জীবনের লক্ষ্য বাছাইয়ের পদ্ধতি

আমরা জীবনে অনেক কিছু চাই। তবে প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্খার মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে কোনটা বেশি দরকার তা বাছাই করাটা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। আসলে অনেক সময় আমরা ঠিক বুঝেও উঠতে পারি না নিজেদের থেকে আমাদের প্রত্যাশা ঠিক কী। মা-বাবা এবং বন্ধুরা যা বলে আমরা যন্ত্রচালিতের মতো তা-ই করে যাই। আর দিন শেষে ব্যর্থতা আর ভালো না থাকার মতো ব্যাপারগুলো আমাদের চেপে ধরে। তাই এমন কয়েকটি টিপস দেয়া হল, যেগুলো মেনে চললে বোঝা সম্ভব জীবনের কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা কী-

অতীতকে ভুলে যান
আজ থেকেই নতুনভাবে শুরু করুন জীবনটা। আগে কী হয়েছে, অতীতের কষ্ট, যন্ত্রণা সব কিছু ঝেরে ফেলুন মন থেকে। অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকলে, জীবনে কখনও না সুখী হবেন, না সামনের দিকে এগোতে পারবেন। পুরনো ভুলগুলো তো আর শোধরানো যাবে না। তাই পুরো মনোযোগটাই দিন বর্তমানে। এমনকি ভবিষ্যত নিয়েও খুব বেশি এই মুহূর্তে ভাবার দরকার নেই।

আপনি ঠিক কী চান?
নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করুন, খুশি থাকার জন্য জীবনে আপনার কী কী চাই? পরিবার, প্রেম, আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের মতো ব্যাপারগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর পর সাজান। উত্তরটা একবার পেয়ে গেলে জীবনে কিভাবে চললে সাফল্য মিলবে, তার পরিকল্পনা আপনি অনায়াসেই করতে পারবেন।

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা
কখনও ভেবেছেন আজ থেকে ঠিক পাঁচবছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান? সবসময় এটা গুছিয়ে ভাবা সম্ভব নয় মানছি, কিন্তু একটু ভাবলেই ভবিষ্যৎটা আপনার কাছে অনেক স্পষ্ট হয়ে যাবে। আপনার জীবনের লক্ষ্য কী এবং আগামী পাঁচবছরে কিভাবে সেই লক্ষ্যে সাফল্যের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছনো যায়, তার রূপরেখা আপনাকেই করতে হবে। কারণ আপনাকে আপনার থেকে ভালো আর কেউ বোঝে না।

ভালো থাকার চাবিকাঠি
কোন কোন ভাবনা আপনাকে ভালো রাখে, সেগুলো একবার ভাবুন। আর সারাদিনের খানিকটা সময় অন্তত সেইসব ভাবনা-চিন্তাতেই কাটান। নিজেকে আগের থেকে অনেক বেশি ফুরফুরে এবং পরিপূর্ণ মনে হবে।

শখ
জীবন থেকে কখনো যেন রোমাঞ্চ হারিয়ে না যায়। কোনো অজানা কাজে হাত না দিয়ে যদি একটু ঝুঁকি না-ই নিলেন, তবে জীবন তো সেই একই রকম থাকবে। তাই নিজের কোনো শখকে খুঁজে বের করে তার পিছনে খানিকটা সময় কাটাতে চেষ্টা করুন।

অপছন্দের জিনিস থেক দূরে থাকুন
আপনার অপছন্দের জিনিসগুলো থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকুন। সব সময় লোকনিন্দার পরোয়া করলে চলে না। হতে পারে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ আপনার ঠিক পছন্দের না। অথবা যাকে আপনি বেস্ট ফ্রেন্ড বলে ভাবছেন, সে আসলে আপনার বেস্ট নন। আর অপছন্দগুলোকে আপনি একবার ধরতে পারলে, আজ থেকেই সেখানে রদবদল আনার চেষ্টা করুন। জীবনের অযথা জটিলতা কেটে যাবে।

পরামর্শ নিন
সবকিছুই মেনে চলছেন অথচ জীবন যেখানে ছিল সেখানেই আছে। তাহলে পরিবারের সদস্য ও খুব প্রিয় মানুষদের সাথে আলোচনা করুন, কিভাবে চললে আপনি খুশি থাকতে পারবেন। তারা আপনার ব্যাপারে এমন কিছু বললো, যা হয়তো আপনি আগে খেয়লাই করেননি। সেই কথাটিই হয়তো কোনো সময় বড় সমস্যার সমাধানে দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আর আপনিও পৌঁছতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে।

সূত্র : ইন্টারনেট

ক্যারিয়ার, ট্রেনিং ও স্কলারশিপ সম্পর্কে
exclusive তথ্য পেতে ফেসবুক গ্রুপে
জয়েন করুন-

Career Intelligence | My Career Partner

Scroll to Top