Home » চাকরি-প্রস্তুতি » বিজিবিতে সিপাহী পদে নিয়োগ

বিজিবিতে সিপাহী পদে নিয়োগ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, নারী-শিশু-মাদক পাচারসহ যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি এ বাহিনীটি ৮৮তম ব্যাচে সিপাহি (জিডি) পদে সারা দেশ থেকে পুরুষ ও মহিলা নিয়োগ করবে বলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে ১ হাজার ২০০ জন পুরুষ ও ৫০ জন মহিলা সিপাহি নেওয়া হবে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।

আবেদনের যোগ্যতা
এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে এসএসসি পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-৩ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-২.৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। শুধু সাবেক ছিটমহলবাসী প্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি পাস হলেই আবেদন করা যাবে। তবে সাবেক ছিটমহলবাসীর মধ্যে এইচএসসি পাস প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পুরুষ ও মহিলা উভয় প্রার্থীদের বয়স হতে হবে ১০-০১-১৬ তারিখে ১৮ থেকে ২৩ বছর। পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা লাগবে পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি, মহিলা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। অন্যদিকে পুরুষ প্রার্থীদের ওজন হতে হবে ৪৯ দশমিক ৮৯৫ কেজি। বুকের মাপ হতে হবে ৩২ থেকে ৩৪ ইঞ্চি। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে ওজন ৪৭ কেজি এবং বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ২৮ ইঞ্চি ও স্ফীত অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি। উভয় প্রার্থীদের দৃষ্টিশক্তি লাগবে ৬/৬। তবে উপজাতীয়দের ক্ষেত্রে উচ্চতা, ওজন, বুকের মাপের ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে। প্রার্থীদের অবশ্যই অবিবাহিত ও সাঁতার জানতে হবে।

আবেদনের প্রক্রিয়া
এই পদে আবেদন করতে হবে এসএমএসের মাধ্যমে। টেলিটক প্রিপেইড মোবাইলের মাধ্যমে মেসেজ অপশনে গিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নিয়ম অনুসারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ১৬২২২ নম্বরে একটি এসএমএস পাঠাতে হবে। এরপর প্রার্থী পিন নম্বরসংবলিত একটি এসএমএস পাবেন। পিন নম্বরটি পাওয়ার পর প্রার্থীকে তাঁর পিন নম্বর, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য দিয়ে ১৬২২২ নম্বরে আরেকটি এসএমএস করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি বাবদ মোবাইলের ব্যালেন্স ১৬০ টাকা থাকতে হবে। এরপর প্রার্থীকে রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস তাঁর নিজস্ব মোবাইলে পাঠানো হবে। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির তারিখ ও স্থান জানানো হবে। ভর্তির সময় উল্লেখিত স্থানে ১০ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। সৈয়দ ফজলে কাদের আহমেদ বলেন, এসব কাগজপত্র ভুয়া বা কোনো ধরনের জাল প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।


নির্বাচন প্রক্রিয়া

আবেদন করা প্রার্থীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজিবির বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত সেক্টরগুলোর সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে প্রার্থীদের প্রথমে প্রাথমিক ডাক্তারি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এখান থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। লিখিত পরীক্ষা প্রসঙ্গে উপ-মহাপরিচালক (রেকর্ড) সৈয়দ ফজলে কাদের আহমেদ বলেন, লিখিত পরীক্ষা সাধারণত বাংলা, গণিত, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর মোট ১০০ নম্বরের হয়ে থাকে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আবার চূড়ান্ত ডাক্তারি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এখানে প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হবে। এরপর তাঁদের আবার পুলিশ ভ্যারিফিকেশনের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ: চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বর্ডার গার্ড ট্রেইনিং সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (বিজিটিসি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে। এই প্রশিক্ষণে যাঁরা ভালো করতে পারবেন তাঁদের সীমান্তে বা বিভিন্ন জেলার বিজিবির সেক্টরগুলোতে নিয়োগ করা হবে।
বেতন-ভাতা ও পদোন্নতি : চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সিপাহি জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। এ ছাড়া চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর বাসস্থান, চিকিৎসাসুবিধা, রেশন, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ, ৩০ শতাংশ সীমান্ত ভাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একজন সিপাহি তাঁর যোগ্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে ল্যান্স নায়েক, নায়েক, হাবিলদার, নায়েব সুবেদার, সুবেদার এমনকি বিভাগীয় অফিসার পর্যন্ত হতে পারেন বলেও জানান সৈয়দ ফজলে কাদের আহমেদ ।
ভর্তিসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য ভিজিট করতে পারেন (www.bgb.gov.bd) এই ঠিকানায়।

সূত্র : প্রথম আলো (চাকরি-বাকরি)

Career Intelligence on Youtube

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার মতিঝিলে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত।