বিপিও খাতে কাজের সুযোগ বাড়ছে

/ ১৩৮ বার পঠিত

কাজের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়তই বিপিও সেক্টরে তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে পছন্দসই খণ্ডকালীন চাকরির যত ক্ষেত্র আছে, বিপিও সেক্টর তার অন্যতম। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) হিসাবমতে, বর্তমানে শুধু তাদের সদস্যই রয়েছে ৮৫টি কোম্পানি, যেখানে কাজ করছেন প্রায় ৩০ হাজার কর্মী। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতির কারণে দেশে বিপিও সেক্টরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি পড়াশোনার পাশাপাশি সুবিধামতো সময়ে কাজের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়তই এই খাতে তরুণদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

বিপিওর পূর্ণ রূপ হচ্ছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। বিপিও মূলত আউটসোর্সিয়েরই একটি ধরন যাতে নির্দিষ্ট কোনো বিজনেস প্রসেসের পরিচালনাগত কিছু দায়িত্ব তৃতীয় কোনো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের হাতে দেয়া হয়। বিপিও কাজের একটি বড় অংশ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর, এগুলো সাধারণত ITES (ইনফরমেশন টেকনোলজি এনাবল্ড সার্ভিস) বিপিও নামে পরিচিত।

বিপিওর জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি দেশ বাংলাদেশ। সুবিধাজনক ভৌগোলিক অবস্থান ও শ্রমের নিম্নব্যয়ের কারণে বাংলাদেশ বিপিও মানচিত্রে দ্রুত অগ্রগতি করতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সরকার ইতোমধ্যে এটিকে একটি থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা বিপিওর সম্ভাবনাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশ বিপিও মানচিত্রে দ্রুতই জায়গা করে নিচ্ছে। বিপিও সেক্টরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় প্রতি মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া।

[box type=”success” align=”aligncenter” ]

আমাদের প্রচুর দক্ষ জনবল দরকার

আহমেদুল হক ববি সভাপতি
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং

আগামীতে আমরা বিপিও সামিট ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ Ahmadul-Hoqমাসের মধ্যে করার পরিকল্পনা করছি। কারণ এ সময় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই আমাদের সাথে কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। সাধারণত আমরা একজন কাস্টমারের সাথে প্রায় এক থেকে দেড় বছর আলাপ-আলোচনার পরে কাজ শুরু করি। আমাদের এবারের ফোকাস হলো সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। এবারের সামিটে এ জন্য সরকার কী কী কাজ বাক্যকে দিয়ে করাতে পারে সেগুলো প্রদর্শন করব। এ ছাড়া আমরা ব্যাংকারদের নিয়ে বসব। গতবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন, গ্লোবাল বিপিও কী অবস্থায় আছে। সিকিউরিটির পাশাপাশি ব্যাংকিংয়ের আউটসোর্সিংয়ের জন্য কী দরকার তাও আমরা সামিটে উপস্থাপন করব। এবারের আয়োজনে বিশ্বের একজন খ্যাতনামা সিকিউরিটি এক্সপার্ট অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি। এ ছাড়াও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকেও আমরা বড় পরিসরে সেবা দিতে চাই। এবার ভারতের ন্যাসকম থেকেও প্রতিনিধিদল আসবে। ফিলিপাইনের আইবিপ্যাকের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবারের সামিটে অংশ নেয়ার জন্য। ফিলিপাইনের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখারও আছে। আমরা শ্রীলঙ্কার সাথে কাজ করছি। শ্রীলঙ্কা থেকেও স্পিকার আসবে এবারের সামিটে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও আমাদের স্পিকার আসবে। এবারের সামিটে আমরা চেষ্টা করব আমাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধবসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মাঝে বিপিও নিয়ে আলোচনা করতে। আমরা এই ক্ষেত্র সম্পর্কে বোঝানোর চেষ্টা করব। বিপিওর চাকরি কেমন, এখনো ভবিষ্যৎ কতটুকু ভালো, কাজের পরিবেশ কেমন, এসব বিষয় নিয়ে সেমিনারে আলোচনা হবে। এবার সাতটি কারিগরি সেমিনারের আয়োজন করা হবে। এসব সেমিনারে ভারত, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কার স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সরকারি ও আর্থিক খাতের আউটসোর্সিংয়ের চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হবে। এর পাশাপাশি ডেটার নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি নিয়েও সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সামিটের ফোকাস এরিয়া হিসেবে বিগ ডেটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গতবার আমরা সব কিছুই করেছি ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে শুধু সিলেটে ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। আর এবার দেশজুড়েই ক্যাম্পেইন চলছে। [/box]

