Null
Home » পড়াশোনা » পড়ার বিষয় » চারুকলায় পড়াশোনা

চারুকলায় পড়াশোনা

tokaiবারেক কায়সার

ব্যতিক্রমী বিষয়ে পড়ার ইচ্ছে লালন করে অনেকে। চারুশিল্পী হওয়ার ইচ্ছে যদি থাকে। যদি পড়তে চান চারুকলায়। সেইসব বন্ধুদের জন্যই এই আয়োজন। সৃষ্টিশীল পড়াশোনা হয় চারুকলায়। শিল্প-সংস্কৃতির দিকে যাদের আগ্রহ বেশি তাদের জন্য উপযুক্ত চারুকলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষক নাসিমুল খবির বলেন, যারা নিজের সৃষ্টিশীলতাকে কাজে লাগাতে চায়, সাধারণত সেসব শিক্ষার্থীই চারুকলায় পড়তে বেশি আগ্রহী।

যেখানে পড়বেন
দেশে চারুকলা বিষয়ে পড়াশোনার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এর যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। প্রতিষ্ঠাকালীন নাম ছিল গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট। অধ্যক্ষ ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনা ও নারায়ণগঞ্জে আর্ট কলেজ রয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা রয়েছে।

যেসব বিষয় পড়ানো হয়
চারুকলার শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো— অংকন ও চিত্রায়ন, গ্রাফিক ডিজাইন, ছাপচিত্র, ভাস্কর্য, প্রাচ্যকলা, মৃিশল্প, কারুশিল্প এবং শিল্পকলার ইতিহাস। ইন্সটিটিউটে সব বিষয় সম্পর্কে সাধারণ ভিত্তিমূলক ধারণা দেয়ার জন্য একটি ‘সমন্বিত পাঠ্যক্রমের’ আওতায় পাঠদান করা হয়। ক্লাস শুরুর ছয় মাসের মধ্যেই বিভাগ অন্তর্ভুক্তির কাজ শেষ করা হয়।

যোগ্যতা ও কোর্সের মেয়াদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চারুকলা অনুষদের অধীনে প্রতিটি বিভাগে চার বছরমেয়াদি অনার্স কোর্স এবং এক বছরমেয়াদি মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ‘চ’ ইউনিটের মাধ্যমে। এ অনুষদে ভর্তির জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জিপিএ আলাদাভাবে ৩ এবং একত্রে ন্যূনতম ৬.৫০ থাকতে হয়।

পরীক্ষা পদ্ধতি
চারুকলা অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তত্ত্বীয় এবং ব্যবহারিক। এছাড়া ভর্তি প্রার্থীকে তত্ত্বীয় এবং ব্যবহারিকে আলাদাভাবে পাস করতে হবে।

ড্রয়িং
এ বিভাগে ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের সামনে মানুষ বা কোনো বস্তুকে মডেল হিসেবে রাখা হয়। পরীক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরবরাহকৃত কাগজে পেন্সিলের মাধ্যমে মডেলটির অবয়ব ফুটিয়ে তুলতে হয়।

ডিজাইন
বিভিন্ন কর্ম (ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত) আকার-আকৃতি ও রেখার সমন্বয়ে ‘সাদা-কালো’তে নির্দিষ্ট মাপে ডিজাইন করতে হয়। ফুল, পাতা-লতা, পাখি, রেখা ইত্যাদি সমন্বয়ে ডিজাইন তৈরি করতে হয়। ডিজাইন আঁকা নির্দিষ্ট কাগজে কালো কালি ও তুলির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

শিল্পকলা ও সাধারণ জ্ঞান
এক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সভ্যতা-সংস্কৃতি, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সাহিত্য, নাট্যকলা, সঙ্গীত, রাজনীতি, বিজ্ঞান, চলমান খবরা খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।

সূত্র: ইত্তেফাক

Career Intelligence on Youtube