনের সামনে বিজ্ঞাপন শো করবে সেই কয়টা ভিউ এবং ক্লিক অনুসারে আপনাকে মুনাফা দেয়া হবে।

ঙ. আয়ের আরও সহজতর উপায়ে হচ্ছে ফেসবুক। ফেসবুকে কোনো পেজে লেখা-লেখি করে বা কোনো কোম্পানির পণ্য মার্কেটিং করেও আপনি ভালো আয় করতে পারবেন। মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে লাভটা কমিশনের মতো। অর্থাৎ আপনি যে কয়জন ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন আপনাকে সেই বিক্রি বাবদ কিছু লাভ দেয়া হবে। কাজটা সহজ হলেও এই কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই ধোকা দিয়ে থাকে। তাই এ ধরনের কাজ করার আগে ভালোমতো বুঝে এরপর কোম্পানি বা বিশ্বাসযোগ্য হলে তবেই কাজ শুরু করবেন।

আউটসোর্সিং শুরুর জন্য আপনার যা যা দরকার

ইংলিশ-এ পারদর্শিতা

ইংলিশ এ আপনার ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। গ্রামারে দুর্বল হলে তেমন একটা সমস্যা নেই; কিন্তু একেবারে আনাড়ি হওয়া চলবে না। ইংলিশে দক্ষতা অর্জনের জন্য বেশি বেশি ইংলিশ মুভি দেখতে পারেন। বা ডিকশনারি দেখে রোজ নতুন নতুন শব্দ মুখস্থ করতে পারেন।

টাকা পাওয়ার মাধ্যম

আপনি যতই কাজ করেন না কেনো যদি আপনার সেই টাকা গ্রহণের কোনো মাধ্যমই  না থাকলে সব কষ্টই বৃথা। তাই যদি টাকা উত্তোলনের কোনো পথ না পান তাহলে এ কাজে নেমে অযথা সময় নষ্ট করবেন না। যদি ফেসবুকে আয়ের ইচ্ছা থাকে তাহলে সবার প্রথমে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। এর পর কাজ করা শুরু করুন। ইউটিউবে আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। আর বিদেশি সাইটে কাজ করতে চাইলে সবচেয়ে ভালো হয় পেওনিয়ার (payoneer) কার্ড তৈরি করে নেয়া। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলেও চলবে। কিন্তু পেওনিয়ার দিয়ে আপনি প্রায় সব সাইটের টাকাই গ্রহণ করতে পারবেন। যা বাংলাদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দ্বারা সম্ভব না। কারন সব সাইটে বাংলাদেশি ব্যাংক দ্বারা অর্থ লেনদেনের সুবিধা নেই।

আরো পড়ুন :  চাকরি ছাড়াই আয় করবেন যেভাবে

দক্ষতা

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাহলে আপনার কোনো এক বা একাধিক বিষয়ে দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এটা হতে পারে লেখা-লেখি, ফটোগ্রাফি, লোগো ডিজাইন, শিক্ষকতা ইত্যাদি। এই অনলাইনের দুনিয়ায় প্রায় সব ধরনের দক্ষতার জন্য কোনো না কোনো নির্দিষ্ট কাজ পাওয়া যায়। শুধু আপনাকে তা খুঁজে বের করতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং : ঘরে বসে বিদেশি কাজ

অন্যান্য

কাজের সুবিধা বা বড় ধরনের কাজের জন্য যে আপনার নিজস্ব কম্পিউটার থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী আরও কিছু জিনিস লাগতে পারে। যেমন – আপনি ইউটিউবার হলে অবশ্যই ভিডিও রেকর্ডার ও স্পিকার প্রয়োজন। এ কাজে আপনি নানারকম নতুন যন্ত্র ব্যবহার করেও আপনার কাজের মান উন্নত করতে পারেন। নিওবাক্স জাতীয় সাইটে কাজ করতে চাইলে শুরুতে কিছু মূলধন প্রয়োজন। মূলকথা আপনার কাজের সুবিধার্থে আপনার আরও প্রয়োজনীয় জিনিসের দরকার হতে পারে।

যারা অনলাইনে আয় করতে চান কিন্তু এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না মূলত তাদের জন্যই এটা লেখা। এখানে শুধু সাধারণ ধারণা দেয়া হয়েছে মাত্র। যারা কাজ করতে আগ্রহী তারা অবশ্যই এ কাজে নামার আগে কোনো অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকের কাছ থেকে বিস্তারিতভাবে জেনে নেবেন। সবচেয়ে ভালো হয় আউটসোর্সিং করে এমন কোনো পরিচিত লোকের কাছ থেকে ভালোভাবে কোনো একটা কাজে নিজেকে পারদর্শি করে তুলুন।


এ বিষয়ক লেখা ইমেইলে পেতে চান?
এখনই সাবস্ক্রাইব করুন-

Leave a Reply

ইমেইলে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স পড়ছেন
১৩৬৭ জন পাঠক । আপনিও পড়ুন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন:


এবার নিজের ইমেইলে গিয়ে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স
থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করুন।
সহযোগিতায় : ফিডবার্নার