আমাদের দেশে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে তিনটি অ্যাসোসিয়েশন কাজ করছে। সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করছে বেসিস। হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি। আর বাক্য কাজ করছে সার্ভিস নিয়ে। ‘বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং’ নামটা বিশ্বজুড়ে খুব পরিচিত হলেও আমাদের এ অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারতে এটি ‘আইটি এনাবলড সার্ভিসেস’ বা আইটিইএস নামে বেশি পরিচিত। এটির আরো দু’টো প্রচলিত নাম হচ্ছে- ‘ব্যাক অফিস প্রসেসিং’ ও ‘বিজনেস প্রসেস ম্যানেজমেন্ট’। তবে নাম যাই হোক, কাজ কিন্তু একই। মূলত বিপিওতে দুই ধরনের কাজ হয়- ভয়েস ও নন ভয়েস। কলসেন্টার বা ভয়েসের কাজ হয় মাত্র ১০ শতাংশ। ডাটা এন্ট্রি, ব্যাক অফিস, চ্যাটিং, গ্রাফিক্সসহ বিভিন্ন রকম নন ভয়েস কাজ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

[box type=”success” align=”aligncenter” ]

প্রযুক্তি ও ভাষাজ্ঞান থাকা জরুরি

 তৌহিদ হোসেন সেক্রেটারি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং

Towhid-hossain1আমরা এখন কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়েছি। পাঁচ বছর আগে আমাদের সাথে যারা কাজ শুরু করেছিল তারা কিন্তু প্রমীত বাংলায় কথা বলতে পারত। এখন বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মধ্যেই আঞ্চলিকতার টান লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকে পাঁচ মিনিটই শুধু বাংলায় কথা বলতে পারছে না। এর ফলে আমরা যাদের সাপোর্ট দিচ্ছি, তারা নানা সমস্যায় পড়ছে। বিপিওতে কাজ করার জন্য শুদ্ধভাবে কথা বলার অভ্যাস থাকাটা জরুরি। ইংরেজিতে দক্ষ হলে খুবই ভালো। তবে ইংরেজিতে দক্ষ না হলে অন্তত বাংলায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। পরিষ্কার করে স্পষ্টভাবে সহজে কোনো কিছু বোঝানোর দক্ষতা থাকলে খুবই ভালো করতে পারবে বিপিও সেক্টরে। শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি আবেদনকারীকে শুদ্ধ করে বাংলায় কথা বলা, সুন্দর উপস্থাপনা, কম্পিউটার ব্যবহার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, স্মার্ট, উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি বাড়তি যোগ্যতাও থাকা জরুরি বলে জানান তৌহিদ হোসেন। কল সেন্টারে কাজের ধরন ও ক্ষেত্রভেদে বেতন ওঠানামা করে। তবে খণ্ডকালীন চাকরির ক্ষেত্রে বেতন ৮ থেকে ১৫ হাজার এবং পূর্ণকালীন চাকরির ক্ষেত্রে বেতন ১২ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। [/box]

এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায় পরিচালনা, উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বিশ্বের আদর্শ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে আগামী ২৭ ও ২৮ জুলাই হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিপিও সামিট ২০১৬। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সামিট ২০১৬ উপলক্ষে বাক্যর তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন কলসেন্টারে প্রায় ৫০০ কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। বিস্তারিত জানতে পারবেন bacco.org.bd  ওয়েবসাইটে।

Leave a Reply

ইমেইলে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স পড়ছেন
১৩৬৭ জন পাঠক । আপনিও পড়ুন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা লিখুন:


এবার নিজের ইমেইলে গিয়ে ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স
থেকে পাঠানো লিঙ্কে ক্লিক করুন।
সহযোগিতায় : ফিডবার্নার