সাক্ষাৎকারে বেতনের আলোচনা

সাক্ষাৎকারের সময় সবচেয়ে বিব্রতকর ও অস্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয় বেতন নিয়ে আলোচনার সময়। বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের। কিন্তু আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই বেতন। কারণ এর ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরি করবেন কি করবেন না। প্রতিষ্ঠান চায় কম বেতনে ভালো মানের কর্মী। আর আপনার দরকার বেশি বেতন। তাই এই আলোচনায় আপনার সফলতা নির্ভর করে আপনার সমঝোতার যোগ্যতার ওপরে। জেনে নিন কিছু কৌশল কীভাবে সাক্ষাৎকারের সময় বেতন নিয়ে আলোচনা করবেন। লিখেছেন তালহা বিন জসিম

বেতনের কথা আগে নয়
সাক্ষাৎকারের সময় স্বাভাবিক কথা চালিয়ে যান। নিজে থেকে বেতনের আলোচনা ওঠাবেন না। যদি দেখেন বেতন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না তা নিয়ে উশখুশ করবেন না। এ সময় তাড়াহুড়ো না করে নিজেকে শান্ত রাখুন। অপেক্ষায় থাকুন কখন বেতনের আলোচনা আসে। মনে রাখবেন, আপনাকে পছন্দ হলে অবশ্যই বেতন নিয়ে আলোচনা করবে। তাই নিজ থেকে বেতনের কথা বলে আপনার চাকরির সুযোগ হারাবেন কেন? সিভিতে কোনো সময়ই নির্দিষ্ট পরিমাণ চাহিদার কথা উল্লেখ করবেন না।
বেতন পছন্দ হলে
যদি দেখেন আপনার চাহিদা অনুযায়ী বেতনের কথা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাহলে বেতনের আলোচনা ভদ্রতার সাথে অন্য বিষয়ে নিয়ে যান। বলতে পারেন, ‘আসলে আমি বেতন নিয়ে ভাবছিনা। ভাবছি কীভাবে আমার যোগ্যতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করবো’। মূলত আপনি প্রতিষ্ঠানের ভালো চান এবং আপনাকে নিলে প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে এই ধারণা তৈরি করুন। দেখবেন বেতন কিছুটা বাড়িয়ে বলছে।

নিজের ওপর ধারণা ও সমঝোতার প্রস্তুতি
সাক্ষাৎকারের যাওয়ার আগে আপনার পোস্টে ওই প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো আর অন্য প্রতিষ্ঠানে কত দিচ্ছে তা জেনে নিন। তারপর নিজের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ওপর ভালো একটা ধারণা রেখে  আপনি কত টাকা বেতন পেতে পারেন তা আগে থেকে নির্ধারণ করুন। সাথে প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন সমঝোতার জন্য কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন। কৌশলে বলে দিন একই পোস্টে দেশের অন্য প্রতিষ্ঠান এই পরিমাণ বেতন দিচ্ছে।

নির্দিষ্ট অংক নয়
বেতনের আলোচনা সময় নির্দিষ্ট অংকে পরিমাণ উল্লেখ করবেন না। একটা নির্দিষ্ট স্তরের মধ্যে বেতনের পরিমাণ উল্লেখ করুন। আপনার আকাক্সিক্ষত বেতনের চেয়ে অল্প কিছু বাড়িয়ে বলবেন। এতে নেগোসিয়েশনের জন্য স্পেস তৈরি হবে। আগের চাকরিতে কত টাকা বেতন পান জিজ্ঞেস করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বলতে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে বলতে পারেন, এটা তুলনা করা খুব কঠিন একটা ব্যাপার। কারণ আমি আপনাদের পুরো অফারটা জানি না। পুরনো চাকরির দায়িত্ব ও কর্তব্যের সাথে এই চাকরির কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। আমি মনে করি পুরো অফারটা জানলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াটা সহজ হবে।

সুযোগ সুবিধা
বেতনের আলোচনার আগে সুযোগ সুবিধা সর্ম্পকে জেনে নিন। বেতন কম হলেও অনেক সময় সুযোগ সুবিধাসহ বেতনের পরিমাণ আপনার পছন্দ হতে পারে। যেমন মেডিকেল, যাতায়াত ও আবাসন সুবিধা। তাই বেতনের পরিমাণ কম হলেও সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করুন।

চাকরিটা দরকার
কোনভাবেই এটা প্রমাণ করবেন না যে, এই চাকরিটা আপনার খুব প্রয়োজন। এমন ধারণা দিলে বেতন নিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ থাকে না। কারণ প্রতিষ্ঠান একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বলে আপনাকে চাকরিতে যোগদান করতে বাধ্য করবে। এই ধারণা দিতে পারেন, চাকরিটা না পেলেও আপনার চলবে। তবে আপনাকে না নিলে প্রতিষ্ঠান ভালো একজন কর্মী হারাবে।

শান্ত থাকুন
বেতনের আলোচনা নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না। তারা যখন আলোচনা করবেন তখন আলোচনায় অংশগ্রহণ করুন। বেতন বেশি কিংবা কম নিয়ে উত্তেজিত হবেন না। বরং শান্তভাবে নিজের যোগ্যতা উপস্থাপনের মাধ্যমে বেতনের আলোচনা চালিয়ে যান। প্রথমেই আপনি বেতনের ফিগার জানাবেন না। সবচেয়ে ভালো আপনার পোস্টের জন্য প্রতিষ্ঠান এভারেজ কত টাকা নির্ধারণ করেছেন তা জেনে নিয়ে আপনার চাহিদা উল্লেখ করা।

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

View all posts by সম্পাদক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *