গাছের ডাল ভাঙা সেই ছেলেটি

ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র সংসদের আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে চলছে তুমুল আন্দোলন। আন্দোলনে নেতৃত্বের প্রথম সারিতে রয়েছেন প্রথম বর্ষের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক। নেতৃত্ব দেয়ার অপরাধে কিছুদিনের মাথায় বহিষ্কার আদেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো  এ সময়ই বাড়ি থেকে আবার  খবর আসে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে তার। কিন্তু এই যুবকের একটাই কথা এখন বিয়ে করা যাবে না। কী আর করা? নিজ শহর থেকে পালিয়ে গিয়ে চাকরি নিলো জোহানেসবার্গের এক খনির প্রহরী হিসাবে।

কিন্তু রাজার ছেলে বলে কথা। অল্পদিন পরেই খনির মালিক জেনে যান যে, বিয়ে এড়াতে পালিয়ে এসেছেন তিনি। রাজার আদেশে হারাতে হলো এই চাকরি। বাড়িতে তো আর ফিরে যাওয়া যাবে না। শেষ পর্যন্ত জোহানেসবার্গের আইনি প্রতিষ্ঠান উইটকিন, সিডেলস্কি অ্যান্ড এডেলম্যানে কেরানি হিসাবে যোগ দেন। সচেতন যুবক এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময়ই ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ আফ্রিকার দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
ছোট সময়ে অধিক দুষ্টুমির কারণে  কপালে ডাক নাম জোটে ‘রোলিহ্লাহ্লা’। যার অর্থ ‘গাছের ডাল ভাঙে যে’, অর্থাৎ দুষ্ট ছেলে। এই কৃষ্ণাঙ্গ দুষ্টু ছেলেটি আর কেউ নয়। আমাদের অতি পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা।
এই অবিসংবিদিত নেতা তরুণ সমাজকে  খুব স্পষ্ট করেই বলেছেন,

‘এই পৃথিবীকে যে রকম দেখছ, তোমাকে সেটাই মেনে নিতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। আমাদের কাজ হবে- আমরা যে রকম পৃথিবী চাই, যে পৃথিবী আমাদের পছন্দ, তা খুঁজে নেয়া।’

১৯৩৭ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা থেম্বু রাজবংশের ক্যাডেট শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। তৎকালীন সময়ে থেম্বু রাজবংশ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের ট্রান্সকেই অঞ্চলের শাসক। ম্যান্ডেলা তাঁর পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলে পড়ার সময়ে তাঁর শিক্ষিকা মদিঙ্গানে তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন ‘নেলসন’। ম্যান্ডেলা তাঁর গোত্রের দেয়া। তিনি মাদিবা নামেও পরিচিত।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৪৮ সালের নির্বাচনে আফ্রিকানারদের দল ন্যাশনাল পার্টি জয়লাভ করে। ন্যাশনাল পার্টির ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ম্যান্ডেলা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের হয়ে ১৯৫২ সালের অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৫ সালের জনগণের সম্মেলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এই সম্মেলনে মুক্তি সনদ প্রণয়ন করা হয়, যা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান ভিত্তি। এই সময়ে ম্যান্ডেলা মহাত্মা গান্ধীর দর্শন দ্বারা প্রভাবিত হন। বর্ণবাদ বিরোধী কর্মীরাও আন্দোলনের প্রথম দিকে গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের নীতিকে গ্রহণ করে বর্ণবাদের বিরোধিতা করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি রোল মডেল হিসেবে গান্ধীর চেয়ে নেহেরুকেই বেশি পছন্দ করতেন। কনভারসেশনস উইথ মাইসেলফ বইতে খোলাসা করে বলেন যে, তিনি অহিংস নীতিকে আদর্শ হিসেবে নয়, বরং কৌশল হিসেবেই বিশ্বাস করতেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শেতাঙ্গ সরকার ১৯৫৬ সালের ৫ ডিসেম্বর ম্যান্ডেলাসহ ১৫০ জন বর্ণবাদবিরোধী কর্মীকে দেশদ্রোহিতার মামলায় গ্রেফতার করে। মামলাটি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে (১৯৫৬-১৯৬১) চলে। কিন্তু বিচারে মামলার সব আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হন।

