সাফল্য যখন হাতের মুঠোয়

আত্মবিশ্বাস বলতে বোঝায় নিজের দক্ষতা ও শক্তির উপর পূর্ণ আস্থা রাখা। আত্মবিশ্বাস শব্দের ইংরেজি Self-Confidence। Confidence  শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Confidere থেকে। যার অর্থ হলো বিশ্বাস বা আস্থা। নিজের উপর আস্থা বা ভরসা রাখার নামই হলো আত্মবিশ্বাস বা Self-Confidence।
একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষই পারে সব কিছু জয় করতে। কেননা আত্মবিশ্বাস কঠিন কাজে সফল হতে অনুপ্রেরণা দেয়। বিশ্বের সফল ব্যক্তিদের সাফল্যের কারণ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তাঁরা কতটা সাহসী, পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। কঠিন ও প্রতিকূল অবস্থায়ও তারা আত্মবিশ্বাস হারাননি। বরং এগিয়ে গেছেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে। এ কারণেই তারা আজও অমর।

বৈদ্যুতিক বাল্বের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসনের নাম আমরা সবাই শুনেছি। বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করার জন্য তাকে প্রায় দশ হাজার বার চেষ্টা চালাতে হয়েছিল। ভেবে দেখুন তো। এডিসনের মনে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই তিনি সফল হয়েছিলেন। আমরা আজ তাকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলেই জানি।
পৃথিবীতে কোন মানুষই আত্মবিশ্বাস নিয়ে জন্মে না। বরং জীবনে চলার পথেই মানুষ আত্মবিশ্বাসী হওয়ার উপায়গুলো শিখে নেয়। তবে এক্ষেত্রে পরিবার বেশ বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকে সঠিক নির্দেশনা না পায় তাহলে পরবর্তী সময়ে সে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারে।

আত্মবিশ্বাসের মাপকাঠি
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন আত্মবিশ্বাস মাপার কোন যন্ত্র আছে কিনা। আসলে এটি মাপার কোনো সুনির্দিষ্ট যন্ত্র নেই। তবে নিচের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে যাচাই করতে পারেন আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী।

এক : আপনি সেই কাজটি করেন যেটা আপনার কাছে সঠিক বলে মনে হয়। যদিও অনেকে আপনার বিপক্ষে মন্তব্য করে।
দুই :  ঝুঁকি নিতে আগ্রহী এবং এর  জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকেন।
তিন : নিজের ভুলগুলো স্বীকার করে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার আগ্রহ দেখান।
চার : কাজের গঠনমূলক মূল্যায়ণের জন্য অপেক্ষা করেন এবং তা সানন্দে গ্রহণ করেন।
পাঁচ : কোন কাজে অন্যের উপর নির্ভর না করে নিজেই কাজটি সম্পাদন করার চেষ্টা করেন।

এবার দেখুন, বিষয়গুলোর কয়টি আপনার মাঝে বিদ্যমান। উপরের গুণগুলো যত বেশি আপনার মাঝে বিদ্যমান, আপনি তত বেশি আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসাবে মনে করতে পারেন। তবে কম থাকলে কিংবা একেবারে না থাকলেও হতাশ হবেন না। আপনি চাইলেই একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ হয়ে উঠতে পারেন। তাহলে আসুন জেনে নেই আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির কিছু কৌশল।

ক. নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন
নিজেকে বোঝার চেষ্টা করুন। যাচাই করুন, আপনার মন কী বলে? আপনি সত্যই আত্মবিশ্বাসী নাকি নন। যদি উত্তরটি নেতিবাচক হয় তাহলে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে, অন্য সকল মানুষের মত আপনিও আত্মবিশ্বাসী এবং চেষ্টা করলেই আপনি যে কোন কঠিন কাজ অনায়াসে করে ফেলতে পারবেন।

খ. আপনার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিন
কোন কাজটি করতে আপনি বেশি আনন্দ পান কিংবা কোনো কাজে আপনার দক্ষতা আছে কিনা তা পরখ করুন এবং সেটাকে গুরুত্ব সহকারে দেখুন।

গ. দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করুন
আপনার কোন বিষয়ে দুর্বলতা আছে বা যার জন্য আপনি বিব্রতবোধ করেন অথবা বিষন্নতায় ভোগেন তা নির্ধারণ করুন। দুর্বলতাগুলো কীভাবে দূর করা যায় এ নিয়ে প্রথমে নিজে চিন্তা করুন এবং পরে বড়দের সাহায্য নিতে পারেন।

ঘ. ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন
সবকিছুই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন। এমনকি নেতিবাচক বিষয়গুলোও। কেননা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার আত্মবিশ্বাসকে অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে।

ঙ. ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন
প্রথমে ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং তা অর্জনের চেষ্টা করুন। যদি সফল হন তাহলে আপনার আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে আপনি অন্যান্য লক্ষ্য পূরণেও  সক্ষম হবেন।

চ. অভ্যাসের পরিবর্তন করুন
এমন অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করুন যা কিনা আপনার লক্ষ্যপূরণে বাধা হয়ে দাড়ায়।  আপনি যদি ঘুম থেকে আরেকটু তাড়াতাড়ি ওঠেন কিংবা ব্যায়াম করেন তাতে আপনারই উপকার হবে। এটা কোন বড় কাজ নয় বরং আপনার মনের ইচ্ছাই যথেষ্ট।

ছ. অতিরিক্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন
যখন আমরা একটি লক্ষ্য পূরণের জন্য অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা শুরু করি তা বিদ্যমান আত্মবিশ্বাসকেও কমিয়ে দেয়। সবকিছু গুরুত্ব দিয়ে দেখার অর্থ এই নয় যে অতিরঞ্জিত করে তুলতে হবে। সাধারণ দৃষ্টিতে সবকিছু দেখার চেষ্টা করুন। মনে রাখুন ধর্মের দৃষ্টিতে হতাশা এক ধরনের  কুফরি । সুতরাং কুফরি থেকে দূরে থাকুন ।

জ. মনে রাখুন পৃথিবীতে কেউই নির্ভুল নন
মানুষই ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। কোন কাজ করতে গেলে আপনার ভুল হতেই পারে। সুতরাং এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তা না করে বরং দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যান কাঙ্খিত লক্ষ্যে।

ঝ. নিজের জ্ঞান ও মেধা অন্যের সাথে শেয়ার করুন
জ্ঞান ও মেধাকে যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি সফলতার সম্ভবনা বাড়বে। একই সাথে আপনি আপনার জ্ঞানের পরিধিও বাড়াতে পারবেন। যা আপনার আত্মবিশ্বাসকেও বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

ঞ. সর্বদা হাস্যজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন থাকুন
সব সময় হাস্যজ্জ্বল থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার আত্মবিশ্বাস আপনা আপনিই বেড়ে যাবে। বলতে পারেন আত্মবিশ্বাসী হওয়ার অন্যতম হাতিয়ার হলো হাসি। এছাড়াও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পোষাক মানুষের আত্মবিশ্বাস করে তোলে।

উপরের নির্দেশনাগুলো মেনে চললে আশা করি আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আপনার ওপর। নিজেকে যদি আত্মবিশ্বাসী হিসাবে গড়ে তুলতে পারেন তবে সাফল্য ধরা দেবে আপনার হাতেই ।

লেখক :
নাদিম চৌধুরী
শিক্ষার্থী, এআইইউবি

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

View all posts by সম্পাদক →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *