সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত দেশের সংগঠন কমনওয়েলথ

0
301

কমনওয়েলথ হলো সাবেক ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত স্বাধীন এবং আশ্রিত দেশগুলো নিয়ে গঠিত সংগঠন। এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে বাস করে।

প্রতিষ্ঠা
১৯২৬ সালে ইম্পিরিয়াল সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও এর নিয়ন্ত্রিত দেশগুলোকে স্বায়ত্তশাসিত, স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ১৯৩১ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত আইন ‘স্ট্যাচু অব ওয়েস্ট মিনস্টার’-এ উপনিবেশগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কমনওয়েলথ স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করে। অতঃপর ১৯৪৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির পূর্বনাম ছিল ব্রিটিশ কমনওয়েলথ অব নেশনস।

গঠন বা কাঠামো
সংস্থাটির প্রতীকী প্রধান হলেন ব্রিটেনের রানী। কমনওয়েলথের লিখিত কোনো সংবিধান নেই। এটির সদর দফতর লন্ডনের মার্লবরো হাউজ (স্থাপিত হয় ১৯৬৫ সালে) নির্বাহী প্রধান মহাসচিব। প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সোমবার কমনওয়েলথ দিবস পালিত হয়। এই সংস্থার সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতের পদবি হলো হাইকমিশনার।

সদস্যরাষ্ট্র
সংস্থাটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা ৫৪। ইউরোপ মহাদেশের তিনটি, উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ১২টি, দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের একটি, আফ্রিকা মহাদেশের ১৯টি, এশিয়া মহাদেশের আটটি এবং ওশেনিয়া মহাদেশের ১১টি দেশ কমনওয়েলথের সদস্য। বাংলাদেশ ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে সংস্থাটির সদস্যপদ লাভ করে। (৩২তম) ৫৪তম সদস্য দেশ হিসেবে রুয়ান্ডা (আফ্রিকা) ২৯ নভেম্বর ২০০৯ যোগদান করে।

উদ্দেশ্য ও নীতিমালা
সংস্থাটির উদ্দেশ্য ও নীতিমালা হলো-
১. জাতিসঙ্ঘের প্রতি সমর্থন ও সিদ্ধান্ত মেনে চলা।
২. ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সমর্থন।
৩. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সম-অধিকারের স্বীকৃতি।
৪. বিভিন্ন জাতির মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে সহায়তা করা।
৫. স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার।

সংস্থাটির সহযোগিতার ক্ষেত্র
সংস্থাটি যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে সেগুলো হলো-
১. শিক্ষা, ২. স্বাস্থ্য, ৩. খাদ্য উৎপাদন, ৪. অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, ৫. রফতানি বাজার উন্নয়ন, ৬. পল্লী ও শিক্ষা উন্নয়ন, ৭. আইনগত বিষয়গুলো, ৮. প্রশিক্ষণ, ৯. নারী উন্নয়ন, ১০. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

সরকারপ্রধানদের বৈঠক
কমনওয়েলথের বৈঠকগুলো সাধারণত ব্যক্তিগত এবং প্রচলিত প্রথাবহির্ভূত। এগুলো ভোটের মাধ্যমে হয় না, সম্মিলিত মিল বা ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রত্যেকটি বৈঠকের শেষে একটি সরকারি ঘোষণা দেয়া হয়। বৈঠকগুলো সাধারণত কমনওয়েলথভুক্ত দেশেগুলোর রাজধানীতে প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য আলোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময়ের ওপর জোর দেয়া হয়।

কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট
কমনওয়েলথভুক্ত সরকারপ্রধানদের দ্বারা ১৯৬৫ সালে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সেবা করে থাকে। সেক্রেটারিয়েটের  প্রধান হচ্ছে সেক্রেটারি জেনারেল, যিনি সরকারপ্রধানদের ভোটে নির্বাচিত হন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য থাকেন তিনজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল হলেন কমলেশ শর্মা (ভারত)।

ঘোষণা

আপনিও লিখুন


প্রিয় পাঠক, আপনিও লিখতে পারেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্সে। শিক্ষা, ক্যারিয়ার বা পেশা সম্পর্কে যে কোনো লেখা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। পাঠাতে পারেন অনুবাদ লেখাও। তবে সেক্ষেত্রে মূল উৎসটি অবশ্যই উল্লেখ করুন লেখার শেষে। লেখা পাঠাতে পারেন ইমেইলে অথবা ফেসবুক ইনবক্সে। ইমেইল : [email protected]
Previous articleএভারেস্ট জয়ের স্বপ্নপূরণ
Next articleসাফল্য পেতে হলে চর্চার বিকল্প নেই
গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here