১৯৬১ সালে ম্যান্ডেলা এএনসির সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন উমখোন্তো উই সিযওয়ে (দেশের বল্লম) -এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বর্ণবাদী সরকার ও তার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতী ও চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেন। ম্যান্ডেলা নিজে তাঁর এই সশস্ত্র আন্দোলনকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নিতান্তই শেষ চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। এ সময়ে ম্যান্ডেলার তার অনুসারীদের  বলতেন-

‘নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তোমাকে থাকতে হবে পেছনে, আর অন্যদের রাখতে হবে সামনে। বিশেষ করে বিজয়োৎসব ও আনন্দের ঘটনার সময় তোমার পেছনে থাকাই ভালো। তবে বিপজ্জনক মুহূর্তে তোমাকে অবশ্যই সামনে অবস্থান নিতে হবে। তাহলে জনগণ তোমার নেতৃত্বের প্রশংসা করবে’।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র তথ্য মতে, প্রায় ১৭ মাস ফেরারি থাকার পর ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট ম্যান্ডেলাকে ১৯৬১ সালের শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেয়া ও বেআইনিভাবে দেশের বাইরে যাবার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৬২ সালের ২৫ অক্টোবর ম্যান্ডেলাকে এই দুই অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এর দুই বছর পর ১৯৬৪ সালের ১১ জুন ম্যান্ডেলার বিরুদ্ধে এএনসির সশস্ত্র সংগ্রামে নেতৃত্বদান ও দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়।

প্রিটোরিয়ার সুপ্রিম কোর্টে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ম্যান্ডেলা ১৯৬৪ সালের ২০ এপ্রিল তাঁর জবানবন্দি দেন। ম্যান্ডেলা ব্যাখ্যা করেন, কেনো এএনসি সশস্ত্র আন্দোলন বেছে নিয়েছে। ম্যান্ডেলা বলেন যে, বহু বছর ধরে এএনসি অহিংস আন্দোলন চালিয়ে এসেছিলো। কিন্তু শার্পভিলের গণহত্যার পর তাঁরা অহিংস আন্দোলনের পথ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই গণহত্যার মধ্য দিয়ে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারকে অবজ্ঞা করে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ঘোষণা দেয়া, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং এএনসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পরে তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা অন্তর্ঘাতমূলক সশস্ত্র সংগ্রামকেই বেছে নেন। তাঁর মতে সশস্ত্র আন্দোলন ছাড়া অন্য যে কোনো কিছুই হতো বিনাশর্তে আত্মসমর্পণের নামান্তর। তবে ১৯৬৪ সালের ১২ জুন দেয়া রায়ে ফাঁসির বদলে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। রিভনিয়া বিচারের রায় সর্ম্পকে ম্যান্ডেলা কনভারসেশনস উইথ মাইসেলফ বইতে লেখেন-

‘রিভনিয়া মামলায় আমাদের মৃত্যুদণ্ড হবে, মোটামুটি ধারণা করতে পারছিলাম। তবে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, কেউ যখন তোমার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছে- ‘তোমার জীবন এখানেই শেষ’, তা মেনে নেয়া খুবই কঠিন। মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে, এর ঘোষণা শোনাটা বেশি কষ্টের। তবে রায়ের আগে এই অনুভূতিটা আমরা ভুলে থাকার চেষ্টা করছিলাম। একে অপরকে সাহস জুগিয়ে যাচ্ছিলাম। তবে মনের দিক দিয়ে আমার সঙ্গীরা সে সময়ে আমার চেয়েও বেশি শক্ত ছিল। এটা না বললে খুবই অন্যায় হবে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিচারক আমাদের মৃত্যুদণ্ড দেননি সেই মামলায়’।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পর ম্যান্ডেলার কারাবাস শুরু হয় রবেন দ্বীপের কারাগারে। এখানে তিনি তাঁর ২৭ বছরের কারাবাসের প্রথম ১৮ বছর কাটান। কারাবাস জীবন সম্পর্কে ১৯৭৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী উইনি ম্যান্ডেলাকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন

‘কারাগারের খুপরি হচ্ছে নিজেকে জানতে শেখার উপযুক্ত এক স্থান; এখানেই মন-মানসিকতার মতি-গতি ও পরিবর্তনের পরম্পরাকে প্রত্যক্ষ ও বাস্তবানুগভাবে খোঁজ করা যায়। ব্যক্তি হিসেবে আমরা যখন আমাদের অগ্রগতির বিচার করতে যাই তখন সামাজিক অবস্থান, প্রভাব প্রতিপত্তি, বিত্ত-বৈভব আর ‘সার্টিফিকেটের শিক্ষা’-র মতো অলংকৃত বিষয়সমূহ মানদণ্ড হিসেবে আমাদের মনযোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পার্থিব জীবনের সাফল্য মাপতে এই ব্যাপারগুলো অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। তবে অনেকে যখন এ সকল অলঙ্কার অর্জনে নিজেকে বিলিয়ে দেয় তখন এ সবের আমলযোগ্যতা আরো প্রবলভাবে উপলব্ধি করা যায়। কিন্তু মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার মাপকাঠি নির্ণয়ে মনের ভেতরের অন্তর্নিহিত বিষয়সমূহ হয়তো আরো বেশি তাৎপর্যময়’।

বন্দী জীবনে ম্যান্ডেলা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হন। কারাগারের অবস্থা ছিলো বেশ শোচনীয়। কারাগারেও বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিলো। ম্যান্ডেলা তাঁর জীবনীতে লিখেছেন, তাঁকে ডি-গ্রুপের বন্দী হিসাবে গণ্য করা হতো, অর্থাৎ সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দীদের তালিকায় তাঁকে রাখা হয়েছিলো। তাঁকে প্রতি ৬ মাসে মাত্র একটি চিঠি দেয়া হতো এবং চিঠি হাতে দেয়ার আগে তার অনেক জায়গাই কালি দিয়ে পাঠ অযোগ্য করে দেয়া হতো।

কারাগারে কষ্টের কথা উঠে এসেছে তাঁর মেয়ে  জেনি ও জেন্দজিকে লেখা চিঠিতে। ‘গত বছর দুটো চিঠি লিখেছিলাম তোমাদের। আমি নিশ্চিত, সেগুলো তোমাদের কাছে পৌঁছানো হয়নি। পাবে না জেনেও আমি তোমাদের চিঠি লিখি কেন জানো? তোমাদের যখন লিখি, অসম্ভব আনন্দ পাই। মনে হয়, আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি। মা-মনিরা, আমি তোমাদের অসম্ভব ভালোবাসি। আমার ভালোবাসার কথা তোমাদের এই চিঠি ছাড়া আর কোনোভাবে বলার সুযোগ নেই। চিঠিগুলো লিখে আমি তোমাদের না দেখতে পাওয়ার কষ্টও ভুলি, মনে শান্তি পাই’।

কারাগারে থাকার সময়ে ম্যান্ডেলা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় পড়াশোনা শুরু করেন এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে ম্যান্ডেলাকে রবেন দ্বীপের কারাগার থেকে পোলস্মুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

১৯৮৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি পি ডব্লিউ বোথা ম্যান্ডেলাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেন। ম্যান্ডেলা এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে তিনি তার বিখ্যাত উক্তিটি করেন।

‘কেবল মুক্ত মানুষই আলোচনায় বসতে পারে। বন্দীরা কখনো চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না’।

পরের চার বছর ধরে ম্যান্ডেলার সাথে সরকার একাধিকবার আলোচনায় বসে। কিন্তু এসব আলোচনায় বিশেষ কোনো অগ্রগতি হয়নি। ১৯৮৮ সালে ম্যান্ডেলাকে ভিক্টর ভার্সটার কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়। মুক্তির আগ পর্যন্ত ম্যান্ডেলা এখানেই ছিলেন।
৪৬৬/৬৪ নম্বর বন্দী ম্যান্ডেলাকে ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেয়া হয়। ম্যান্ডেলার কারামুক্তির ঘটনাটি সারাবিশ্বে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। জেল থেকে বের হবার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় যুগ যুগ ধরে চলে আসা ‘বর্ণবাদে’ নামে ধস। বার্লিন দেয়ালের মতো ধসে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ শাসন। কারামুক্তির পর ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত তিনি এই দলের নেতা ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র ক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন-

