সঠিক পেশা বাছাই করবেন যেভাবে

সঠিক পেশা বাছাইয়ের ৫ উপায়

ফারসিন বিনতে সুলতান :::::::::::::

আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেছেন যে, আমি কি সঠিক পেশা বেছে নিয়েছি? আমাদের দেশের সমাজ-ব্যবস্থায়, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পারিবারিক মানসিক চাপ আসতে শুরু করে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকরি ইত্যাদি লিস্ট তৈরি হতে থাকে। অথচ তখন অবধি আমরা ক্যরিয়ার কী তা-ই বুঝে উঠতে পারি না। অনেকেই আছে নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা সব বিসর্জন দিয়ে দেয় হাসিমুখে। কিন্তু কর্মজীবন তো হার মানতে বাধ্য না। বলা হয়ে থাকে– ‘এমন কাজ বেছে নাও যা তুমি ভালোবাস, তাহলে তোমার জীবনে কখনো আর কাজ করতে হবে না’। অর্থাৎ তুমি যে কাজ করতে পছন্দ করো তাই যদি পেশা হিসেবে বেছে নাও তাহলে তোমার কাজ এতটাই সহজ লাগবে যে কাজ করা অনেক আনন্দের হবে। সঠিক পেশা নির্বাচন করা কঠিন কিন্তু যদি খুঁজে নিতে পারেন তবে তা হবে আত্মতৃপ্তির। আমেরিকাতে ৭৫% মানুষ অন্তত একবার হলেও নিজের পেশা পরিবর্তন করেছেন। আর ৩৩% মানুষ এখনো ভাবছে পরিবর্তনের কথা। আপনি হয়তো ভাবছেন যে, আমি কী করে জানব কোন পেশা আমার জন্য মানানসই? এখনো যদি আপনি আপনার পেশায় আটকে পরে আছেন বলে মনে হয়, বিভ্রান্ত থাকেন, অথবা নতুন কোনো কাজে যোগদান করতে যাচ্ছেন- তাহলে এই ৫টি উপায় আপনার জন্য।

এক. নিজের পছন্দের বিষয়গুলোর একটি লিস্ট করুন

পছন্দের বিষয় নিয়ে কাজ করা সত্যি আনন্দের। যেমন – আজকাল অনেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করে। হতে পারে তা-ই ক্যারিয়ার। হ্যাঁ। আজকাল ছবি তুলেও অনেকে নিজের ব্যবসা শুরু করছে। তেমন করে আরো অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করার সুযোগ হচ্ছে। আপনি যদি কর্পোরেট চাকরি করতে চান তাহলে নিজের মেধার বিকাশকে কাজে লাগান। আপনার পছন্দ ও ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগান। রাখতে পারেন একের অধিক পছন্দ। মাঝে আপনি দুইটি পছন্দের মিশ্রণে করতে পারেন নতুন কিছু।

ফটোগ্রাফি
আজকাল অনেকেই ছবি তুলতে পছন্দ করে। হতে পারে তা-ই ক্যারিয়ার।

দুই. নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগান

আপনার নিশ্চয়ই কোনো কিছুর উপর দক্ষতা আছে। যা সচারাচর আমরা সিভিতে দিয়ে থাকি। তেমন করে তার ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের পছন্দের পেশা বেছে নিতে পারি। যেমন – অনেকে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তাহলে কেন নিজের এই প্রতিভাকে কয়েটা পাওয়ারপয়েন্টের জন্য রেখে দেবেন? কাজে লাগিয়ে হয়ে যেতে পারেন মিডিয়ার কোনো একজন। তাছাড়া শুরু করতে পারেন নিজের কোচিং ক্লাস। যেখানে শিখাতে পারেন কিভাবে সুন্দর করে কথা বলতে হয়। বা করতে পারেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও কিছু।

তিন. সঠিকভাবে যাচাই বাছাই

কোন চাকরি বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানি কী চায় তার পাশাপাশি নিজের পছন্দ, শখ, ইচ্ছা সবই খেয়ালে রাখা প্রয়োজন। চাকরিতে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। আগের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কিভাবে ব্যবহার করা যায় সেটাই আসল কথা। এর মাঝে নিজের মূল্যবোধ, দক্ষতা, ইচ্ছা বিষয়াদি সম্পর্কে জেনে বেছে নেয়া যায় কোন পেশা আমাদের জন্য ভালো হবে।

চার. নেটওয়ার্কিং

যখন আপনি নতুন ক্যারিয়ার খুঁজছেন অথবা নতুন চলার পান, নেটওয়ার্কিং তখন আপনার কাজকে সহজ করে দেয়। আপনি যত নতুন মানুষের সাথে দেখা করবেন, মিশবেন, আপনি ততই ভালো করে বুঝতে পারবেন কাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা। মানুষ কেমন করে তাদের কাজগুলো করছে, কিভাবে নিজেদের কাজকে আনন্দ নিয়ে করছে। আপনি যত মানুষের সাথে পরিচিত হবেন, ততই নতুন কিছু শিখবেন। কোনো কিছুই ব্যর্থ যাবে না। প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজ তাগিদে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। আপনার কর্মক্ষেত্রে আপনিও পারবেন। তবে সময় দিতে হবে, শিখতে হবে। তাই পরিচিতি থাকা আপনার অগ্রযাত্রায় সাহায্য করবে।

নেটওয়ার্কিং
নেটওয়ার্কিং আপনার কাজকে সহজ করে দেয়

পাঁচ. একজন মেনটরের সহায়তা নিন

কখনো একজন ভালো মেনটরের শক্তি ও মূল্য অবহেলা করবেন না। বিভিন্ন ধরনের মেনটর আছেন, যারা আপনার পাশে থাকবেন, আপনাকে সাহস দিবেন, আপনাকে কাজ শিখাবেন। সঠিক পথটি বেছে নিতে আপনাকে দিক নির্দেশনা দিয়ে যাবেন। এই মেনটর হতে পারে আপনার পরিবারের কেউ। হতে পারে আপনার গুরু। অথবা নতুন অফিসে আপনার নুতুন বস। আপনাদের মাঝে ভালো সম্পর্ক উন্নতির পথ দেখাবে।

বিশ্বাস করুন, নিজের স্বপ্নের ক্যারিয়ার খুঁজে পাওয়া এত সহজ নয়। এটি কঠিন তাই বলে এই না যে, তার কোনো মূল্য থাকবেনা। একবার ভেবে দেখুন, জীবনের কতখানি সময় আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে দিয়ে থাকেন? ৯০,০০০ ঘণ্টা একজন সাধারন মানুষের জন্য। আপনি চাইবেন, আপনি যত ঘণ্টা কাজ করবেন তা যেন যথার্থ হয়। তাই এমন ক্যারিয়ার বেছে নেয়া প্রয়োজন যা আমাদের আনন্দ দেয়, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেয়।

মনে রাখবেন, একটি নতুন দিন, নতুন কিছু করে দেখাবার সুযোগ। বিগত দিনের ব্যর্থতা আপনাকে মানসিকভাবে পিছিয়ে রাখবে কিন্তু নিজেকে সেই অবস্থা থেকে সরিয়ে আনতে হবে। চলার পথটি নিজেরই তৈরি করতে হবে। সময়ের ফেরে নতুন করে আশেপাশের মানুষদের চিনবেন। তাই বলে অবাক হবেন না। বরং নিজেকে প্রস্তুত করুন শক্ত করে। আজ যদি ব্যর্থ হন, তারপরও হতাশ হবেন না। নিজেকে বলুন সৃষ্টিকর্তা আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আপনার জন্য। তবে অবশ্যই নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে হবে। নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবেন। আর হ্যাঁ , কখনো আশা রাখবেন না যে কেউ এসে আপনার পাশে দাঁড়াবে, আপনাকে সাহায্য করবে। বরং নিজের অবস্থার উন্নতির আশায় বুক বাঁধুন। স্বপ্ন দেখুন যা আপনাকে জাগিয়ে তুলে।

About ফারসিন বিনতে সুলতান

সাধারণ মেয়ে মানুষ। বন্ধুহীন বলা চলে। বাসায় থাকতে পছন্দ। কোলাহল, মানুষ খুব একটা পছন্দসই নয়। মন খারাপ থাকলে খেয়ে, গান শুনে কাটানো হয়। ঘুম অনেক জরুরি আমার জন্য। আর নিজের জীবনকে গুছিয়ে ঠাণ্ডা রাখাই আপাতত পরিকল্পনা । ইংলিশে অনার্স করছি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকি ঢাকার গ্রিনরোডে।

View all posts by ফারসিন বিনতে সুলতান →

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *