Home » খেলাধুলায় ক্যারিয়ার » নাম যশ ও অর্থের খেলা টেনিস

নাম যশ ও অর্থের খেলা টেনিস

নাম, যশ, খ্যাতি, সম্মান, অর্থের খেলা টেনিস। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে গ্ল্যামারনির্ভর খেলাও এটি। তাই এ খেলার তারকারা এক একজন হয়ে উঠেছেন একটি জাতি, দেশ বা অঞ্চলের প্রতিনিধি। দৃষ্টান্ত হিসেবে বলা যায় সার্বীয় নোভাক জোকোভিচ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্দ্রে আগাসি, পিট সামপ্রাস, জার্মানির স্টেফিগ্রাফ, স্পেনের রাফায়েল নাদাল, সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার কিংবা জাপানের আই সুগিয়ামা। রাশিয়ার সুন্দরীতমা মারিয়া শারাপোভা এবং আনা কুর্নিকোভা নেহায়তই রূপ, গ্ল্যামার দিয়ে জয় করে রেখেছেন টেনিসের আকাশ। আর বর্তমানের ক্রেজ ভারতীয় সেনসেশন সানিয়া মির্জা ও এশিয়ার প্রথম গ্রান্ডস্লাম চ্যাম্পিয়ন চীনের লি নাতো আছেই। এরা প্রত্যেকেই স্বজাতির প্রতিনিধিত্ব করেছেন সারাবিশ্বে। আপনিও পারেন নাম, যশ, খ্যাতি, সম্মানের খাতায় নাম লেখিয়ে দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে। এ সংখ্যায় টেনিস নিয়ে লিখেছেন তালহা বিন জসিম

পরিচিতি
বর্তমান বিশ্বের এই অন্যতম জনপ্রিয় খেলা অনেক জায়গায় লন টেনিস নামেও পরিচিত। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ মনে করেন বারো শতকে ফ্রান্সে টেনিসের জন্ম। তবে ষোল শতকের দিকে টেনিসের জনপ্রিয়তা তৈরি হয় ইংল্যান্ডে। ১৮৭২ সালের ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে প্রথম টেনিস ক্লাব লিমিংটন স্পা গঠনের মধ্য দিয়ে টেনিস মোটামুটি আনুষ্ঠানিক রূপ পায়। প্রথম দিকে শুধু ইংরেজিভাষী উচ্চশ্রেণীর মধ্যে টেনিস প্রচলিত ছিলো। ১৮৮৭ সালে লন্ডনের উপকণ্ঠে উইম্বলডনের অল ইংল্যান্ড ক্লাবে প্রথম উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ  প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আধুনিক টেনিসের বিকাশ। ১৯২৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন গঠিত হয়, যা আন্তজার্তিকভাবে টেনিস খেলা নিয়ন্ত্রণ করে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া ডেভিস কাপ টুর্নামেন্টেরও পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল টেনিস ফেডারেশন ।
সাধারণত দুইভাবে টেনিস খেলা হয়। সিঙ্গেল (একজন বনাম একজন), ডাবলস্ (দুইজন বনাম দুইজন)। বর্তমানে পুরুষদের তালিকায় শীর্ষস্থানে আছেন এবারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন নোভাক জোকোভিচ। দ্বিতীয় স্থানটি স্পেনের রাফায়েল নাদালের। এর পর আছেন যথাক্রমে রজার ফেদেরার ও অ্যান্ডি মারে। মেয়েদের এককের শীর্ষস্থানটা ধরে রেখেছেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি।

বিভিন্ন ধরনের কোর্ট
মূলত পাঁচ ধরনের কোর্টে টেনিস খেলা হলেও বর্তমানে এ পৃথিবীতে পেশাদার টেনিস খেলা হয় তিন ধরনের কোর্টে।
১. ক্লে কোর্ট বা মাটির কোর্ট : দুই ধরনের মাটির কোর্ট আছে-লাল ও সবুজ মাটির। ফ্রেঞ্চ ওপেন খেলা হয় লাল মাটিতে। ক্লে কোর্টে তুলনামূলক বলের গতি কম হয়। বল এখানে তুলনামূলক বেশি স্পিন করে।
২. হার্ড কোর্ট : সাধারণত কনক্রিট, অ্যাক্রেলিক ও অ্যাসফল্ট দিয়ে তৈরি হয় এ ধরনের কোর্ট। উদাহরণ হিসেবে আছে অস্ট্রেলিয়ান ও ইউএস ওপেন। এ কোর্টে বলের বাউন্স অনেক বেশি এবং অনেক বেশি গতিতে ছোটে বল।
৩. গ্রাস কোর্ট : নামেই বুঝতে পারছেন ঘাসের কোর্ট। উইম্বলডন খেলা হয় এ সারফেসে। এ ধরনের কোর্টে বিরক্তিকর বাউন্স তৈরি হয় এবং বল তুলনামূলক বেশি গতিতে আসে।
৪. কার্পেট কোর্ট : কোনো ধরনের কৃত্রিম সারফেস বসিয়ে খেলার ব্যবস্থা। এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। এখন আর পেশাদার টেনিসে ব্যবহৃত হয় না।
৫.কাঠের কোর্ট : ১৮৮০ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগ পর্যন্ত দারুণ জনপ্রিয় ছিল কাঠের সারফেসে টেনিস খেলা। ধীরে ধীরে এ কোর্টটি বিলুপ্তই হয়ে গেছে বলা যায়।
সিঙ্গেল ম্যাচে কোর্ট ৭৮ ফুট লম্বা ও ২৭ ফুট চওড়া হবে। ডাবল ম্যাচে চওড়া হবে ৩৬ ফুট। নেট পোস্টের কাছে ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি উঁচু থাকবে। মাঝে উচ্চতা হবে ঠিক ৩ ফুট। জালের দুই পাশে দু’টি করে চারটি সার্ভিস কোর্ট থাকে জাল থেকে যাদের দৈর্ঘ্য ২১ ফুট। লম্বায় দুই পাশে দুইটি নির্দিষ্ট মাপের ট্রাম লাইন থাকে।

খেলার নিয়ম
টেনিস খেলায় দুই পক্ষের খেলোয়াড় জালের বিপরীত দিকে অবস্থান নেয়। এক দিকের খেলোয়াড় বলটি প্রথমে মারে তার বিপরীত পাশের খেলোয়াড়ের দিকে। একে সার্ভ করা বলে। যে বল মারে তাকে সার্ভার এবং বিপরীত প্রান্তের খেলোয়াড়কে রিসিভার বলে। ‘সার্ভার’-কে তার বেস লাইনের বাইরে থেকে বল মারতে হয়। তবে রিসিভার যে কোন জায়গায় অবস্থান নিতে পারেন। সার্ভিসের বল খেলোয়াড়ের বিপরীত দিকের সার্ভিস কোর্টে জাল না ছুঁয়ে পাঠাতে হয়। যদি সার্ভিসে কোনো ধরনের ভুল হয়। তবে ‘সার্ভার’ দ্বিতীয় সুযোগ পায় সার্ভিস করার। দ্বিতীয় সার্ভিস ভুল হলে ‘ডবল ফল্ট’ বলে এবং রিসিভার পয়েন্ট পায়। সঠিক সার্ভিস হলে খেলার মূল অংশ (র‌্যালী) শুরু হয় যেখানে প্রতিটি খেলোয়াড় বল মেরে ফেরত পাঠায় বিপক্ষ দলের কোর্টে। এভাবে বল দেয়া নেয়া করে তারা প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেষ্টা করে যাতে প্রতিপক্ষ বলটি সঠিক ভাবে তাকে ফেরত পাঠাতে না পারে। যদি প্রতিপক্ষ সঠিকভাবে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয় তবে খেলোয়াড় পয়েন্ট পায়। সঠিকভাবে বল পাঠাতে হলে খেলোয়াড়কে একবার আঘাত করে বল প্রতিপক্ষের কোর্টে নিয়ে ফেলতে হবে এবং সেটা করতে হয় প্রতিপক্ষের পাঠনো বল দুইবার মাটিতে পড়ার আগে।

পয়েন্ট ও স্কোরিং
পয়েন্ট হল টেনিস স্কোরিংয়ের ক্ষুদ্রতম ইউনিট। যিনি সার্ভ করছেন, তিনি পরপর দু’বার ভুল সার্ভ করলে প্রতিপক্ষ সরাসরি একটি পয়েন্ট পেয়ে যাবেন। তা না হয়ে বৈধ সার্ভ হলে যে পক্ষ বৈধভাবে বল ফেরাতে ব্যর্থ হবেন, প্রতিপক্ষ পাবেন পয়েন্ট। পয়েন্ট হিসাবটা একটু অন্যভাবে করা হয়। এখানে ১, ২, ৩ পয়েন্ট হিসাব না করে যথাক্রমে ১৫, ৩০ ও ৪০ এভাবে প্রথম ৩ পয়েন্ট গণনা করা হয়। চতুর্থ পয়েন্টে গিয়ে হয় গেম। এক পয়েন্ট এগিয়ে থাকাকে বলে অ্যাডভান্স, পয়েন্ট সমান হলে ডিউস। একটি গেম জিততে গেলে প্রতিপক্ষের চেয়ে কমপক্ষে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থাকতে হয়। নতুবা খেলা চলতেই থাকে।
এভাবে ছয়টি গেম দিয়ে হয় একটি সেট। এভাবে তিন বা পাঁচটি সেটে খেলার নিষ্পত্তি হয়। সাধারণত মেয়েদের বেলায় তিন সেটে এবং ছেলেদের বেলায় পাঁচ সেটের খেলা হয়। সেট ব্যবধান ২ থাকলে তবে একজনের জয় হয়। তবে গেম জেতার জন্য কোনো খেলোয়াড়কে পর পর দুই পয়েন্ট পেতে হয়। এভাবে কোনো খেলোয়াড় যদি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সাথে কমপক্ষে দুই গেম ব্যবধান রেখে ছয়টি গেম জয় করতে পারে তবে সে একটি সেট জিতে নিতে সক্ষম হয়। এভাবে সর্বোচ্চ সেট জয়ী খেলোয়াড় বিজয়ী হয়।
কোনো সেটে ৬-৬ গেমে সমতা চলে আসলে তখন খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে দুই খেলোয়াড় মোট ১২ পয়েন্টের জন্য খেলেন; প্রতি সার্ভিসে এক পয়েন্ট। যিনি আগে ৭ পয়েন্ট জিততে পারবেন, সেট তার। তবে শেষ সেটে খেলা গড়ালে তখন আর টাইব্রেকার পয়েন্টের ব্যবধানে হয় না। তখন ফের দুই গেমের ব্যবধান রেখে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

টেনিসের চার গ্র্যান্ড স্ল্যাম
সাধারণত টেনিসের চারটি বড় টুর্নামেন্ট প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়, যা গ্র্যান্ড স্ল্যাম নামে পরিচিত। টুর্নামেন্ট চারটি হলো অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন। এই ওপেন যুগ শুরু হয় ১৯৬৮ সাল থেকে। বছরের প্রথম ওপেন টুর্নামেন্ট হলো জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। এরপর মে-জুনে ফ্রেঞ্চ ওপেন, জুন-জুলাইতে উইম্বলডন। বছরের সর্বশেষ টুর্নামেন্ট হলো ইউএস ওপেন ।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম। ১৯০৫ সালে যাত্রা শুরু। ১৯০৫ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত গ্রাস কোর্টে অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৮৮ সাল থেকে হার্ড কোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ম্যাট্স উইল্যান্ডার হলেন একমাত্র পুরুষ খেলোয়াড় যিনি গ্রাস ও হার্ড দুই কোর্টেই এই টুর্নামেন্ট জিতেছেন। প্রথম দিকে নাম ছিল অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৯২৭ সালে নাম দেয়া হয় ‘অস্ট্রেলিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ’। আর ১৯৬৯ সাল থেকে ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন’। অন্যান্য গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও পুরুষ ও মহিলা একক; পুরুষ, মহিলা ও মিশ্র দ্বৈত; জুনিয়র, হুইলচেয়ার ও লিজেন্ডদের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি এবং নিউজিল্যান্ডের দু’টি শহরে এ টেনিস টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হতো।
১৯৭২ সালে প্রতিবছর একটিমাত্র সিটিতে খেলার সিদ্ধান্ত হয়। মেয়েদের সিঙ্গেলসের বিজয়ীকে ডেপনে আখারস্ট মেমোরিয়া ট্রফি এবং ছেলেদের সিঙ্গেলস বিজয়ীকে নরম্যান ব্রুকস চ্যালেঞ্জ কাপ ট্রফি পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১০ সাল থেকে পুরুষ ও মহিলা এককের বিজয়ীকে সমপরিমাণ প্রাইজমানি দেয়া হচ্ছে। মেয়ে ও পুরুষ এককের চ্যাম্পিয়নরা পান ২২ লাখ ডলার প্রাইজমানি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন নোভাক চেকোভিজ। মেয়েদের এককে ওপেন চ্যাম্পিয়ান কিম ক্লাইস্টার্স।
ফ্রেঞ্চ ওপেন
বিশ্বের প্রিমিয়ার ক্লে কোর্ট টেনিস টুর্নামেন্ট হল ফ্রেঞ্চ ওপেন। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট এটি। ক্লে কোর্টে হওয়া এটিই একমাত্র গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্ট। আগে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল নাম ছিল ফ্রেঞ্চ ইন্টারন্যাশনাল অব ডি রোলাঁ গ্যাঁরো। সংক্ষেপে বলা হয় রোলাঁ গ্যাঁরো টুর্নামেন্ট। সারা বিশ্বে যা ফ্রেঞ্চ ওপেন নামেই সমাধিক পরিচিত। তবে ফ্রান্সে টুর্নামেন্টটি শুধু রোলাঁ গ্যাঁরো নামেই পরিচিত।
ফ্রান্সের এ জাতীয় টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয় ১৮৯১ সাল থেকে। প্রথম মেয়েদের টুর্নামেন্ট শুরু হয় ১৮৯৭ সালে। ১৯৬৮ সালে প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম হিসেবে অদক্ষ ও পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়দের খেলতে অনুমতি দেয় ফ্রেঞ্চ ওপেন। ১৯৮১ সাল থেকে নতুন পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। দ্য বেস্ট স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য দেয়া হয় দ্য প্রিক্স, স্ট্রংগেস্ট ক্যারেক্টার ও পারসোনালেটির জন্য দ্য প্রিক্স সিট্রন এবং রেভেলাশন অব দ্য ইয়ার ক্যাটাগরিতে দেয়া হয় প্রিক্স বোর্গিওন।
২০০৭ সালের মার্চে প্রথমবারের মতো ছেলে ও মেয়েদের জন্য সমান প্রাইজমানি দেওয়ার ঘোষণা আসে। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ছেলে ও মেয়েদের এককে চ্যাম্পিয়ন উভয় খেলোয়াড় পান ১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো। আর রানার আপরা পান ৫ লাখ ৬০ হাজার ইউরো। বর্তমানে ফ্রেঞ্চ ওপেনের পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন রাফায়েল নাদাল। মেয়েদের এককে ওপেন চ্যাম্পিয়ন চীনের লি না।
উইম্বলডন
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন টেনিস টুর্নামেন্ট হলো উইম্বলডন। অনেকের মতে, যে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে অভিজাত এবং দামি হচ্ছে উইম্বলডনের ট্রফি। ঐতিহ্যবাহী তো বটেই। লন্ডনের উপকণ্ঠে উইম্বলডনের অল ইংল্যান্ড ক্লাবে এ প্রতিযোগিতা প্রথম হয়েছিল ১৮৭৭ সালে। চার গ্র্যান্ড স্লামের মধ্যে কেবল উইম্বলডনেই সেই আদি ঘাসের কোর্টে খেলা হয়। প্রতিবছর জুনের তৃতীয় সপ্তাহে উইম্বলডন শুরু হয়। এটাই নিয়ম। ১৮৭৭ সালে প্রথম যে উইম্বলডন টেনিস হয়েছিল, তাতে কেবল পুরুষদের এককই ছিল। ১৮৮৪ সালে উইম্বলডনে মহিলাদের একক এবং পুরুষদের দ্বৈত প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯১৩ সাল থেকে শুরু হয় মহিলাদের দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। ১৯২২ সালের আগ পর্যন্ত বর্তমান চ্যাম্পিয়নকে কেবল ফাইনালই খেলতে হতো। ১৯৬৮ সালের আগ পর্যন্ত উইম্বলডনে অপেশাদার খেলোয়াড়রাই খেলতেন। ১৯৬৮ সাল থেকেই শুরু পেশাদারদের উন্মুক্ত যুগ।
টিভিতে প্রথম উইম্বলডন দেখানো হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। ৭০ বছর ধরে বিবিসি এ টুর্নামেন্টের টেলিভিশন স্বত্ত্ব ধরে রেখেছে। ১৯৬৭ সালের ১ জুলাই উইম্বলডন প্রথমবারের মতো সম্প্রচার করা হয়েছিল রঙিন টেলিভিশনে। উইম্বলডনে রয়েছে অফিসিয়াল বলবয় ও বলগার্ল। অফিসিয়াল রং গাঢ় সবুজ ও বেগুনি।
চলতি বছর উইম্বলডনের মোট প্রাইজমানি ১ কোটি ৪৬ লাখ পাউন্ড। পুরুষ ও মহিলা এককের চ্যাম্পিয়নরা ২০০৭ সাল থেকে সমান অর্থ পান। সে হিসাবে এ বছর পুরুষ ও মহিলা এককের চ্যাম্পিয়ন প্রত্যেকে পাবেন ১১ লাখ পাউন্ড প্রাইজমানি। বর্তমানে উইম্বলডন ওপেনের পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন নোভাক চেকোভিজ। মেয়েদের এককে ওপেন চ্যাম্পিয়ন পেত্রা কেভিতোভা।
ইউএস ওপেন
বছরের চতুর্থ ও শেষ গ্র্যান্ড স্লাম ইউএস ওপেন। ইউএস ওপেনকে বলা হয় আমেরিকার অভিজাত সম্প্রদায়ের জন্য অসাধারণ বিনোদন। প্রথমে এর নাম ছিল ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপ। পরে নাম পরিবর্তিত হয়ে করা হয় ইউএস ওপেন।
প্রথম আসর বসে ১৮৮১ সালে। প্রথম দিকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দেরই অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল। প্রতি বছর আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে হয় এ প্রতিযোগিতা। চলে দুই সপ্তাহ। প্রধান ইভেন্ট পাঁচটি। পুরুষ ও মহিলা একক। পুরুষ ও মহিলা দ্বৈত এবং মিশ্র দ্বৈত। এছাড়া সিনিয়র, জুনিয়র এবং হুইল চেয়ার ব্যবহার করতে হয় এমন প্রতিবন্ধীদের আলাদা প্রতিযোগিতা। ১৯৭৮ থেকে ইউএস ওপেনে ব্যবহার হচ্ছে অরসেলিক হার্ডকোর্ট।
১৮৮৪ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত অদ্ভুত একটা নিয়ম ছিল। সেটা হলো- শিরোপাধারী সরাসরি খেলতেন পরবর্তী ফাইনালে। ওপেন টুর্নামেন্টের শুরু ১৯৬৮ সালে। ইউএস ওপেনের পেশাদারিত্ব মূলত শুরু তখন থেকেই। পুরুষ এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাফায়েল নাদাল এবং মহিলায় কিম ক্লাইস্টার্স।

টেনিসে ক্যারিয়ার
খেলোয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া ছাড়াও সুযোগ রয়েছে টেনিস সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন কোচ, ফিটনেস ট্রেইনার, আম্পায়ার, রেফারি, টেনিস জার্নালিজম, ক্লাব ম্যানেজার হিসেবেও। ক্লাব ম্যানেজারের হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে সাংগঠনিক যোগ্যতা থাকতে হবে সবচেয়ে বেশি। কারণ তাঁর ওপরই ক্লাবের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। ক্লাব ম্যানেজারের কাজ হলো প্লানিং, কন্ট্রোলিং, স্টাফিং ও অর্গানাইজিং।

পড়াশোনা
বিশ্বের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিসের উপর গ্রাজুয়েট ডিগ্রি ও প্রফেশনাল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম কোর্সের অফার করে থাকে। বিদেশি ছাত্রদের জন্য হ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অফ সাইন্স ইন মার্কেটিং উইথ প্রফেশনাল টেনিস ম্যানেজমেন্টে ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ আছে। এছাড়া আমেরিকান মিলিটারি ইউনিভার্সিটি, ইলিয়ন ইউনিভার্সিটি, নর্থ ক্যরোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ফ্লোরিডা ও হস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যাচেলর ও প্রফেশনাল ডিগ্রি নেয়া যাবে।

বাংলাদেশে টেনিস
বাংলাদেশে অনেকটা সীমিত পরিসরেই এর চর্চা। কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে- কোর্ট ছাড়া সত্যিকার টেনিস চর্চা সম্ভব নয়। আর এই টেনিস চর্চার প্রধান উপকরণ বাংলাদেশে বড্ড অপ্রতুল। তাই স্কুলপর্যায়ে টেনিস চর্চা খুব কম; নেই বললেই চলে। মোট কথা বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে স্কুল-কলেজ এবং রাজধানী ঢাকার ক্লাব পর্যায়ে এ খেলার চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতা হয় না বললেই চলে।
তাই বর্তমানে বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের উদ্যোগই একমাত্র ভরসা। বাংলাদেশে এখন যে টেনিস চর্চা হয়, তা শতভাগ ফেডারেশনের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই। টেনিস ফেডারেশন সাধ্যমতো চেষ্টা করছে প্রচার-প্রসার বাড়াতে। কিন্তু সামর্থ বড্ড কম। বছরে যে সরকারি অনুদান মেলে তা দিয়ে সারা বছর ফেডারেশনের উদ্যোগে কোচিং আর টুর্নামেন্ট চালানো দায়। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক এ কথা অকপটেই স্বীকার করেছেন।
তার কথা, ‘আমাদের সীমিত সামর্থে এর চেয়ে ভালো কিছু করা কঠিন। সরকারি সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া এর সত্যিকার উন্নতি সম্ভব নয়।’
তার দেয়া তথ্য থেকেই জানা, ফেডারেশনের কোচিং প্রোগ্রামে অংশ নেয়া ছেলেমেয়ে আর বলবয় ও ফিডারদের মধ্য থেকেই খেলোয়াড় জন্ম নিচ্ছে। তারাও উন্নত প্রশিক্ষণের অভাবে বেশিদূর যেতে পারছে না। দেশে দক্ষ কোচ নেই। কেউ লেভেল ‘এ’ অতিক্রম করতে পারেননি।
তারপরও সারা বছর বয়সভিত্তিক কোচিং চলছে। এতে ছেলে ও মেয়ে মিলে ছয় গ্রুপে অন্তত ৩০০/৪০০ শিক্ষার্থী নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। কখনও কখনও ফেডারেশন নিজ প্রচেষ্টা ও খরচে মফস্বল জেলা শহরেও কোচিংয়ের ব্যবস্থা করে।

খেলার জায়গা
বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের রমনা টেনিস কমপ্লেক্সের কোর্টে খেলার নিয়ম সম্পর্কে ট্রেনিং সুপারভাইজার মো. নাজমুল হুদা জানান- নিজের নাম, পরিচয় লিখে আবেদনপত্র পূূরণ করে ৩০০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে হয় এখানে। মাসিক ফি ৩০০ টাকা। ভর্তির সময়ই এককালীন তিন মাসের ফি জমা দিতে হয়। সেই সঙ্গে পরিচয়পত্রের জন্য লাগে ৬০ টাকা। র‌্যাকেট ও বল সঙ্গে নিয়ে আসতে হয়। তবে ছোটদের খেলার জন্য টেনিস বল দেওয়া হয়।
পাঁচতারা হোটেল শেরাটনেও রয়েছে টেনিস খেলার ব্যবস্থা। ষাটের দশকে হোটেলের জন্মলগ্ন থেকেই রয়েছে টেনিস কোর্ট। রমনা টেনিস কমপ্লেক্সের মতো এখানেও সারা বছরই খেলা চলে। ঢাকা শেরাটন হোটেলের মার্কেটিং কমিউনিকেশন ম্যানেজার শাহিদাস সাদিক জানান, শেরাটন হোটেলের কোটে খেলার জন্য বার্ষিক কোর্ট ফি ২৫ হাজার টাকা। তবে বার্ষিক সদস্য না হয়েও টেনিস খেলা যায় এখানে। সে ক্ষেত্রে প্রতিবার খেলার জন্য সাড়ে ৭০০ টাকা কোর্ট ফি দিতে হয়। খেলার উপকরণের খরচ বাবদ দিতে হয় আরও ৫০০ টাকা। তবে পাঁচতারা এ হোটেলের অতিথিরা টেনিস খেলতে পারেন কোনো টাকা ছাড়াই।

যোগযোগ
Bangladesh Tennis Federation
National Tennis Complex
Ramna Green 1000 , Dhaka.
Tel.: +880 2 8626287
Fax: +880 2 9662711
mob: +8801717013059
E-mail: btf@bttb.net.bd

Career Intelligence on Youtube

About সম্পাদক

মো: বাকীবিল্লাহ। গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটাতে। থাকেন ঢাকার মতিঝিলে। পড়াশোনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে -- সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে অনার্স, মাস্টার্স । পরে এলএলবি করেছেন একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাঁর লেখালেখি মূলত: ক্যারিয়ার বিষয়ে। তারই সূত্র ধরে সম্পাদনা করছেন ক্যারিয়ার ইনটেলিজেন্স নামে এই ম্যাগাজিনটি। এছাড়া জিটিএফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে কর্মরত।