‘আমাদের দেশে আমরা প্রথমে কারাগারে যাই, তারপর প্রেসিডেন্ট হই’।

জনপ্রিয়তার কারণে তিনি আজীবন রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখতে পারতেন। কিন্তু  তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা ছেড়ে নেমে পড়েন ‘শিশুদের জন্যে হ্যাঁ বলুন’ কর্মসূচিসহ নানা মানবিক আন্দোলনে। বিশ্বের মানবতাবাদী সাবেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের নিয়ে ‘দি এলডার্স’ নামের একটি সংগঠন করেছেন। এইডস প্রতিরোধসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা অনন্য। তাঁর এই বহুমুখি গুণের ব্যাপারে তিনি বলেন-

‘সততা, সচেতনতা, সরলতা, মানবিকতা, অমায়িকতা, পরের তরে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া- এ সকল গুণ সব মনের নাগালের সীমার মাঝেই থাকে। নিভৃতে থাকে আধ্যাত্মিক মনের ভিত্তি স্তম্ভরূপে। এ সকল অন্তর্নিহিত গুণ করায়ত্ত করা তখন অসম্ভব, যখন তুমি অজানাই রয়ে যাও তোমার নিজের কাছে। যখন তুমি জানো না তোমার দুর্বলতা কোথায়; যখন তুমি অন্ধ তোমার ভুলগুলো নিয়ে’।

ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা হিংসা ও হানাহানিমুক্ত হয়ে জাতীয় উন্নয়নে সকলের সমান অংশ গ্রহণ নিশ্চিত হয়। আর সাদা-কালো সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা এগিয়ে যায় উন্নতির কাঙ্খিত পথে।
ম্যান্ডেলা চাইলে অনুসারীদের ওপর নিপীড়নকারী বর্ণবাদীদের নির্মূলবা নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারতেন। কিন্তু ম্যান্ডেলা সে পথে যাননি। তিনি গুরুতর অপরাধী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন ট্রুথ কমিশনের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন-

‘আমি যুদ্ধ করেছি শ্বেতাঙ্গদের প্রভাবের বিরুদ্ধে এবং একই সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গদের প্রভাবের বিরুদ্ধেও। আপনি যদি আপনার শত্রুর সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে চান, আপনাকে আপনার শত্রুর সঙ্গে কাজ করতে হবে। তারপর সে হবে আপনার সহযোগী’।

তাঁর এই মহানুভবতা মানবতার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে থাকবে চিরকাল। শুধু তাই নয়, ম্যান্ডেলার ওই সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায়ও এক অনুপম নজির স্থাপন করেছে। সবার কাছ থেকে ম্যান্ডেলার প্রাপ্ত ভালোবাসা আর সবার মনে স্থান পাওয়ার গোপন কথা বলেছেন তার আত্মজীবনী মুলক বই এ লং ওয়াক টু ফ্রিডমে।

‘একটি লোক বুঝতে পারে এমন ভাষায় যদি আপনি কথা বলেন, সে কথা তার মাথায় পৌঁছবে। আর আপনি যদি তার ভাষায় তার মতো করে কথা বলেন, তবে সে কথা তার অন্তরে প্রবেশ করবে’।

গত চার দশকে ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার। আর তাঁর এতোসব অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই সম্প্রতি জাতিসংঘ ম্যান্ডেলার জন্মদিন ১৮ জুলাইকে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার সাভারে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা ও প্রকাশ করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত। ভিডিও তৈরি ও সম্পাদনা, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং পাবলিক লেকচারের প্রতি আগ্রহ তাঁর।

View all posts by সম্পাদক →

২ Comments on “গাছের ডাল ভাঙা সেই ছেলেটি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *