Null
Home » ক্যারিয়ার ফোকাস » হতে পারেন অটো মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার

হতে পারেন অটো মোবাইল ইঞ্জিনিয়ার

Automobile-engineer

চরম প্রতিযোগিতার এই যুগে সঠিক ক্যারিয়ার গড়তে প্রয়োজন পরিকল্পিত ও কর্মমুখী শিক্ষা। ক্যারিয়ার গঠনে এমন একটি কর্মমুখী বিষয় হলো অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। বর্তমানে বিকাশমান আটোমোবাইল শিল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে অনেক দক্ষ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন। আপনিও ইচ্ছে করলে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

কাজের ধরন
সাধারণত এই শিল্পে কাজের তিনটি ভাগ রয়েছে।
১. উৎপাদন
২. সেলস
৩. সার্ভিসিং

উৎপাদন ক্ষেত্রে কাজের আবার কয়েকটি ভাগ আছে। যেমন-ডিজাইন, ড্রয়িং ও ক্যালকুলেশন ইত্যাদি। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়াররা এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা দেখানোর ব্যাপক সুযোগ পান।
সেলস বিভাগে গাড়ি বিপণন, বিক্রয় ও বিতরণের কাজ করা হয়ে থাকে। এই বিভাগে ভালো করতেও কারিগরি জ্ঞান খুব ভালো রাখতে হয়। গ্রাহকের চাহিদা বুঝে, সে অনুযায়ী গাড়ি সম্পর্কে ভালো ধারনা, ইঞ্জিন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা এই বিভাগের মূল দায়িত্ব।
বিক্রয়-পরবর্তী সার্ভিসিং বলতে ওয়ারেন্টিযুক্ত বা সার্ভিস ফি দিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মেরামত ও সার্ভিসিং করা হলো এই বিভাগের প্রধান কাজ।

কাজের ক্ষেত্র
অটোমোবাইল শিল্পে কাজের ক্ষেত্র এখন বেশ বিস্তৃত। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যেভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ছে সেক্ষেত্রে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ২৫টিরও বেশি গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করছে এবং এই শিল্পকে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করছে। এর ফলে আমাদের দেশে গাড়ি উৎপাদনের বিরাট সুযোগের সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের দেশে কার সার্ভিস সেন্টারের তুলনায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বেশ কম। তাই এ সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি। ফলে এ বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না।

পরিবহন প্রতিষ্ঠান কিংবা যাঁরা ট্রাকের ব্যবসা করেন, তাঁদের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন। এ ছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাঁদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনের জন্য অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করে থাকেন। গাড়ি বিক্রির দোকানগুলোতেও কাজ করা যেতে পারে। আমদানি করা নতুন গাড়ি কিংবা রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির ত্রুটি সারাতে কাজ করেন তাঁরা।

তাছাড়া এ বিষয়ে লেখাপড়া করে বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও আছে। বিদেশে গাড়ির কারখানা থেকে শুরু করে গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা প্রচুর।

আয়-রোজগার
সদ্য পাস করা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ারের পদে যোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। একজন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এ ছাড়া গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন এক লাখ টাকার বেশিও হতে পারে। মূলত দক্ষতার ওপর আপনার বেতন নির্ভর করবে।

কেউ যদি নিজেই গাড়ি মেরামতের গ্যারেজ প্রতিষ্ঠা করেন, তাহলে সব খরচ মিটিয়ে স্থানভেদে মাসে ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তাছাড়া দেশের বাইরে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের কদর বেশি। এসব জায়গায় গাড়ি তৈরির কারখানা ও গাড়ি মেরামতের দোকানে বড় অঙ্কের বেতনে চাকরি করা সম্ভব।

নিজস্ব সার্ভিসিং সেন্টার
অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়াররা চাইলে নিজেরাই প্রতিষ্ঠা করতে পারেন একটি কার সার্ভিস সেন্টার। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও। প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করতে পারলে এ খাতে দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ দেবে।

পড়াশোনা
আমাদের দেশে বেশ কিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। আজকাল মেয়েরাও এই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে ন্যুনতম এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোর্স করতে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করতে খরচ লাগবে প্রায় তিন লাখ টাকা।

যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা-ইন-অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করা যাবে-

১. ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও, ঢাকা-১২০৮।
২. বাংলাদেশে-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কাপ্তাই, রাঙামাটি।
৩. বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ই-৩৯৫, হাতেম খাঁ তমিজউদ্দিন রোড, রাজশাহী।
৪. শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ১৬/সি-ডি, ব্ল-ডি, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ফোন : ৯১৪৩২৮৬, ০১৭১২৬৩৪৮৭১।
৫. মটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা।
৬. চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজ, ১২৯, মুরাদপুর, বিশ্বরোড, চট্টগ্রাম।

সূত্র: ইন্টারনেট

Career Intelligence on Youtube